এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > সরকারি কর্মচারীদের খুশি করে আজ কি অবশেষে আইনি জট কাটবে কলকাতা হাইকোর্টে?

সরকারি কর্মচারীদের খুশি করে আজ কি অবশেষে আইনি জট কাটবে কলকাতা হাইকোর্টে?

বিভিন্ন আইনি জটে জটিল হয়ে আছে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভাগ্য, তার মধ্যে অন্যতম ও সবথেকে গুরুত্ত্বপূর্ন এখন পঞ্চায়েতের নিরাপত্তা। আর এই নিয়ে প্রথম প্রশ্ন তোলেন বিজেপি প্রভাবিত সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীল। বিজেপিনেতা জয়প্রকাশ মজুমদার ও কনক দেবনাথকে নিয়ে তিনি ছুটে যান রাজ্য নির্বাচন কমিশনে, দাবি তোলেন ভোটের কাজে যোগ দিতে চলা সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে পঞ্চায়েতের নিরাপত্তার দায়িত্ত্ব তুলে দেওয়া হোক কেন্দ্রীয়বাহিনীর হাতে। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশন দেবাশিসবাবুর দাবিকে গুরুত্ত্ব দিলেও, এই নিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় অনোন্যোন্যপায় হয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেন।

কলকাতা হাইকোর্ট সেই মামলা গ্রহণ করলে, প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি শুরু হয়। যেহেতু সেই সময় আইনজীবীদের কর্মবিরতি চলছিল, তাই প্রথাগত আইনি ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও দেবাশিসবাবু নিজেই শুরু করেন সওয়াল। তাঁর যুক্তি ছিল, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে কোনো সাধারণ নির্বাচনে (লোকসভা ও বিধানসভা) ভোট হয় কেন্দ্রীয়বাহিনীর তত্বাবধানে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিকূলতা অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় নির্বাচনে (পুরসভা ও পঞ্চায়েত) ভোট হয় রাজ্য পুলিশের তত্বাবধানে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি যে ভোট করতে যাওয়া সরকারি কর্মচারীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার মত ক্ষমতা এইমুহূর্তে রাজ্য পুলিশের নেই। তার উপরে ইতিমধ্যেই বর্ধমানে ফার্স্ট পোলিং অফিসার দেবাশীষ মুখার্জির উপর বিরোধী প্রার্থী ভেবে রাজনৈতিক আক্রমন নেমে এসেছে। ভোটকর্মী হিসাবে ডাক পাওয়া সরকারি কর্মচারীরা ও তাঁদের পরিবার বর্তমানে আতঙ্কিত। নির্বাচনী দায়িত্ত্ব থেকে নাম কাটানোর জন্য লম্বা লাইন পড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের ও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তার খাতিরে আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটের দায়িত্ত্ব তুলে দেওয়া হোক কেন্দ্রীয়বাহিনীর হাতে।

দেবাশিসবাবুর সওয়ালকে মর্যাদা দিয়ে এরপরেই বিচারপতিরা, রাজ্য সরকারের তরফে উপস্থিত থাকা ডিআইজি অনুজ শর্মাকে জানান, ব্যাপারটা সত্যিই সিরিয়াস। নিরাপত্তার জন্য কি ব্যবস্থা করছেন জানান। জবাবে অনুজবাবু বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে র্যায় সরকার। বিচারপতিরা এরপরেই নির্দেশ দেন, সেই ‘পর্যাপ্ত’ ব্যবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য যেন আদালতে জমা দেয় রাজ্য সরকার। কতগুলি বুথে নির্বাচন হচ্ছে, তার মধ্যে সাধারণ, স্পর্শকাতর, অতি স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা কত? এই শ্রেণিবিন্যাসের ফলে কোন বুথে কজন সশস্ত্র পুলিশ দিচ্ছে প্রশাসন? নির্বাচনের সময় বাকি নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই বা কত বাহিনী কোথায় রাখা হচ্ছে? সব মিলিয়ে কত সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবস্থা করছে প্রশাসন? এইসব তথ্য আদালতকে হলফনামা আকারে জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু গতদিনের শুনানিতে এইসব তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও, রাজ্য সরকারের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, তাঁর আরো কিছুদিন সময় চায় এইসব তথ্য দেওয়ার জন্য। ফলে আজ শুনানির দিন ধার্য্য করেন বিচারপতিরা। আর তাই কলকাতা হাইকোর্ট খুললেই সকাল ১০:৩০ টায় হবে এই গুরুত্ত্বপূর্ন মামলার শুনানি, যা ঠিক করে দেবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভাগ্য। ফলে সমস্ত রাজনৈতিক দল তো বটেই, রাজ্য সরকার থেকে শুরু করে আমজনতা এখন তাকিয়ে বিজেপি প্রভাবিত সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীলের করা এই গুরুত্ত্বপূর্ন মামলার দিকে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!