এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পরিবেশ দূষণ মাথাব‍্যথার কারণ নয় সাংসদের- সমালোচনার ঝড় সব মহলেই

পরিবেশ দূষণ মাথাব‍্যথার কারণ নয় সাংসদের- সমালোচনার ঝড় সব মহলেই



পরিবেশ দূষণ এখন আমাদের কাছে এক ভয়ঙ্কর নাম। দূষণের মাত্রা দিন দিন আমাদের পরিবেশে এতটাই বেড়ে উঠছে, যাতে পরবর্তীকালে শ্বাস নেওয়া দুষ্কর হবে বলে মনে করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। এ বছরই দেখা গেছে, দিল্লিতে দূষণের মাত্রা সমস্ত বিধি-নিষেধ পেরিয়ে গেছে। শ্বাস নিতেও কষ্ট সেখানে‌। দিল্লি শুধুমাত্র একটা উদাহরণ। কার্যত গোটা দেশেই পরিবেশ দূষণের মাত্রা বিনাবাধায় নিত্যদিন বেড়ে চলেছে। এই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সংসদে দূষণ নিয়ে একটি বিতর্ক সভার আয়োজন করা হয়েছিল‌। আর সেখানেই সাংসদ হেমা মালিনীর বক্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা।

বৃহস্পতিবার সংসদে দূষণ নিয়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছিলেন হেমা মালিনী। আর সেখানেই তিনি এমন একটি মন্তব্য করলেন যা নিয়ে পরিবেশ বিজ্ঞানী থেকে রাজনৈতিক নেতা প্রত্যেকেই তুমুল সমালোচনা করলেন তার। যদিও শেষমেষ তিনি এই বিতর্ক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার আগেই পরিবেশ দূষণ নিয়ে বিতর্ক সভায় তিনি বলেন, “যাঁরা দিল্লিতে থাকেন দূষণে তিতিবিরক্ত। তাঁরাই বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। এটা বড় কারণ বুঝতে পারছি। তবে আমার মত যাঁরা মুম্বাইতে থাকেন, তাঁদের কাছে দূষণটা সমস্যা নয়। তাই আমাদের দূষণ নিয়ে বড় একটা আগ্রহ নেই।”

খুব স্বাভাবিক ভাবেই দিল্লির দূষণ মাত্রা সমস্ত পরিমাপ ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে বাণিজ্য নগরী মুম্বাইতে দূষণের মাত্রা এতটা নেই। কিন্তু তা হলেও সারা দেশেই দূষণের মাত্রা কমবেশি আছে। সে জায়গায় দাঁড়িয়ে একজন সাংসদ কিভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে দূষণের ব্যাপারটিকে এড়িয়ে যেতে পারেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তার ওপরে হেমামালিনি হচ্ছেন নগর উন্নয়ন সংসদ কমিটির মেম্বার এবং উল্লেখযোগ্যভাবে এই কমিটি দূষণের মতন নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করে।হেমা মালিনীর এই বক্তব্য সামনে আসার পরই তার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সব মহলেই।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সংসদে হেমা মালিনী বৃন্দাবন, মথুরার বাঁদরদের সমস্যা নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি জানান, বাঁদররা নাকি ক্রমশ মানুষের খাদ্যাভাস গ্রহণ করে নিচ্ছে। বর্তমানে ফলমূল ছেড়ে সিঙ্গারা, ফ্রুটি খাচ্ছে তাঁরা। বর্তমানে বাঁদরদের নিরাপত্তার জন্য তিনি মথুরায় ‘মাংকি সাফারি’ চালু করার দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তাকে সমর্থন করেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীতে দূষণ এতটাই মাত্রা ছাড়া ভাবে বেড়ে গেছে যে, কোন প্রাণী, কোন মানুষ তা থেকে বাঁচতে পারবে না। আর এই দূষণের মাত্রা দেশের মেট্রো শহরগুলিতে মাত্রাতিরিক্ত বেশি। তাই সবার আগে এখন প্রয়োজন দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা। সচেতনতার অভাবেই দূষণ এতটা মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে বলে দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। কিন্তু সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক নেতা অনেকের মধ্যেই দূষণকে ঠেকানোর জন্য ন্যূনতম আগ্রহ দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার সংসদে তা প্রমাণ করলেন সাংসদ হেমা মালিনী। সামনের ভয়ঙ্কর দিন এড়াতে গেলে এই মুহূর্তে পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা ভীষণ ভীষণ জরুরী বলে দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!