এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পেট্রোল-ডিজেলের পর এবার ধাক্কা লাগল কেরোসিনের দামেও,নিষ্কৃতি নেই রেশনেও!

পেট্রোল-ডিজেলের পর এবার ধাক্কা লাগল কেরোসিনের দামেও,নিষ্কৃতি নেই রেশনেও!

পেট্রোল-ডিজেলের পর এবার মূল্যবৃদ্ধির শিকার কেরোসিনও। চোখে সরষে ফুল দেখছে আমজনতা। দফায় দফায় পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য দেশ জুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ কম হয় কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে। দাম হ্রাস পাওয়া তো দূরের কথা, এবার রেশনের কেরোসিন তেলকেও রেহাই দিল না কেন্দ্র। কীভাবে মূল্যবৃদ্ধি সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিন গুজরান হবে,তা ভেবেই মাথায় হাত পড়েছে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে দৈনিক খেটে খাওয়া মানুষগুলোর। কোলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায় লিটার প্রতি কোরোসিনের দাম হয়েছে ২৯ -৩২ টাকার মধ্যে। ২০০৪ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে কেরোসিনের দাম ছিল লিটার পিছু ৯টাকা। বর্তমানে বিজেপি সরকারের আমলে প্রতিমাসে দু’দফায় জিএসটি সহ মোট ৫৫ পয়সা করে দাম বাড়ছে জ্বালানি তেলের।

এর পাশাপাশি কেরোসিন বন্টনের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। ডিলারদের অধীনে যত সংখ্যক কাগজের কার্ড রয়েছে সেই অনুযায়ী তেল বরাদ্দ করা হচ্ছে না। তাছাড়া নতুন ডিজিট্যাল কার্ডধারীদের বরাদ্দও বাড়ানো হচ্ছে না। এতেও অসন্তোষ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। কাগজের কার্ডের বরাদ্দ বন্ধ করা হলেও কাদের বাদ দেওয়া হবে,তার কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। ফলত গ্রাহক মাত্র দেড়শ মিলিলিটার কেরোসিন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উল্লেখ্য,গত বছর থেকে রাজ্যে কেরোসিন বন্টন নীতি চালু হয়েছে আলিপুরদুয়ার ও ঝাড়গ্রাম সহ আরো নটি জেলার বেশ কিছু এলাকায় প্রায় ১ কোটি ১২ লক্ষ গ্রাহকরা মাথাপিছু এক লিটার করে কেরোসিন পাচ্ছেন।

এর পাশাপাশি ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে মাসে মাথাপিছু ৬৫০ মিলিলিটার করে কোরোসিন পাচ্ছে গ্রাহক রা। আর কাগজের রেশন কার্ডের জন্য বরাদ্দ রয়েছে দেড়শ মিলিলিটার কেরোসিন তেল। কিন্তু এই প্রাপ্য তেল টুকু ঠিকঠাক ভাবে না বন্টনে সমস্যা হওয়ায় এ নিয়ে মামলা করা হয়েছে বলেই জানালেন ডিলার সংগঠনের সাধারন সম্পাদক অশোক গুপ্ত। তবে এ অভিযোগ সঠিক নয় বলেই জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবী,এলাকা ভিত্তিক প্রয়োজন অনুযায়ী কেরোসিন বরাদ্দ নীতি নেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় একটু সমস্যা তৈরি হয়েছে। করোসিন ডিলারদের সংগঠন রাজ্যো ভর্তুকিহীন কেরোসিন সরবরাহের দাবী তুলেছে ইতিমধ্যে। আশা করা হচ্ছে এর জেরে গ্রাহকদের সমস্যার একটু হলেও সুরাহা হবে।

ওদিকে,জ্বালানি তেলের খরচ যাতে কমে তার জন্য রাজ্যগুলিকে কেরোসিনের কোটা ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। কেরোসিনের কোটা ছাড়ার বিনিময়ে বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থাও করেছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই দিল্লি,চন্ডীগড়,হরিয়ানা,অন্ধ্রপ্রদেশের সহ আরো কিছু রাজ্য কেরোসিনের কোটা ছেড়েও দিয়েছে। পড়শি রাজ্য ঝাড়খন্ড কেন্দ্র থেকে ভর্তুকিহীন কেরোসিন নিচ্ছে বহুদিন থেকে। এবং তা প্রতি গ্রাহক পিছু ৪৫ টাকা লিটার দরে বিক্রিও করছে। পর্যায়ক্রমে ওই রাজ্যে এই ভর্তুকিহীন কেরোসিন দেওয়া বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরুও করা হয়েছে। রেশনের কেরোসিনের উপর ৫ % জিএসটি ছাড়া আর কোনও কর দিতে হয় না গ্রাহকদের। এছাড়া ডিলারের বিক্রিতেও জিএসটি-তে ছাড় আছে। তাই ভর্তুকিহীন কেরোসিন পেট্রল-ডিজেলের মতো অতো দামী নয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তবে ভর্তুকিহীন কেরোসিন রেশনে বিক্রি হলে কর মেলে না, তাই কেন্দ্রীয় সরকারও এই জ্বালানির সরবরাহ বাড়াতে তেও আগ্রহী নয়। পশ্চিমবঙ্গই শুধু ব্যতিক্রম যেখানে কেরোসিনের কোটা হাইকোর্টের একটি স্থগিতাদেশের জেরে মূল্য হ্রাস করতে পারছে না কেন্দ্র। এছাড়া সব রাজ্যেই তিন মাস অন্তর কোটা কমছে। বাংলায় মাসিক কোটা ৫৮ হাজার কিলোলিটারে আটকে আছে। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রীর সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, কেরোসিনের কোটা কমানো নয়, তাঁদের দাবি আগের মতো মাসে প্রায় ৮০ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন দেওয়া হোক। কেন্দ্রীয় সরকারের কেরোসিন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবেও আপত্তি রয়েছে রাজ্যের। এছাড়া কেন্দ্র রেশনে কেরোসিন দেওয়া বন্ধ করে দিতে চাইছে, এরও তীব্র বিরোধীতা করছে রাজ্যসরকার।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!