এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > পঞ্চায়েতে ‘প্রতীক-দুর্নীতি’ – আতসকাঁচের নীচে একাধিক জেলা সভাপতি ও দাপুটে নেতা

পঞ্চায়েতে ‘প্রতীক-দুর্নীতি’ – আতসকাঁচের নীচে একাধিক জেলা সভাপতি ও দাপুটে নেতা

পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল বেরোতেই রাজ্যজুড়ে ঘাসফুলের দাপট। সার্বিক ফলাফল নিয়ে শীর্ষনেতৃত্ত্ব খুশি হলেও দুটি বিষয় নিয়ে ‘কাঁটা’ রয়েছে। প্রথমত – নির্দল গোঁজ প্রার্থী আর দ্বিতীয়ত – বিজেপির উত্থান। আর দুটি বিএসয়েই যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট এসেছে বলে সূত্রের খবর, তাতে চোখ কপালে উঠতে পারে। বহু জায়গাতেই, দল যাঁকে প্রার্থী করেছিল দেখা যাচ্ছে নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রতীক পান নি, উল্টে প্রতীক পেয়েছেন অন্য একজন। ফলে, ক্ষুব্ধ সেই দলীয় মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িয়ে পড়েছেন নির্দল হিসাবে, ফলে হয় ভোট কাটাকাটিতে বিজেপি সুবিধা পেয়েছে বা সেই নির্দল প্রার্থীই জিতে গেছেন। আবার দেখা গেছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই নির্দল প্রার্থীরা আদি তৃণমূলী। ফলে দলীয় প্রতীক না পেয়ে নির্দল হিসাবে জিতেই দলের প্রতি অভিমানে তাঁরা পা বাড়াচ্ছেন গেরুয়া শিবিরের দিকে।

ফলে রীতিমত বিড়ম্বনায় শাসকশিবির। প্রথমত এইসব ‘অভিমানী’ নেতাদের ‘যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে’ দলে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার তেকেও বড় কথা দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন এই সব জায়গায় প্রতীক বিলি হয়নি, তা জানতে সাংগঠনিক স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে। আর তাই আপাতত আতসকাঁচের নীচে একাধিক জেলা সভাপতি ও প্রতীক বিলির দায়িত্বে থাকা একাধিক দাপুটে নেতা। শাসকদলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, প্রতীক বিলিতে অনিয়ম হয়েছে, তাতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা দেখতে হবে। কোথাও গোষ্ঠী বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থের বিনিময়ে প্রতীক বিলি হয়ে থাকলে দল পদক্ষেপ করবে। পঞ্চায়েতের মনোনয়ন পর্বে প্রায় ১৪ হাজার অতিরিক্ত মনোনয়ন জমা পড়েছিল, সেই সময় দলীয় স্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল কে প্রতীক পাবেন আর কাকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু দলীয় স্তরেই অভিযোগ, দলের সেই নির্দেশও অনেক জেলা সভাপতি বা ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব মানেননি। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দলের মনোনীত প্রার্থী দলীয় প্রতীক পাননি। আর এইভাবে ‘বঞ্চিত’ হয়ে নিজের ক্ষমতায় জিতে এসে এঁদের অনেকেই আর ঘাসফুল শিবিরে ফিরতে চান না। কিন্তু এইসব ‘অভিমানীদের’ দূরে সরিয়ে রাখলে অনেক হিসেব যে ‘গড়বড়’ হতে পারে তার ইঙ্গিত মিলেছে পঞ্চায়েতেই। আর তাই নির্বাচনের আগে দলের শীর্ষনেতৃত্ত্ব যতই নির্দেশ দিক, বোর্ড গড়তে না পারলেও বিক্ষুব্ধদের দলে ফেরানো হবে না, বাস্তবে ভোট মিটতেই ‘বিক্ষুব্ধদের মানভঞ্জন’ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!