এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পার্থ চ্যাটার্জির বৈঠকের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আড়াআড়ি বিভাজন আদিবাসী সমাজে,শঙ্কায় শাসকদল

পার্থ চ্যাটার্জির বৈঠকের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আড়াআড়ি বিভাজন আদিবাসী সমাজে,শঙ্কায় শাসকদল

তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ঝাড়গ্রামের আধিবাসী সম্প্রদায়ের পাশে সবরকম সুবিধা অসুবিধায় পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সময়ের সাথে এই জঙ্গলমহলই হয়ে দাঁড়িয়েছে শাসকদলের শক্তিঘাঁটি। তবে পঞ্চায়েত ভোটে এইসব এলাকা থেকে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় শাসকদের কপালে রীতিমতো ভাঁজ পড়েছে। এদিন সেই ব্যাপারে খতিয়ে দেখতে ঝাড়গ্রামে গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জী। আদিবাসীবৃন্দদের নিয়ে একটি সভাও করেন পার্থবাবু। কিন্তু তাঁর ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই বিভেদের প্রাচীর স্পষ্ট হয়ে উঠলো বেলপাহাড়িতে দুই আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে।আর এই নিয়ে এদিন আধিবাসী যুব সংগঠন ‘জুয়ান গাঁওতা’ নেতা প্রবীর মুর্মুর ডাকে বেলপাহাড়ি স্কুলের মাঠে একটি সামাজিক সম্মেলন হয় আর তার মূল উদেশ্য নাকি আধিবাসী সংগঠনের পুর্নগঠন এমনটাই জানা গেছে।
অন্যদিকে, ‘ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল’ ও সামাজিক সচেতনতা সভা এবং রক্তদান শিবির করেন শিলদা কমিউনিটি এলাকায়। সংগঠনের সর্বভারতীয় মুখপাত্র নিত্যানন্দ হেমব্রম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী আধিবাসী সমন্বয় মঞ্চের নেতারাও। তাঁরা শুধু সভাই করেননি এদিন পরস্পর পরস্পরের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল ও তুলেছেন । অভিযোগে প্রবীরবাবু জানান যে, “নির্দল প্রার্থীদের ভোট না দেওয়ায় পারগানা মহল সামাজিক বয়কট করছে, হুমকি দিচ্ছে, জরিমানার নামে তোলাবাজি চলছে। এ সবে দাঁড়ি টেনে সাবেক ভারত জাকাত মাঝি মাডওয়াকে আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় সংগঠিত করছি।” অন্যদিকে,’ভারত জাকাত মাঝি পারগনা মহল’ পাল্টা তোপ দেগে বলেন যে, তাঁদের সামাজিক সংগঠনকে বদনাম করতেই নাকি এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। প্রশাসনের মদতপুষ্ট কিছু লোক সক্রিয়ভাবে এসব করছে। জানা গেছে সভা শেষে পারগানা মহলের কিছু আধিবাসীবৃন্দ বিকেলে পুলিশের নিষেধ অবজ্ঞা করে অস্ত্র নিয়ে বাইক মিছিলও করেন। তবে তাঁদের ভীমচক চত্বরে আটকায় পুলিশ।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

উল্লেখ্য, যে ২০১৩ সালে পাঁচটি রাজ্যের আধিবাসী সম্প্রদায়ের নেতারা নিত্যানন্দ হেমব্রমের নেতৃত্বে ‘ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল’ গড়ে তুলেছিলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে এর গুরুত্ব তলানিতে এসে ঠেকেছে। একসময় আধিবাসীদের দাবীদাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ আন্দোলনও করেছেন তাঁরা। নবান্নেও ছুটেছেন শীর্ষনেতারা। নিত্যানন্দবাবু আশা, বর্তমানে যে সংগঠন তাঁদের বিরোধী হয়েছে, শেষঅব্দি তাঁরাই নাকি সংগঠনের মূলস্রোতে ফিরে আসবেন তবে তৃণমূলের শীর্ষ আমলারা কিন্তু আধিবাসী সম্প্রদায়ের এই বিভেদকে মান্যতা দিতে রাজি নয়। কেননা সাংগঠিকভাবে ঝাড়গ্রামের দায়িত্ব রয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এর কাঁধে। তাই পার্থবাবুর উপর ভরসা রেখেছেন তাঁরা।অন্যদিকে পার্থবাবুও দাবি করেন যে আলাদা ভাবে প্রশাসন বিরোধী আধিবাসী সংগঠনের কথা জানা নেই তাঁর। এছাড়া ওদের ভিতর কোনো ইতিমধ্যে কোনো বিভাজন হয়েছে বলেও শোনেননি তিনি। তবে এ ব্যাপারে কারো কোনো অভিযোগ থাকলে যেন জানানো হয় পার্থবাবুকে সে ব্যাপারেও পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি এমনটাই জানা যাচ্ছে। তবে জঙ্গলমহলের বিরোধ সামনে চলে আসায় বিরোধীমহলে গুঞ্জন উঠতে শুরু করেছে তবে কি সত্যিই শাসকদলের উপর আর আস্থা থাকছে না জঙ্গলমহলের। আর এই ইস্যুকে কেন্দ্র করেই একটা বড় জায়গা করে নিয়তে চাইছে বিজেপি। কারণ সামনেই লোকসভা ভোট আর এই মুহূর্তে তৃণমূল কে চাপে ফেলে বড় সংখ্যক আসন বাংলা থেকে বার করার চেষ্টায় রয়েছে বিজেপি । এখন দেখার এই পরিস্থিতিকে কিভাবে সামাল দেয় শাসকদল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!