এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > “পুলিশ আর কথা শুনছে না!” মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রী

“পুলিশ আর কথা শুনছে না!” মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রী

কথায় আছে, শাসকের ক্ষমতায় যে আসে, পুলিশ তার হয়ে যায়। সে বিগত বাম আমল হোক কিংবা বর্তমান তৃণমূল আমল – তাই প্রতিটা সময়ই শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে বলে অভিযোগ তুলতে দেখা যেত বিরোধীদের। কিন্তু এবার লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে শাসক দল তৃণমূলের ভরাডুবি এবং বিজেপির প্রবল উত্থানের পর সেই পুলিশ প্রশাসন তাদের ঠিকমতো কথাই শুনছে না বলে দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানালেন রাজ্যের হেভিওয়েট শাসকদলের মন্ত্রীরা।

সূত্রের খবর, সোমবার নবান্নের সভাগৃহে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ব্যাপারে বিভিন্ন অভিযোগ জানিয়েছেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা। জানা গেছে, সন্দেশখালি ঘটনার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে এদিন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “বলতে বাধ্য হচ্ছি, পুলিশ কোথাও ব্যবস্থা নিতে ভয় পাচ্ছে। এত ভয় কিসের!”

এদিকে একই সুরে দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জানিয়ে পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনি নিচুতলার কর্মীদের জন্য এত করেন, অথচ ওরা এখন কথাই শুনছে না।” অন্যদিকে সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী এবং তার ফোনে জয় শ্রীরাম মেসেজ আসলেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে এদিনের বৈঠকে সরব হন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

আর এরপরই এই বৈঠকে উপস্থিত রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনি এত ভদ্র মানুষ হলে চলবে না। একটু কড়া হন। যেভাবেই হোক, পরিস্থিতি শোধরাতে হবে। যারা অন্যের কথা শুনে ঠিকঠাক কাজ করছে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনোভাবেই এসব বরদাস্ত করা হবে না।”

অন্যদিকে এদিন নিজের কথায় আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশের ওপর যে তিনি প্রবল অসন্তুষ্ট, তাও বুঝিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এরপরই কিছু পুলিশকর্তাদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা ব্যালেন্স করে চলছেন। আমাকে কিন্তু রাগাবেন না। রাজ্যে বিজেপি অশান্তি করবে, আর আপনারা দায় এড়াবেন, এটা কি করে ভাবছেন! ভুলে যাবেন না রাজ্যে শান্তি বজায় রাখাই আপনাদের দায়িত্ব।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই কিছু জায়গায় পুলিশ প্রশাসন কিছুটা নিরপেক্ষভাবে কাজ করায় বিপাকে পড়েছেন তৃণমূল। আর তাইতো এদিনের বৈঠকে দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রিরা অভিযোগ করে সেই পুলিশ প্রশাসন তাদের কথা শুনছে না বলে সরব হলেন।

বিরোধীদের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনকে নিজের ভাবতে ভাবতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন যে ওনার কেনা গোলাম নয়, তা এবার রাজ্যের কিছু জায়গায় সাহসী পুলিশদের আচরনেই উনি বুঝতে পেরেছেন। আর তাইতো এখন চাপে পড়ে পুলিশের উদ্দেশ্যে হুঙ্কার ছাড়তে দেখা যাচ্ছে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে।

এদিকে এদিনের প্রশাসনিক রিভিউ মিটিংয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্তও নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গেছে, সরকারি পরিষেবার টাকা সমবায় ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছোনোর গোটা প্রক্রিয়াটি তিনি মুখ্যসচিব মলয় দে কে দেখবার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে এদিন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে জঙ্গলমহলের 145 টি প্রাথমিক স্কুলের 290 জন সাঁওতালি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক রিভিউ মিটিংয়ের ব্যাপারে নানা সিদ্ধান্ত নিলেও পুলিশ প্রশাসন তাদের কথা শুনছে না বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে করা রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রীদের অভিযোগই নজর কাড়ল সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!