এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > পরিবর্তনের আঁতুড়ঘড়েই কি ‘আবার’ পরিবর্তনের জোরালো হাওয়া? জল্পনা তুঙ্গে

পরিবর্তনের আঁতুড়ঘড়েই কি ‘আবার’ পরিবর্তনের জোরালো হাওয়া? জল্পনা তুঙ্গে

রাজ্যে বাম সরকারকে সরাতে মেদিনীপুরের মাটিকেই বেশি ভরসা করেছিলেন বর্তমান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফল্যও এসেছিল। এবার তাহলে কি সেই আন্দোলনের সাক্ষী পূর্ব মেদিনীপুরের সেই নন্দীগ্রামে বইতে শুরু করেছে ‘গেরুয়া–হাওয়া’? আর এই নিয়েই রাজনৈতিকমহলে উঠেছে প্রশ্ন। কেন এমন প্রশ্ন উঠলো হঠাৎ ? নৈপথ্যে রয়েছে এদিনের অমিত শাহের সভা।

জানা গেছে, শনিবার কলকাতায় মেয়ো রোডে বিজেপি যুব মোর্চার সভায় যে ভিড়় হয়েছিল তার সিংহভাগ জুড়েই নাকি ছিলেন এই পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষ।  বিজেপির দাবি, এই জেলা থেকে প্রচুর মানুষ সেদিনের সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। সূত্রের খবর, নন্দীগ্রামের 11 টি, তমলুকের ময়না থেকেও সত্তরটি, ভগবানপুর, পটাশপুর, চন্ডীপুর, নন্দকুমার থেকে বাসে চেপে প্রচুর সমর্থক সেদিন কলকাতায় অমিত শাহের সভায় যোগ দিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে বিজেপির তমলুক জেলা সাংগঠনিক সভাপতি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, “দুটি মহকুমা থেকে তিনশ বাস দেওয়া হয়েছিল। প্রায় তেইশ হাজার কর্মী সেই সভায় গিয়েছিলেন।”

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে।

খোদ পরিবহণ মন্ত্রীর জেলা এবং ‘পরিবর্তনের আঁতুড় ঘর’ নন্দীগ্রাম থেকে যে ভাবে বিজেপির যুব মোর্চার সভায় লোকজন অংশ নিয়েছে তাতে রাজনৈতিকমহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।  তবে যেখান থেকে তৃনমৃল কংগ্রেস 34 বছরের বাম শাসনকে সরিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে সেই মেদিনীপুর থেকেই কোলকাতার বিজেপির সভায় এত লোক যোগ দিতে এলেন কী ভাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে। নন্দীগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেঘনাদ পালের অবশ্য দাবি, ‘‘এখান থেকে ফাঁকা ফাঁকা বাস গিয়েছে। কোনও লোক তেমন ছিল না।’’ এদিকে, দলীয় কর্মসূচি থেকে ফিরে আসা এক বিজেপি কর্মী তথা ভেকুটিয়ার বাসিন্দা রবীন ভুঁইয়া বলেন, ‘‘অতীতে সিপিএম এবং তারপর তৃণমূল নানা ভাবে অত্যাচার করেছে। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় মানুষ এ বার প্রতিবাদ করতে বাধ্য হচ্ছে।’’

এদিকে শনিবারের সভায় কলকাতায় কত লোক গিয়েছিল, সে ব্যাপারে গোয়েন্দারা জেলা পুলিশের কাছে একটি রিপোর্ট জমা করলেও তবে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি  জেলার পুলিশ সুপার ভি সলোমন নেসা কুমার। এদিকে জেলা থেকে এত লোক যাওয়া প্রসঙ্গে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রদীপ দাস বলেন, ‘‘মানুষ ভয়কে সরিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে। এরপর বাধা দিলে প্রতিশোধ নিতে কেউ পিছপা হবে না।’’ অন্যদিকে নির্বাচনে জনমত দেওয়ার সুযোগ পেলে, সাধারণ মানুষই বুঝিয়ে দেবে বলে এদিন মত প্রকাশ করেছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি। ওখানে আমাদেরও হাজার হাজার সমর্থক রয়েছে।

তবে তৃনমূলের গড় পূর্ব মেদিনীপুর থেকে বিজেপি সভায় এত লোক সমাগম নিয়ে কাঁথির সাংসদ ও জেলা তৃণমূল  সভাপতি শিশির অধিকারী বলেন, ‘‘সবই সিপিএমের লোকেরা গিয়েছিল। আমরা রিপোর্ট খতিয়ে দেখছি। তৃনমূলের জনসমর্থন ক্রমশ বাড়ছে। তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।’’ এদিকে কলকাতায় অমিত শাহর সভায় যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁদের উপরে হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, খোদ পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক এবং শাসকদলের আতুড়ঘরে বিজেপির এহেন দাপাদাপি নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তৃনমূলের নেতারা। তাহলে কি তৃনমূল যেমন বামদের বিরুদ্ধে লড়ে এই জেলা থেকে পরিবর্তন ঘটিয়েছিল রাজ্যে, সেই একই পন্থা অবলম্বন করে এবার কি রাজ্যের শাসকদল তৃনমূল কংগ্রেকে চাপে ফেলতে চাইছে বিজেপি! প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।

 

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!