এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমান > এবার খোদ হেভিওয়েট মন্ত্রীর পাড়াতেই বিদ্যুৎচুরির বিস্ফোরক অভিযোগ, হইচই রাজ্য রাজনীতিতে

এবার খোদ হেভিওয়েট মন্ত্রীর পাড়াতেই বিদ্যুৎচুরির বিস্ফোরক অভিযোগ, হইচই রাজ্য রাজনীতিতে

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই বিদ্যুৎ হুকিং বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেইমতো রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরকে কড়া নির্দেশিকাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এক্ষেত্রে যেন এবার সর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে থাকার মতো ঘটনা ঘটল এরাজ্যে।

সূত্রের খবর, এবার পূর্বস্থলী 1 ব্লকের বিদ্যানগর গ্রামে খোদ মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের পাড়ায় হুকিং করে দোকানদারদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করার অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যাবসায়ীর বিরুদ্ধে। আর খোদ মন্ত্রীর গড়ে এহেন ঘটনায় এবার তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কেউ বা কারওর অভিযোগের ভিত্তিতে গত 6 ই ডিসেম্বর সমুদ্রগড় স্টেশন ম্যানেজারের অফিসের একটি টিম বিদ্যানগর গ্রামে ভিজিট করে। আর এরপরই সেইখানে তরুণ চৌধুরী নামে এক ব্যবসায়ীর কমার্শিয়াল সংযোগ খতিয়ে দেখেন সেই টিমের সদস্যরা। আর এরপরই তারা সেখানে বিদ্যুৎ হুকিংয়ের কিছু প্রমাণ পান।

আর এই ঘটনার পরই সেই ব্যবসায়ী তরুণ চৌধুরীর নামে থানায় একটি এফআইয়ার করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে 3 লক্ষ 13 হাজার টাকার জরিমানাও ধার্য করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই অভিযুক্ত তরুণ চৌধুরী কমার্শিয়াল সংযোগ নেওয়ার পর থেকেই এলাকার 15 জন দোকানদারকে তা সাপ্লাই করতেন।

আর এই হুকিং করে চুরি করা বিদ্যুৎ স্থানীয় দোকানদারদের সাপ্লাই করার বিনিময়ে প্রতি মাসে তাদের কাছ থেকে একটি মোটা টাকা আদায় করতেন এই তরুণ চৌধুরী। তবে শেষ পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ চুরির চক্রকে ধরে ফেলেন বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার সমুদ্রগড়ের স্টেশন কর্তারা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কিন্তু যেইখানে রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের মত ব্যক্তি রয়েছেন, সেইখানে কেন এইভাবে হুকিং চলছে? এদিন এই প্রসঙ্গে স্বপন দেবনাথ বলেন, “বিদ্যুৎ চুরি করলে নিয়মানুযায়ী শাস্তি পেতেই হবে। আইন আইনের পথেই চলবে।”

অন্যদিকে এই বিদ্যুৎ হুকিংয়ের কথা অস্বীকার করে অভিযুক্ত তরুণ চৌধুরীর বাবা রতন চৌধুরী এদিন বলেন, “আমরা কোনো রকম বিদ্যুৎ হুকিং করিনি। 6 ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার টিম যখন এখানে এসেছিল, তখন একটি তার এখানে পড়েছিল। আর তাই তারা সন্দেহের বশে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে এফআইয়ার করেছে। এখানে অনেকেই বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বন্টন সংস্থার লোকজন সেইসব না দেখে শুধু আমাদের বিরুদ্ধেই শাস্তিমুলক পদক্ষেপ গ্রহণ করল।”

এভাবে কতদিন আর প্রকাশ্যে বিদ্যুৎ হুকিং চলবে? এর বিরুদ্ধে কি তাহলে কোনো ব্যবস্থাই নেবে না প্রশাসন? এদিন এই প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার কালনার ডিভিশনের ম্যানেজার কৌশিক মন্ডল বলেন, “বিদ্যানগর গ্রামে কমার্শিয়াল সংযোগ নেওয়া এক গ্রাহক হুকিং করে বিদ্যুৎ সাপ্লাই করতেন। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরই এফআইআর করা হয়েছে।”

একই কথা বলে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সমুদ্রগড়ের স্টেশন ম্যানেজার শুভ্রশেখর দাসও। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ও কড়া নির্দেশিকার পরও খোদ রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের খাসতালুকে চলছে দেদার বিদ্যুৎ হুকিংয়ের কাজ।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!