এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা >  শিক্ষকদের পিআরটি আন্দোলনে রাজনৈতিক রঙ লাগানোর প্রচেষ্টা, যোগ্যতা প্রমানের ‘পরামর্শ’ শিক্ষামন্ত্রীর

 শিক্ষকদের পিআরটি আন্দোলনে রাজনৈতিক রঙ লাগানোর প্রচেষ্টা, যোগ্যতা প্রমানের ‘পরামর্শ’ শিক্ষামন্ত্রীর

ন্যায্য বেতনের দাবীতে সরব হয়ে এবার আন্দোলনে পথে নামলেন রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের একটা বড় অংশ। এনসিটিই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ প্রাথমিক শিক্ষকেরাই তাঁদের প্রাপ্য বেতন পাচ্ছেন না – এর জেরে বেতন বৈষম্য হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের দু’দিন ব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

প্রথম দিনই রেকর্ড পরিমান শিক্ষক জমায়েত হয়েছেন সেখানে। এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করার পাশাপাশি ন্যায্য বেতন প্রদানের দাবীর পক্ষে সওয়াল তোলেন তাঁরা। আর এই ইস্যুতে প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় কংগ্রেসের সংসদ সদস্য তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী, বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী প্রমুখ রাজ্য সরকার বিরোধী প্রথম শ্রেণীর নেতাদের।

প্রাথমিক শিক্ষকদের তরফ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন-নিবেদন করা হলেও, তাঁদের দাবী দাওয়া মেটাতে গা ঢিলেমি ভাবটাই লক্ষ্য করা গিয়েছে রাজ্য সরকারের – বলে অভিযোগ প্রাথমিক শিক্ষকদের তরফে। কিন্তু, এবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে শিক্ষকদের। তাই এবার আর মুখ বুঝে সহ্য করা নয়। নিজেদের ন্যায্য বেতন বুঝে নিতে আন্দোলনকেই হাতিয়ার বানালেন তাঁরা। আর তাঁদের সঙ্গ দিতে এগিয়ে আসতে দেখা গেল রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বদের। মঞ্চ থেকেই রাজ্য সরকারের নীতির কড়া সমালোচনার মুখর হলেন অধীর চৌধুরী, সুজন চক্রবর্তীরা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

শিক্ষকদের এই আন্দোলনকে করে সমর্থন করে অধীরবাবু বলেন – এই সরকার খেলা, উৎসব, মেলায় টাকা খরচ করতে পারে অথচ যত আপত্তি শিক্ষকদের বেতনের বেলায়। দাবী আদায় করতে শিক্ষকরা যদি অনশনেও বসেন – তাতেও পূর্ণ সমর্থন থাকবে তাঁর, এমনটাই গর্জে উঠে জানালেন তিনি। একই সুরে কথা বলতে দেখা গেল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানকে। শিক্ষার ভ্রান্ত নীতি এবং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা দেখে উষ্মা প্রকাশ করলেন তিনি। নিজের বক্তব্যে জানালেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। গর্জে উঠে বললেন, “সরকার বিষমদে মৃত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। কিন্তু শিক্ষকদের দাবি মানতে নারাজ।”

তবে বিরোধীদের এইসব সমালোচনা মুখ বুঝে সহ্য করেনি শাসকদলও। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কটাক্ষ ছুঁড়ে দিতে দেরি করলেন না শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আন্দোলন না করে বিকাশ ভবনে এসে আলোচনা করলেই পারেন তাঁরা”! তবে প্রাথমিক শিক্ষকরা যতই আন্দোলন করুক না কেন, এই মুহূর্তে তাঁদের এই আর্থিক দাবী মেনে নেওয়া কখনোই সম্ভব নয় বলেই সাফ কথায় জানালেন তিনি। একইসঙ্গে এটাও বলেন তিনি, “রাজ্যের রাজস্ব আদায় থেকে টাকা দেয় সরকার। কিন্তু রাজ্য সরকারের রাজস্ব আদায় ভালো জায়গায় নেই”।

তাছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন, ওই শিক্ষকরা আগে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করুণ, তারপর আন্দোলনে নামবেন। তাঁর দাবী, যাঁরা বাতিল হয়েছেন তাঁরাই জড়ো হয়ে আন্দোলন করছেন। নিজেদের সংগঠনের নামে না গিয়ে অন্যের ব্যানারে গিয়ে আন্দোলন করছেন। উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রীর এহেন মন্তব্যেই শিক্ষকদের এই আন্দোলনে যেন রাজনৈতিক রং লাগল, কেননা শিক্ষকদের আন্দোলনের সংগঠনের তরফে বারবার জানানো হয়েছিল – এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক আন্দোলন। আর এই মানবিক আন্দোলনে যোগদানের জন্য তাঁরা রাজ্যের সমস্ত জন-প্রতিনিধি, গণ-সংগঠন ও সুশীল সমাজকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

তবে, লোকসভা ভোটের আসন্ন বেলায় রাজ্য সরকার বিরোধী যে কোনো কর্মকান্ডকেই হাতিয়ার করে শাসকদলকে আক্রমণ করার একটা সুযোগও হাতছাড়া করতে চাইছে না বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেসকে গাফিলতিগুলো চোখে আঙুল দিতে দেখিয়ে দিতে মরিয়া বিরোধীরা। লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলের ভাবমূর্তি যতো নষ্ট করা যাবে,ততোই রোখা সম্ভব হবে তাঁদের। এই রণকৌশল নিয়েই এগোচ্ছে তাঁরা। এমনটাই নিজেদের দাবিতে জানাচ্ছেন বিভিন্ন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। তবে মুখে কুলুপ এঁটে নেই শাসকদলও। বিরোধীদের কীভাবে যোগ্য জবাব দিতে হয় তা হাতেনাতে বুঝিয়ে দিলেন শাসকদলের মহাসচিবও। এখন এই প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের আন্দোলন আরো বৃহত্তর রূপ নেয় কিনা সেটাই দেখার! সবমিলিয়ে এই ইস্যু নিয়ে চাপানউতোর তুঙ্গে রয়েছে রাজনৈতিকমহলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!