এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > পুরসভায় একা পিকের উপর ভরসা নেই নেত্রীর? বড়সড় দায়িত্ব তৃণমূলের পাঁচ নেতাকে

পুরসভায় একা পিকের উপর ভরসা নেই নেত্রীর? বড়সড় দায়িত্ব তৃণমূলের পাঁচ নেতাকে

গত লোকসভা ভোটে অনেক আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ মত দলের রণকৌশলের দায়িত্ব প্রশান্ত কিশোরের কাঁধে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিজের টিমকে দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সমীক্ষা চালিয়ে কোন অঞ্চলে তৃণমূলের পরিস্থিতি কেমন, তা খোঁজ নিতে শুরু করেন প্রশান্ত কিশোর। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে দিদিকে বলো কর্মসূচি চালু করে তৃণমূলের সকলস্তরের নেতা, নেত্রীদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করাতে বাধ্য করেন ভোটগুরু।

অনেকে এই সময় প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলকে প্ল্যান দেওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় নিজের মস্তিষ্ককে কাজে লাগিয়ে বামেদের জগদ্দল সরকারকে সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা দেখিয়েছিলেন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদীয়মান রাজ্যের বিরোধী শক্তি বিজেপিকে এতটাই ভয় পাচ্ছেন যে, বাইরে থেকে তাকে মগজ ধার নিতে হচ্ছে! তবে নানা মহলে নানা সমালোচনার শিকার হওয়া সত্ত্বেও, প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মত দলকে পরিচালনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনেই পৌরসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই প্রশান্ত কিশোরের টিম নানা পৌরসভায় সমীক্ষা চালিয়ে কোথায় কাকে প্রার্থী করলে ভালো হয়, তা সাধারন মানুষের কাছ থেকে বোঝার চেষ্টা করেছেন। যা তৃনমূলকে আগামী পৌরসভা নির্বাচনে অনেকটাই মাইলেজ দেবে বলে মনে করছে একাংশ। তবে শুধুমাত্র যে প্রশান্ত কিশোরের উপরেই ভরসা রাখতে চাইছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা এবার তার একটি সিদ্ধান্তের জেরেই প্রমাণিত হয়ে গেল।

সূত্রের খবর, পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে প্রচার, সব ব্যাপারে এবার একটি কমিটি তৈরি করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। যার মূল দায়িত্বে রয়েছেন, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূল যুবর সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু যেখানে প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলের দায়িত্ব নিয়ে দলকে সাফল্য পাওয়ানোর জন্য চেষ্টা করছেন, সেখানে হঠাৎ দলের এই পাঁচ নেতাকে দিয়ে কমিটি কেন তৈরি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

সমালোচক মহলের একাংশ বলছেন, প্রশান্ত কিশোর পেশাদারী সংস্থা হিসেবে যতই তৃণমূলের হয়ে কাজ করুন না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে কিছুটা হলেও ভয় রয়েছে। কেননা অতীতে বিজেপির অনেক নেতাকে নির্বাচনী জয়যুক্ত করানোর জন্য এই প্রশান্ত কিশোর কাজ করেছেন। সেদিক থেকে পেশাদারী সংস্থার ব্যক্তিরা যে পেশাদারী ভাবেই কাজ করবেন, তা উপলব্ধি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই শুধুমাত্র প্রশান্ত কিশোরের উপরে ভরসা না রেখে এবার দলের পাঁচ নেতার ওপর দায়িত্ব দিয়ে পৌরসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।

অনেকে বলছেন, অতীতে মুকুল রায়ের উপর তৃণমূল চালানোর সমস্ত দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এরপরই মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদানের পর তৃণমূলের ভঙ্গুর দশা প্রকাশ্যে এসেছে। তাই সেদিক থেকে নির্বাচনী রণনীতিকার বলে পরিচিত প্রশান্ত কিশোর যদি তৃণমূলের সমস্ত দিকটা বুঝে যান, তাহলে সেই প্রশান্ত কিশোরও যদি মুকুল রায়ের মত কোনো পদক্ষেপ নেন, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপাল চাপড়ানো ছাড়া আর কোনো কাজ থাকবে না। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে প্রশান্ত কিশোরের পাশাপাশি দলের পাঁচ নেতার ওপর দায়িত্ব দিয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

কিন্তু তৃণমূল নেত্রী দলের পাঁচ নেতাকে দায়িত্ব দিলেও, তা নিয়েও দ্বন্দ্ব বাড়তে পারে বলে মত একাংশের। কেননা ঘাসফুল শিবিরকে সাফল্য পাইয়ে দেওয়ার জন্য যেদিন থেকে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর, সেদিন থেকে দলের কোনো নেতার মত না শুনে নিজের মতো করে কাজ করতে শুরু করেছেন তিনি। তাই সেদিক থেকে যদি এই পাঁচ নেতা নিজেদের মতো করে দলকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য বা সাফল্য পাওয়ার জন্য কোনো কাজ করেন এবং সেটা যদি প্রশান্ত কিশোরের মনঃপুত না হয়, তাহলে রণনীতিকার বনাম পাঁচ নেতার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়ে যেতে পারে। যা পৌরসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের জন্য খুব একটা সুখকর হবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন গোটা পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!