এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > “পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের সর্বনাশ করে দেওয়ার” দায় এনার ঘাড়েই চাপালেন শুভেন্দু

“পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের সর্বনাশ করে দেওয়ার” দায় এনার ঘাড়েই চাপালেন শুভেন্দু

একসময় জঙ্গলমহলে তৃণমূলের অন্যতম আস্থা ভরসার নাম ছিল প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা বর্তমান বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষ। কিন্তু লোকসভা ভোটের আগেই সেই ভারতীদেবীর সাথে তৃণমূলের সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। এমনকি পরিস্থিতি এমন জায়গায় যায় যে, গত 2017 সালের ডিসেম্বর মাসে সেই পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের পদ থেকে ভারতী ঘোষকে সরিয়ে দেওয়া হলে তারপর সেখান থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন এই আইপিএস অফিসার।

লোকসভা নির্বাচনে এই ভারতী ঘোষই ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন।তবে তিনি ঘাটাল কেন্দ্রে জয়লাভ করতে না পারলেও জঙ্গলমহলে তৃণমূল এবারে খুব একটা ভালো ফল করতে পারেনি। আর এবার জঙ্গলমহলে দলের এই খারাপ ফলাফলের জন্য সেই প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ভারতী ঘোষকেই দায়ী করলেন সদ্য জঙ্গলমহলের দায়িত্ব পাওয়া তৃনমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সূত্রের খবর, সোমবার মেদিনীপুরে তৃণমূলের এক বৈঠকে উপস্থিত হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী তিনি এই জেলায় দলের মূল সর্বনাশটা করে গিয়েছেন। আমাদের দলের নেতাদের তাকে মা বলতে হত। তিনি এই জেলায় শুভেন্দু অধিকারীর আসাকে দিয়েছিলেন। আমি এলে তাকে টাকা তুলতে দেখে সেটা নেত্রীকে বলে দেব, তাই আমার আসাতে তিনি বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।”

আর এরপরই একের পর এক উদাহরণ তুলে ধরে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেই ভারতী ঘোষ তৃণমূলের নেতাদের ভয় দেখিয়ে আটকে রাখতেন বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু বাবু।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

তিনি বলেন, “নেপাল সিংহ ওনার এলাকায় জয়পুরের একটা স্কুলে আমাকে ডেকেছিল। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আর সম্পাদককে ডেকে বলা হয়েছে যে শুভেন্দুকে কেন ডাকা হবে! শালবনির একটা ক্লাবের সম্পাদককে বলা হয়েছে শুভেন্দুকে কেন ডাকা হবে! মেদিনীপুরের কাউন্সিলর বিদ্যাসাগরের মূর্তি বসাবে বলে আমাকে শিক্ষক দিবসে ডেকেছিল। কোতোয়ালি থানার আইসি ওই অনুষ্ঠানের তার কেটে দিয়েছিল। আমি কিন্তু আমার জায়গাতেই রয়েছি। আমার মাথা উঁচু রয়েছে।”

আর এরপরই দলের একাংশকে বিশ্বাসঘাতক, গদ্দার বলে কটাক্ষ করে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিশ্বাসঘাতক, বেইমান, গদ্দাররা সরকারের ভালো সময় মধু খেয়ে সময়মত তৃণমূল ও আমাদের নেত্রীকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিয়েছে। ছাত্র রাজনীতিতে লড়াই আন্দোলন করতে করতেই আমরা উঠে এসেছি। তাই পুরনো কর্মীদের ছেড়ে আমরা কখনই কোথাও যাব না।”

এদিকে তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মেদিনীপুরের খারাপ ফলাফলের জন্য ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষকে দায়ী করায় পাল্টা এই ব্যাপারে মুখ খুলেছেন সেই ভারতীদেবী। এদিন তিনি বলেন, “ভারতী ঘোষ কখনও তৃণমূলের দায়িত্বে ছিলেন না। ভারতী ঘোষ যে দায়িত্ব নেন সেখানে 100 শতাংশ সফল হন। শুভেন্দু অধিকারী আমাকে নিয়ে যেসব কথা বলছেন, তা শুনে আমার সত্যিই হাসি পাচ্ছে। খুব দুর্বল মনের মানুষই এই ধরনের কথা বলেন।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিম মেদিনীপুরের খারাপ ফলাফলের জন্য তৃণমূল ঘনিষ্ঠ তথা বর্তমানে বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষকে শুভেন্দু অধিকারী দায়ী করলেও কেন দলের শীর্ষনেতৃত্ব ভারতীদেবীর ওপরই সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে বিজেপির ভারতী বনাম তৃণমূলের শুভেন্দুর লড়াইয়ে এখন জমজমাট মেদিনীপুর।

Top
error: Content is protected !!