এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > অনুব্রত গড়ে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগে সরব উপপ্রধান, জোর শোরগোল

অনুব্রত গড়ে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগে সরব উপপ্রধান, জোর শোরগোল

রাজ্যের শাসক দলের দুর্নীতি নিয়ে আগেই সরব হয়েছিল বিরোধীদলগুলো। দুর্নীতি নিয়ে প্রথম থেকেই তৃণমূল চাপা অস্বস্তির শিকার। 2019 এর লোকসভা ভোটে তৃণমূল সরকারের খারাপ ফলের কারণ বহুলাংশে এই দুর্নীতি। দুর্নীতির কারণেই মানুষ লোকসভা ভোটে তৃণমূলের পাশ থেকে সরে গেছে বলে বিরোধীদের দাবি। তৃণমূলের দুর্নীতি বিশেষ করে স্থানীয় স্তরে লক্ষ্য করা যায়। লোকসভা ভোটের পর তৃণমূল নেত্রীর নির্দেশে জনসংযোগে বেরিয়ে দলের নেতা, মন্ত্রী, বিধায়করা স্থানীয়দের কাছ থেকে ভুরি ভুরি অভিযোগ পেয়েছেন স্থানীয় নেতৃত্বের দুর্নীতির বিরুদ্ধে। কাটমানি থেকে স্বজনপোষণ – কোন কিছুই বাদ নেই।

বিভিন্ন সময় তৃণমূলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধুমাত্র যে বিরোধীরাই মুখ খুলেছে তা নয়। তৃণমূলের অন্দর থেকেও বিভিন্ন সময় উঠেছে আওয়াজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। এবার আরও একবার এরকমই আরেকটি ঘটনার সাক্ষী হল সাঁইথিয়া। তৃণমূল পরিচালিত সাঁইথিয়ার মাঠপলশা পঞ্চায়েতে তৃণমূল দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠিয়েছেন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান।

এবার সাঁইথিয়ার মাঠপলশা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হলেন। উপ-প্রধানের দাবি, পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পগুলির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় চরম দুর্নীতি হতে চলেছে। এমনকি পছন্দের ঠিকাদার কাজ পেতেও পারে এবং তা নিয়ে ঘটে যেতে পারে চরম অশান্তি। আর সেই অশান্তির আশঙ্কা থেকেই মাঠপলশা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিডিওর কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। যদিও পঞ্চায়েত প্রধান অভিজিৎ সাহা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে বিডিও ঘটনাটি খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রশাসনিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত 12 সেপ্টেম্বর সাঁইথিয়া মাঠপলশা পঞ্চায়েতে ঠিক হয়, চতুর্দশ অর্থ কমিশন তহবিলের প্রায় 42 লক্ষ টাকা খরচ করে কয়েকটি রাস্তা ও নিকাশি নালা তৈরি করা হবে। সাথে আরও নানা উন্নয়নমূলক কাজ চলবে। অতএব টেন্ডার ডাকার কথা ভেবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় 27 তারিখের মধ্যে ফর্ম নিয়ে 30 তারিখের মধ্যে জমা করতে হবে। এবং 30 তারিখে সবচেয়ে কম দর দেওয়া ঠিকাদারকে কাজের বরাত দেওয়া হবে।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

যে অর্থ উপসমিতি এই কাজের জন্য গঠন করা হয়, তার মধ্যে পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত উপপ্রধান, চারজন পঞ্চায়েত সদস্য, পঞ্চায়েত এক্সিকিউটিভ, অ্যাসিস্ট্যান্ট নির্মাণ সহায়ক ও সচিব আছেন। পঞ্চায়েত প্রধানের দুর্নীতি নিয়ে এদিন উপসমিতির অন্যতম সদস্য তথা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মোহাম্মদ ইউনুস জানিয়েছেন, নিয়মানুযায়ী টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিটি এলাকার সমস্ত জনবহুল জায়গায় এবং অফিশিয়াল বিভিন্ন জায়গায়, যথা- পঞ্চায়েতের নোটিশবোর্ড, ব্লক অফিস, এসডিও অফিস, ডাকঘর ইত্যাদি জায়গায় টানানোর কথা ছিল এবং দুটি স্থানীয় সংবাদপত্রে এ নিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার কথা ছিল। যার কোনটিই হয়নি।

তিনি আরো বলেন, পঞ্চায়েত প্রধান কাউকে কোনো কিছু না জানিয়ে স্বজনপোষণের স্বার্থে কাজ বন্টনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাই উপপ্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, টেন্ডার ফর্ম জমা দেওয়ার দিন বহিরাগত দুষ্কৃতীরা ঝামেলা করতে পারে। সাথে তিনি এও বলেন, “এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তাই বিডিওর কাছে ওই দুদিন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছি।”

অন্যদিকে, পঞ্চায়েত প্রধান অভিজিৎ সাহা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, “সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিতে হয় বলে আমার জানা নেই। এলাকার অধিকাংশ জনবহুল জায়গায় এ সংক্রান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। স্বজনপোষণ ও অশান্তির অভিযোগও ভিত্তিহীন। ব্যক্তিগত আক্রোশে কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে কি বলা যেতে পারে?”

অন্যদিকে সাঁইথিয়ার বিডিও স্বাতী দত্ত মুখোপাধ্যায় জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে হয় কিনা বলতে পারব না। অন্য জায়গায় নোটিস দেওয়া হয়েছিল বলে পঞ্চায়েত থেকে জানানো হয়েছে। তবে অশান্তির আশঙ্কার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।”

এই ঘটনায় আপাতত তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে কোন বক্তব্য শোনা যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, তৃণমূলের উপর মহল চেষ্টা করেও নিম্ন মহলে তাঁদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারছেননা। তাই তৃণমূল সুপ্রীমোর দুর্নীতি নিয়ে যে অমোঘ বাণী প্রকাশ পেয়েছে, তা এখনও পর্যন্ত নীচের দিকে এসে পৌঁছায়নি।

উল্লেখ্য, তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনরকম দুর্নীতি চলবে না। এমনকি কাটমানি প্রসঙ্গে তাঁর মতামত ছিল, কাটমানি যত শীঘ্র সম্ভব ফেরত দিতে হবে। সাঁইথিয়ার এই ঘটনায় তৃণমূল নেতৃত্ব কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন দুর্নীতি আটকাতে, তার দিকেই নজর এখন রাজনৈতিক মহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top