এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্মশতবর্ষ পালন বিধানসভায় – হুঁশ নেই কোনো মন্ত্রী-বিধায়কেরই!

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্মশতবর্ষ পালন বিধানসভায় – হুঁশ নেই কোনো মন্ত্রী-বিধায়কেরই!

1972 থেকে 1977 পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। 1920 র 20 এ অক্টোবর কলকাতার জন্মেছিলেন তিনি। সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের মন্ত্রিত্বেই পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কিতভাবে নকশাল আন্দোলন দমন করা হয়েছিল। তবুও প্রদেশ কংগ্রেসের ইতিহাসে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে অন্যতম। তাই তাঁর জন্মশতবর্ষ পালনের মধ্য দিয়ে দলীয় নেতারা তাঁদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন। কিন্তু তাঁর জন্ম শতবর্ষ পালনেও বিতর্ক উঠে এসেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্মশতবর্ষ পালনে দলীয় নেতারা ছাড়া আর কেউ বিধানসভার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হলেন না।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের জন্ম শতবর্ষ পালন হয়েছে রবিবার। আর সেদিন বিধানসভার অধ্যক্ষ ও কংগ্রেসের প্রতিনিধি ছাড়া আর কেউই এই অনুষ্ঠানে আসেননি। রবিবার ছিল ছুটির দিন আর সেদিনই বিধানসভার অলিন্দে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্মশতবর্ষ পালন হয়। এই অনুষ্ঠানে শাসকদল তৃণমূল থেকে বিরোধী দল বামফ্রন্ট বা বিজেপি কারোরই দেখা পাওয়া যায়নি। এদিন বিধানসভার অধ্যক্ষের নেতৃত্বে সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের পূর্ণাবয়ব প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।

রবিবার বিধানসভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্ম শতবর্ষ পালন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সব বিধায়ককেই অধ্যক্ষ বিমান বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এদিন এই কর্মসূচিতে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সহ কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা আব্দুল মান্নান, মুখ্য সচেতক মনোজ চক্রবর্তী, বিধায়ক অসিত মিত্র ছাড়া অন্য কোন বিধায়ক বা মন্ত্রীর দেখা মেলেনি। এদিন অধ্যক্ষ বিমান বন্দোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের পরিবার-পরিজনরা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।

এর আগেও আরেক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জন্ম শতবর্ষ পালন হয়েছিল বিধানসভায়। প্রাক্তন নেতার জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে কিন্তু কংগ্রেস ও তৃণমূল উভয়পক্ষই হাজির ছিল। কিন্তু এদিন কংগ্রেস নেতার জন্মশতবার্ষিকীতে কোন প্রতিনিধিকেই দেখা যায়নি।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শততম জন্মদিন উপলক্ষে দিনটির গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, জেনারেল নোটিশ মারফত বিধানসভার সব সদস্যকে এই অনুষ্ঠানের কথা জানানো সত্ত্বেও অনেকেই তাতে সাড়া দিলেন না। তবে মনে রাখতে হবে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় কিন্তু শুধু রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ছিলেন না, তিনি বিরোধী দলনেতাও ছিলেন।

শুধু তাই নয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর আমলে, পাঞ্জাবের রাজ্যপাল ও নরসিমা রাও এর জমানায় সিদ্ধার্থ শংকর রায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিনের অনুষ্ঠানে বিধানসভায় সিদ্ধার্থ বাবুর পরিবারের সদস্যরা যোগ দেওয়ায় স্বভাবতই খুশি হয়েছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্মরণে বিধানসভার অধ্যক্ষ কর্মসূচি নিলে তাতে পরিষদীয় দলগুলির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন, সেটাই প্রত্যাশিত।

কিন্তু রবিবারের ঘটনায় পরিষদীয় রাজনীতির পক্ষে দুর্ভাগ্যজনক বলে জানিয়েছেন বর্ষিয়ান কংগ্রেস নেতা মনোজ চক্রবর্তী। এদিন তিনি বলেন, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে অন্তিম শ্রদ্ধা জানাতে সিদ্ধার্থ বাবু বিধানসভায় এসেছিলেন। সিদ্ধার্থ বাবুর মৃত্যুর পর তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়ে শাসকদল যথেষ্ট তৎপরতা দেখিয়েছিল। অথচ তাঁর শততম জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে কেউ এলেন না। এদিন প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে দলের প্রয়াত নেতা সিদ্ধার্থ বাবুকে শ্রদ্ধা জানান প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্র, রাজ্যসভার সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্য্য, প্রাক্তন সাংসদ দেবপ্রসাদ রায় প্রমুখ।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, সময়ের সাথে সাথে রাজনৈতিকভাবে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এর বিষয়টি ক্রমশ কমে যাচ্ছে। একজন বর্ষীয়ান নেতার মৃত্যুবার্ষিকীকে কোন রকম আমল না দিয়ে পরিষদীয় দলনেতারা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তা মোটেই ভালো হলো না। রাজনীতির ঊর্ধ্বেও মানবতা। সেটা যদি কেউ ভুলে যায়, তাহলে রাজনীতির সঙ্গে সেই ব্যক্তির সম্পর্ক ত্যাগ করা উচিত। ঘটনা প্রসঙ্গে অবশ্য এখনো পর্যন্ত তৃণমূল, বিজেপি, বাম দলের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!