এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > একের পর এক জায়গায় আক্রান্ত পুলিশ, অথচ অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস? “যোগ্যতা” নিয়েই উঠছে প্রশ্ন

একের পর এক জায়গায় আক্রান্ত পুলিশ, অথচ অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস? “যোগ্যতা” নিয়েই উঠছে প্রশ্ন

রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের মেরুদন্ড নেই বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে রাজ্যের বর্তমান প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি। সিপিএম ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও মাঝেমধ্যে অভিযোগ করতে দেখা যাচ্ছে যে, যে পুলিশ প্রশাসনের মাথা উঁচু করে চলার কথা, সেই পুলিশ প্রশাসনই এখন দুষ্কৃতীদের দাপটে টেবিলের তলায় লুকিয়ে থাকে। কিন্তু বরাবরই বিরোধীদের এই সমস্ত অভিযোগ খন্ডন করতে দেখা গেছে শাসকপক্ষ তৃণমূলকে।

তবে সাম্প্রতিককালে বেশকিছু ঘটনায় পুলিশের ব্যর্থতা সেই বিরোধীদের প্রশ্নতেই বেশি করে সীলমোহর দিতে চলেছে। রেড রোডে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বায়ুসেনা অফিসারের মৃত্যু, ট্যাংরায় দুষ্কৃতী তাণ্ডবে পুলিশের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এবং গিরিশ পার্কে পুলিশ অফিসারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় লালবাজারের ব্যর্থতা সামনে আসতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, এই তিনটি ঘটনাতেই অভিযুক্তদের অনেকেই বেকুসুর খালাস হয়ে গিয়েছেন। যার ফলে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, যে লালবাজারের ফাইল ঘাটলে কঠিন রহস্যের সমাধান করেছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা বলে জানা যেত, সেই লালবাজারের এখন এমন দশা কেন! অনেকে বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব থাকার কারণেই পুলিশের এহেন ব্যর্থতার ঘটনা সামনে আসছে।

কেননা বর্তমানে পুলিশ নিজেদের মতো করে চলা অপেক্ষা রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের কথা শুনে চলতেই বেশি পছন্দ করেন। ফলে সেক্ষেত্রে প্রমোশন বাড়ার চিন্তাভাবনা পুলিশকর্তাদের মনে থাকলেও এবং শেষ পর্যন্ত তা হয়ে গেলেও অপরাধীরা ছাড়া পাওয়ায় দুর্গত মানুষদের পুলিশের প্রতি অবিশ্বাস দিনকে দিন বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই পুলিশের এই ব্যর্থতা নিয়ে অতীতের কিছু ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

বস্তুত, গত 2015 সালে পৌরসভা নির্বাচনের সময় জগন্নাথ মন্ডল নামে এক পুলিশ অফিসার গুলিবিদ্ধ হলেও তৎকালীন পুলিশ কমিশনার সাংবাদিক বৈঠকে বেমালুম “তিনি এসবের কিছুই জানেন না” বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত এই ঘটনায় মধ্য কলকাতার এক নেতার নাম উঠে গেলেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

এদিন এই প্রসঙ্গে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার প্রসূন মুখোপাধ্যায় বলেন, “যখন দেখি উর্দিধারী পুলিশকর্মীরা আক্রান্ত হলেও সাজা হয় না, তখন খারাপ লাগে। হয়ত তদন্তের উপর নজরদারি ঠিকঠাক চললে অন্যরকম রায় পাওয়া যেত।” এদিকে এই প্রসঙ্গে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন আইজি পঙ্কজ দত্ত বলেন, “এই মামলার রায় প্রমাণ করে তদন্তকারী অফিসার এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের কাজে ঘাটতি ছিল।”

যদিও বা রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বা প্রভাবশালীদের ছাড় দেওয়ার তথ্য মানতে নারাজ পুলিশ কর্তারা। তাদের দাবি, আইন আইনের পথেই চলছে। দোষীদের কেউ রেহাই পাবে না। তবে পুলিশ কর্তারা যাই বলুন না কেন, বিভিন্ন ঘটনায় যেভাবে অভিযুক্তরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন এবং পুলিশের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবের যোগ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আদৌ আইন আইনের পথে চলে কিনা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!