এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > পরিবেশ আদালতের রায়ে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো বন্ধ হতেই ‘কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র’ খুঁজে পেলেন মেয়র

পরিবেশ আদালতের রায়ে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো বন্ধ হতেই ‘কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র’ খুঁজে পেলেন মেয়র

পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ছট পূজা কে ঘিরে নানা আড়ম্বর হলেও পশ্চিমবঙ্গে এতদিন ছট পুজো নিয়ে এত মাতামাতি ছিল না। বিগত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, ছট পুজোর ছুটিসহ ছট পুজো ঘিরে নানান অনুষ্ঠান। ছট পুজোর অনুষ্ঠানটি কলকাতার সুভাষ সরোবর এ বেশ আড়ম্বর সহযোগে পালিত হত।

কিন্তু সুভাষ সরোবরের সবুজায়ন নষ্টের পথে দেখে জাতীয় পরিবেশ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, সুভাষ সরোবরে ছট পুজো বন্ধের।যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকার গত দু’বছর সেই নির্দেশকে কোনরকম পাত্তা না দিয়ে ছট পুজোর আয়োজন করেছিল‌। কিন্তু এ বছরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি রাখা হয়েছে সুভাষ সরোবরে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্য সরকার কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনল।

রবীন্দ্র সরোবর এর পরিবেশের কথা মাথায় রেখে জাতীয় পরিবেশ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রবীন্দ্র সরোবরে ছট পূজোর কোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। আর তা নিয়েই বেজায় ক্ষুব্ধ কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এদিন ফিরহাদ হাকিম এর কথায় পরিষ্কার বোঝা গেছে তিনি এই ঘটনার পেছনে সম্পূর্ণ দায়ী কেন্দ্রীয় সরকারকে করছেন।

তাঁর মতে কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছেতে রবীন্দ্র সরোবরের ছট পূজার অনুষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে। রীতিমতো দিল্লীর ষড়যন্ত্র দেখছেন তিনি এই ঘটনার পেছনে। তবে কলকাতার অন্য দশটি পুকুরে ছট পূজার ব্যবস্থা করা হয়েছে কেএমডিএর পক্ষ থেকে।রবীন্দ্র সরোবরের পরিবেশের কথা মাথায় রেখে আগেই পরিবেশ আদালত নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি ছটপূজা বন্ধের সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশের ওপর নজর দিয়ে আগেই রবীন্দ্রসরোবরে ছটসহ যেকোন পূজা-পার্বণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় পরিবেশ আদালত।

কিন্তু সেই নির্দেশের তোয়াক্কা না করেই গত দু বছর রবীন্দ্র সরোবরে ছট পূজার অনুষ্ঠান হয়। এবং তা নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক শুরু হয়। কেএমডিএকে জবাবদিহি করতে হয়। কারণ রবীন্দ্রসরোবরের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে কেএমডিএ। তাই এবার জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে রবীন্দ্র সরোবরে সম্পূর্ণরূপে ছট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেএমডিএ।

রবীন্দ্র সরোবরের বদলে কলকাতার 10 টি পুকুর ছট পূজার জন‍্য বেছে নিয়েছে কেএমডিএ। পুকুরগুলো হল নোনাডাঙ্গা তিন নম্বর ঘাট, যোধপুর পার্ক জলাশয়, রামধন পার্ক, গোবিন্দন কুট্টি, মাদুরতলা ঝিল, নববৃন্দাবন ঝিল, 10 নম্বর পুকুর, লালকা পুকুর, কাটজু নগর পুকুর ও রুবি হাসপাতাল এর পার্শ্ববর্তী জলাশয়।

ছট পূজা উপলক্ষে এই পুকুরগুলোতে কেএমডিএর তরফ থেকে নানান সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। যেমন- আলো, শৌচালয়, জামা কাপড় বদল এর জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা। আর এর সবটাই সাধারণ মানুষ যাতে জানতে পারে তার জন্য এখন থেকেই কেএমডিএ এর পক্ষ থেকে সারা শহর জুড়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।

ছট পুজোর দিন সুভাষ সরোবরকে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে। ছট পুজোর দিন যাতে ভুল করেও কেউ রবীন্দ্রসরোবরে ঢুকতে না পারে তার জন্য রবীন্দ্র সরোবরের 17 টি গেটের প্রত্যেকটিতে থাকবে প্রহরা। এবং গেট গুলি বন্ধ থাকবে‌। এদিকে সুভাষ সরোবর বন্ধের ফলে হিন্দিভাষী মানুষদের ওপর যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, তার জন্য কেএমডিএ প্রবল সচেষ্ট হয়েছে। তাই বারবার কেএমডিএর পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে, ঘরের পাশেই সমস্ত সুযোগ সুবিধা যুক্ত ছট পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে বলে।

অন্যদিকে রাজ্যের ওয়াকিবহাল এর মত অনুযায়ী, সামনেই রাজ্য সরকারের পুরভোট আর সেই ভোটের দিকে নজর রেখেই হিন্দি ভোটব্যাঙ্ককে হাতে রাখতে চাইছে শাসক দল। আবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করলেও পড়তে হবে সমালোচনার মুখে। তাই এই পরিস্থিতিতে শাসক সরকার ভারসাম্য বজায় রেখে চলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে বিরোধীদলের দাবি, শাসক সরকার শুধুমাত্র ভোটের কথাই চিন্তা করে। পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখার কথা তাঁরা ভাবতেও পারেননা। তাই সুভাষ সরোবর বন্ধের কারণ হেতু তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত। অন্যদিকে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সবুজায়ন এর ওপর যাতে কোনো কুপ্রভাব না পড়ে, সেদিকে নজর রাখা উচিত সমস্ত রাজনৈতিক দলেরই।

বর্তমানে আমাদের চারপাশের পরিবেশ ক্রমশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে। তাই সবুজকে রক্ষা করার দায়িত্ব সবাইকেই নিতে হবে। শুধুমাত্র ভোটের কথা ভাবলে চলবে না। আপাতত কেএমডিএর নির্দেশ অনুসারে সুভাষ সরোবর মুখো হচ্ছেন না কেউই। তবে কেএমডিএর ঠিক করে দেওয়া স্থানগুলিতে ছট পুজো যাতে সফল হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখছে শাসক শিবির।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!