এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিসের আবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী? জেনে নিন বিস্তারিত

প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিসের আবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী? জেনে নিন বিস্তারিত

সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নানা কুমন্তব্য করেছিলেন। যার পরে অনেকেই মনে করেছিল, হয়ত বা আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কোনোরূপ আলোচনাই হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আর তাই তো একসময় তিনি কোমরে দড়ি পড়াবেন বলে মন্তব্য করলেও এবার রাজ্যের দাবি নিয়ে সেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই দেখা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের পাওনা সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা চাইলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বীরভূমের কয়লা ব্লক দেউচা পাচামির উদ্বোধনেও প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানালেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই বৈঠকে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেও বিষয়টি নিয়ে যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে অনুরোধ জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি এই বৈঠকে বছরে ৫৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ মেটানোর পরেও পশ্চিমবঙ্গে গত আট বছরে ঠিক কতটা উন্নয়ন হয়েছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একটি রিপোর্ট দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আশ্চর্যজনকভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করার পরে যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে সময় দেন, তাহলে তিনি তার সঙ্গেও দেখা করবেন বলে দিল্লির মাটি থেকে জানিয়ে দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়েছে জল্পনা।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বাইরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দিল্লি এলে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করি। তাই আগামীকাল আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে সময় চেয়েছি।” কিন্তু যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ে একচুল জমি ছাড়েন না, সেই তিনি হঠাৎ করেই কেন রাজনীতিতে তাঁর প্রবল বিরোধী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন তা নিয়ে কিন্তু ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়ে গিয়েছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

৩৭০ থেকে এনআরসি, প্রায় প্রতিটি ইস্যুতেই মোদি সরকারের কঠোরতম সমালোচক, সংসদের অন্দরে ও বাইরে তৃণমূলই। সিবিআইকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে মমতা লাগাতার আক্রমণ করেছেন মোদি সরকারকে। রাজনৈতিকভাবেও রা‌‌জ্য বিজেপি নয়, মমতা বরাবর তীক্ষ্ম আক্রমণ করেছেন মোদি এবং অমিত শাহকেই। এদিন এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে স্বাভাবিক নিয়মেই বৈঠক হয়েছে। তবে কিছু রাজনৈতিক কথাবার্তাও এসেছে।”

আর এইখানেই প্রশ্ন, দুই দলের প্রধানের মধ্যে ঠিক কী কী রাজনৈতিক আলোচনা হল! তাহলে কি বামেদের সেই অভিযোগকে শক্তি করেই নরেন্দ্র মোদি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করলেন! বিরোধীদের দাবি, রাজীবকুমার-সিবিআই এপিসোড যখন ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছেছে, তখন মমতা-মোদির এই বৈঠক নিঃসন্দেহে সন্দেহজনক। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরন ইস্যুতে সম্প্রতি কলকাতার রাজপথে হেঁটে তৃণমূল নেত্রী বিজেপির সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেও এদিনের বৈঠকে কি সেই এনআরসি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে?

এদিন এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। হওয়ার কথাও ছিল না। গোড়াতেই আপনারা ভুল করছেন। একটি বিশেষ চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে কেবলমাত্র অসমের জন্য‌ই এনআরসি হয়েছে। তাই বিজেপির কে কী বলছে, তা নিয়ে আমি কোনও জবাব দেব না। বাংলায় এনআরসির কোনও প্রস্তাব নেই। হবেও না। হতে দেব না।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, তিনি আর বেঁচে নেই, কিন্তু তার কথাই হয়ত বা সত্যি হল। দেশের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রয়াত সুষমা স্বরাজ একবার বলেছিলেন, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এত মোদির বিরোধিতা করছেন, সেই মোদির কাছেই একদিন উন্নয়নের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আসতে হবে।

আর সেই সমস্ত বাক্যকে সত্যি করে মোদীর তীব্র বিরোধিতা করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন হঠাৎ দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বাইরে বেরিয়ে এসে বললেন “খুব ভালো আলোচনা হয়েছে” তা নিয়ে বিভিন্ন মহলেই শুরু হয়েছে জল্পনা। কিন্তু রাজ্যের নাম বাংলা করা নিয়ে ঠিক কী সিদ্ধান্ত হল! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই বেপারেও কিছুটা নমনীয় সুর দেখা গেল বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, “বাংলা নামটা রেখে যদি অন্য কিছু সংশোধন বা সংযুক্ত করা হয় তাহলেও আমাদের আপত্তি নেই বলে জানিয়েছি।” সব মিলিয়ে আড়াই বছর পর একে অপরের প্রবল বিরোধী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন।যদিও বিরোধীদের এখনো দাবি সারদা থেকে বাঁচতেই দেখা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

 

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!