এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সভাপতির উদ্যোগেই কি অতীত তিক্ততা ভুলে তৃণমূলের ঘুম ওড়াতে ফের জুটি বাঁধছেন দুই পুরোনো ‘বন্ধু’?

সভাপতির উদ্যোগেই কি অতীত তিক্ততা ভুলে তৃণমূলের ঘুম ওড়াতে ফের জুটি বাঁধছেন দুই পুরোনো ‘বন্ধু’?

লোকসভা ভোটের আগে অতীতের মনকষাকষি ভুলে ফের একবার হাতে হাত রাখলেন কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান এবং বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। রাজ্যসভার ভোটের মরশুমে আসনবন্টন নিয়ে একটু মতবিরোধ হয়েছিলো বাম ও কংগ্রেস নেতার ভিতর। সেই সময় রাজ্যের শাসকদল কংগ্রেস প্রার্থী অভিষেক মনু সিংভিকে সমর্থন করলে বাম ও কংগ্রেস শিবিরের মধ্যে বিভেদের প্রাচীর চওড়া হয়। তবে সেই সাময়িক বিরোধ মিটেছে আবার। আর এর পিছনে গুরু দায়িত্ব নিয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচন পর্বে তৃণমূলের অবাধ সন্ত্রাস কর্মসূচি। দুই দলনেতাই প্রতক্ষ্য করছেন কীভাবে বিরোধীদের দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রশাসনের হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। কীভাবে হিংসার রাজনীতি চালিয়ে ঘাসফুল শিবির পঞ্চায়েতের আসনগুলো দখল করেছে। তাই এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হতেই বিধানসভার আসন্ন বাদল অধিবেশনকে সামনে রেখেই জুটি বেঁধেছেন মান্নান সাহেব এবং সুজন বাবু। জানা গেছে, এদিন একটা ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমেও তাঁদের মধ্যে একটকম সুলাহ্ হয়ে গেছে। তবে কেন এমনটা হলো তা নিয়ে সন্ধিহান রাজনৈতিকমহল তাঁদের ধারণা হঠাৎ করে এমনটা হয়নি এর পিছনে এই মধ্যস্থতায় কাজ করেছেন অধীরবাবু। কেননা একে একে তৃণমূল কংগ্রেসের সব বিধায়ককে নিজের দলে টেনে নিচ্ছে তাই ঘর বাঁচাতে সভাপতির উদ্যোগে এই মিলন ঘটলো। যদিও স্পষ্ট করে জানা যায়নি সবটাই জল্পনা।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

রাজনৈতিক সূত্রের খবর থেকে জানা গেছে, আগামী ২০ জুলাই শুরু হতে চলেছে বিধানসভার বাদল অধিবেশন। অধিবেশনের শুরুর পর্বেই দুই বিরোধীপক্ষ সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলার প্ল্যানও করে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। পঞ্চায়েত নির্বাচন পর্বে যেভাবে রাজ্যের শাসকদল গণতন্ত্রের মারণযজ্ঞ চালিয়েছে তার বিরুদ্ধে গর্জ উঠবেন তাঁরা। এই ইস্যুতে যৌথভাবে মুলতুবির পাশাপাশি বেসরকারি প্রস্তাব আনার কথাও ভাবছেন তাঁরা। পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে কাজ করতে গিয়ে রায়গঞ্জের শিক্ষকের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়েও কথা বলেন তাঁরা। কিছুদিন আগে মৃত পোলিং অফিসারের পরিবারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে শাসকদলের বিরুদ্ধে মান্নান সাহেব অভিযোগও তোলেন যে রাজকুমার রায়কে প্ল্যান করে হত্যা করা হয়েছে এবং দোষীদের শাস্তির দাবীতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও দেন এদিন।

তাঁর এই দাবীকে সমর্থন করেন বাম তরফের সুজন চক্রবর্তীও। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করেই বাদল অধিবেশনকে কাঁপিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। পঞ্চায়েত ভোটের পাশাপাশি চিটফান্ড কান্ডে শাসকদলের ভূমিকার উপরেও আলো ফেলার পরিকল্পনা তাঁদের। সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে চিটফান্ডের আমানতকারীরা তাঁদের লগ্নির টাকা এখনো ফেরত পাইনি বলেই অভিযোগ সুজন বাবুর। এদিন তিনি দলের বিধায়ক মানস মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টির তদারক করেও আসেন। এছাড়া রাজ্যে গ্রুপ ডি চাকরির পরীক্ষা ফল অনির্দিষ্ট কারণে এখনো অব্দি অপ্রকাশিত রাখার বিষয়ে রাজ্যসরকারকে সওয়াল করার প্ল্যান রয়েছে তাঁদের। এর পাশাপাশি আরে কিছু বিতর্কিত বিষয় নিয়ে যৌথ উদ্যেগে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করার ছক কষেছেন এই দুই বিরোধী পক্ষের দাপুটে নেতা।

Top
Close
error: Content is protected !!