এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > কাজে আসছে না স্বয়ং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ‘দাওয়াই’, জঙ্গলমহলে কিছুতেই মিটছে না শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

কাজে আসছে না স্বয়ং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ‘দাওয়াই’, জঙ্গলমহলে কিছুতেই মিটছে না শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

সদ্য সমাপ্ত রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটে প্রায় সব জেলাতেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বেশ ভালো ফল করলেও জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে অনেকটাই ভরাডুবির মুখে পড়তে হয়েছে সেই তৃণমূলকে। জেলায় হারের কারণ যে দলীয় নেতাদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, তা বেশ ভালভাবেই বুঝতে পেরেছেন শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বরা।

আর তাই তো দলের বিভিন্ন কোর কমিটির বৈঠকে সেই জঙ্গলমহলের বিভিন্ন নেতাদের একজোট হয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে যাতে দলের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় এবং ঐক্য অটুট থাকে সেইজন্য সেখানকার পর্যবেক্ষক হিসেবেও তৃণমূল মহাসচিব তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেখভালের নির্দেশ দিয়েছেন দলনেত্রী।

তারপর বিভিন্ন সময়ে জেলায় এসে সেই দলীয় নেতাদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেছেন পার্থবাবু। কিন্তু তাতেও যে জঙ্গলমহলে দলীয় সংগঠনের সমস্যা কিছুতেই মিটছে না, তা ফের প্রকাশ্যে চলে এল। সূত্রের খবর, এবার ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের স্থায়ী সমিতি গঠন নিয়ে ব্যাপক তরজায় জড়িয়ে পড়লেন শাসকদলের নেতা নেত্রীরাই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ এবং স্থায়ী সমিতিতে ঠিক কারা কারা থাকবেন এবং এই ব্যাপারে যাতে দলীয় স্তরে কোনরূপ গণ্ডগোল না হয় সেজন্য আগেভাগেই গত শনিবার তার একটি তালিকা তৈরি করে দিয়েছিলেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

এবার সেই দলীয় মহাসচিবের পাঠানো তালিকার বিরুদ্ধে অন্য একটি তালিকা জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠল জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির চেয়ারম্যান সুকুমার হাসদার বিরুদ্ধে। আর এতেই গত সোমবার জেলা পরিষদে তুমুল গন্ডগোল বেঁধে যায়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

জানা যায়, গতকাল এই ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের স্থায়ী সমিতি গঠনের কথা ছিল। আর সেই মত অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) অধীরকুমার বিশ্বাস ও জেলা পরিষদের সচিবের নেতৃত্বে সেখানকার কাজ শুরু হয়। এদিকে এই সমিতি গঠনের কাজ যখন চলছিল, ঠিক তখনই জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির চেয়ারম্যান তথা ঝাড়গ্রামের তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার হাঁসদা তার নিজের তৈরি করা ও স্বাক্ষর করা একটি তালিকা সেখানে জমা দেন।

অভিযোগ, নিজের তৈরি করা তালিকায় সেই সুকুমারবাবু জেলা পরিষদের সদস্যদের ব্রাত্য রেখে বিধায়ক চূড়ামণি মাহাতো, দুলাল মূর্মু এবং খগেন্দ্রনাথ মুর্মুকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। এদিকে নতুন এই তালিকা দেখেই জেলা পরিষদের অধিকাংশ সদস্যদের সন্দেহ হয় যে, দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাঠানো তালিকার সঙ্গে এর বহু তফাৎ রয়েছে।

আর সাথে সাথেই তারা সুকুমার হাসদার এই তালিকার বিরুদ্ধে মহাসচিবের তালিকাটি সেখানে জমা দেন। জানা যায়, মহাসচিবের এই তালিকায় জনসাস্থ্য স্থায়ী সমিতিতে জেলা পরিষদ সদস্য তপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঝাড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রেখা সোরেনের নাম থাকলেও সুকুমার হাসদা নিজের তালিকায় সেইখানে জেলা পরিষদের সদস্য মনোরমা পাত্র ও দেবনাথ হাসদার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।আর নিজের নাম আছে জেনেই তিনি এই সমিতিতে থাকতে চান না বলে প্রবল প্রতিবাদ জানান মনোরমা পাত্র।

অন্যদিকে নিজের লোকেদের তিনি স্থায়ী সমিতিতে রাখছেন এই অভিযোগ তুলে সেই সুকুমার হাসদার বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভে ফেটে পড়েন জেলা পরিষদের কিছু সদস্য। তবে প্রথমে সকলে সভা কক্ষ থেকে বাইরে বেরিয়ে গেলেও পরে অবশ্য মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের তালিকাকে মান্যতা দিয়েই তৈরি হয় ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের স্থায়ী সমিতি।

কিন্তু যেখানে খোদ তৃণমূল মহাসচিব নামের তালিকা পাঠিয়েছেন, সেখানে তিনি কেন পাল্টা সেখানে অন্য তালিকা দিতে গেলেন? এদিন এই প্রসঙ্গে সেই সুকুমার হাসদা বলেন, “আমি কি তালিকা দিলাম, সেটা বড় কথা নয়। আমি দলের সাধারণ কর্মী। সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো গণ্ডগোল হয়নি।”

তবে সুকুমারবাবু যাই বলুন না কেন, ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের সামান্য স্থায়ী সমিতির গঠনেই শাসকদলের যে কোন্দল প্রকাশ্যে এল তাতে সেই জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে এই দলীয় কোন্দল যে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অনেকটাই মাথা ব্যাথার কারন হবে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত প্রায় প্রত্যেকেই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!