এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ভোট-পরবর্তী হিংসাতেও বিজেপির আতঙ্ক দেখছেন পার্থ চ্যাটার্জি, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে অভিযোগ

ভোট-পরবর্তী হিংসাতেও বিজেপির আতঙ্ক দেখছেন পার্থ চ্যাটার্জি, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে অভিযোগ

বাংলা শাসকের ক্ষমতায় যেই আসেন, সেই দল বা প্রশাসক কোনো অশান্তির ঘটনা ঘটলেই বিরোধীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। কিন্তু নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করতে গিয়ে মিথ্যে অভিযোগের বেসাতির মাধ্যমে রাজ্যের গণতন্ত্র যে বিপন্ন হয়ে যেতে বসেছে, তার দিকে লক্ষ্য থাকে না কোনো শাসকবর্গেরই। তারা একে অপরের দিকে অভিযোগের ডালি সাজিয়ে দোষারোপ করতে ব্যস্ত থাকেন।

বর্তমানে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে, তাতে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠা বিজেপির দিকেই সমস্ত অভিযোগের আঙুল তুলছে শাসক দল। সে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর হোক কিংবা দক্ষিণবঙ্গের সন্দেশখালি – বঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ এতটাই তীব্র যে, সাধারণ মানুষের মৃত্যুমিছিলে শোকের পরিবেশের আবহ অপেক্ষা রাজনৈতিক কচকচানিই বেশি মাত্রায় শোনা যাচ্ছে।

এদিন এই প্রসঙ্গে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের মহাসচিব তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যেভাবে একটা উপসংহারে পৌঁছে গিয়েছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। সত্যাসত্য এবং বাস্তব বিবেচনা না করেই বাংলার আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির গুন্ডারা এই রাজ্যে অশান্তি ছড়াচ্ছে। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেহেতু বিজেপি সভাপতি, তাই তার দল যা বলছে তিনি সেটাই বিশ্বাস করছেন।”

এদিকে এদিনই রাজ্যের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে একটি চিঠি দিয়ে গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, উত্তর 24 পরগনার সন্দেশখালিতে যেভাবে রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেও বিজেপির সমালোচনা করেন পার্থবাবু।

তিনি বলেন, “বাংলার মত একই সুপারিশ বা নির্দেশিকা কি উত্তরপ্রদেশের জন্যও জারি হয়েছে! সেখানেও তো 25 জন যাদব সম্প্রদায়ের মানুষকে খুন করা হয়েছিল। আসলে অবিজেপি রাজ্যগুলিতে ক্ষমতা দখলের জন্যই এই ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। হিংসার বিরুদ্ধে মানুষকে সাথে নিয়ে সত্যাগ্রহের মাধ্যমেই আমরা এর জবাব দেব।”

এদিকে সন্দেশখালির ঘটনা প্রসঙ্গে এদিন নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূলের এক প্রতিনিধিদল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী তাপস রায়, সুজিত বসু, বিধায়ক নারায়ণ বিশ্বাস, প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র সহ অন্যান্যরা। তবে দলীয় কর্মীরা যাতে কোনরকম প্ররোচনায় পা না দেন, তার জন্য এদিন সকলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন উত্তর 24 পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে সায় দিয়ে সন্দেশখালিতে এত বড় ঘটনা ঘটে গেলেও সেখানে উপস্থিত হতে দেখা গেল না বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল সাংসদ নুসরাত জাহানকে। যা নিয়ে সমালোচনার সুর শোনা গেছে বিভিন্ন মহলে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে, তাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক। ভোটে কারও জয় হবে, আবার কারও বা পরাজয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য যে সমস্ত নেতারা নির্বাচনের ময়দানে নামেন, তাদের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখা উচিত। যা বঙ্গ রাজনীতিতে বর্তমানে বড়ই অভাব।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!