এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তৃণমূলের “বিরুদ্ধে” কাজ করছে পুলিশের একাংশ! ক্ষোভে ফুটছেন মুখ্যমন্ত্রী!

তৃণমূলের “বিরুদ্ধে” কাজ করছে পুলিশের একাংশ! ক্ষোভে ফুটছেন মুখ্যমন্ত্রী!

তিনি রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী। কিন্তু একাধারে তিনি আবার তৃণমূল দলের প্রধানও। ফলে একদিকে দল আর অন্যদিকে প্রশাসনকে চালাতে হয়। এতদিন দলমত নির্বিশেষে যারা অন্যায় করবে, তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে বলে প্রকাশ্যে প্রশাসনকে জানাতে দেখা গিয়েছিল সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু এবার শুধুমাত্র তার দলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অতিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ প্রকাশ্যে আনলেন তিনি।

সূত্রের খবর, বুধবার ডেবরায় পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর প্রথমেই এদিনের এই প্রশাসনিক বৈঠককে রুটিন বৈঠক থেকে বের করে এনে কিছুটা অন্য ধাঁচে শুরু করেন। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন যে, এতদিন তিনি জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সমস্ত কাজের খতিয়ান নিলেও তার কাছে যে আলাদাভাবে সমস্ত অভাব অভিযোগ জমা পড়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রশাসনের কাছ থেকে জবাব চাইবেন।

যার পরেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ উগরে দিয়ে পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একটা জিনিস দেখছি আমাদের পার্টির ছেলেদের নামে এফআইআর হলেই অ্যারেস্ট করা হচ্ছে। কিন্তু অন্য পার্টির গুন্ডামি আর বদমাইশির অভিযোগ এলে পুলিশ ব্যালেন্স করছে। এটা কি? টোটোতে, অটোতে কি সিম্বল লাগিয়ে ঘুরছে? টিএমসি কি খুব সহজলভ্য! তাকে ধরা যায়, ছোঁয়া যায়! দেখবেন বাংলা যেন বিকিয়ে না যায়।”

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এরপর ঝাড়গ্রাম জেলায় পুলিশ সংক্রান্ত তিনি 26 টি সমস্যার কথা জানতে পেরেছেন বলে ঝাড়গাম থানার আইসিকে দাঁড় করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ঝাড়গ্রাম তো হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখানে আপনি কতদিন রয়েছেন!” উত্তরে সেই পুলিশকর্তা কিছুটা থতমত খেয়ে বলেন, “এক বছরের কিছু বেশি সময়।” আর এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনাকে তো কাজ করতে পাঠানো হয়েছে। আপনি তো শুধুমাত্র অকাজই করে চলেছেন। এক বছর ধরে নজর রাখার পর এটা বললাম। এবার বসুন।”

এদিকে পুলিশের এহেন গাঢিলেমি ভাব যে তিনি বরদাস্ত করবেন না, তা মঞ্চে উপস্থিত ডিজি বীরেন্দ্রকে জানিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইন-শৃংখলার পর এবার মুখ্যমন্ত্রীর রোষানলে পড়তে দেখা যায় পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের। এই জেলায় সড়ক ব্যবস্থার ব্যাপারে তার কাছে মোট 806 টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “গতকাল ঘাটালে যে রাস্তা দিয়ে গেলাম, সেটার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। আমি আসার আগে প্যাচওয়ার্ক করা হয়েছে। পূর্ত দপ্তরের কাজ নিয়ে অনেক অভিযোগ আসছে।” আর এরপরই পূর্ত দপ্তরের প্রধান সচিব অর্ণব রায়ের খোঁজ করলে তিনি না আসার জন্য সেই দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফকে কার্যত স্পষ্টভাষায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন যে, তিনি রাস্তাঘাটের কাজে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করবেন না।

কিন্তু এদিন ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে পুলিশ মন্ত্রী হয়ে সেই পুলিশের সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর এহেন বিস্ফোরক উক্তি ঘাম ঝরিয়ে দিচ্ছে জেলার পুলিশ মহলের। সমালোচকদের একাংশ বলছেন, খোদ পুলিশ মন্ত্রী যখন তার দলের ছেলেপেলেদের পরোক্ষে না ধরার ব্যাপারে পুলিশকে সতর্ক করছেন, তখন অনিয়ম করা সত্ত্বেও সেই তৃণমূলের ছেলেপুলেদের আর ধরার সাহস দেখাবে কিনা পুলিশ! তা নিয়ে একটা বড় প্রশ্ন তৈরি হয়ে গেল।

আপনার মতামত জানান -
Top