এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পঞ্চায়েতে বিরোধী-শূন্য করেও মাথায় হাত শাসকদলের, আইন বদলাতে চান পঞ্চায়েত-মন্ত্রী

পঞ্চায়েতে বিরোধী-শূন্য করেও মাথায় হাত শাসকদলের, আইন বদলাতে চান পঞ্চায়েত-মন্ত্রী

সদ্য সমাপ্ত রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক চিত্র । এ যাবত কালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরে এমন দৃশ্য নজরে আসেনি বলে রাজনৈতিক মহল দাবি করছেন। অবিশ্বাস্যভাবেই রাজ্যের ২০ টি  জেলা পরিষদের মধ্যে ৯টি একেবারের বিরোধী শূন্য হয়েছে। একই ভাবে শ’খানেক পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতও কোনো অস্তিত্ব নেই বিরোধী দলগুলির। নির্বাচনী ফলাফলের এই চিত্র দেখে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত গুলি গঠনের পরে আইন অনুয়ারী পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো বিপত্তি ঘটবেনা তো ! পঞ্চায়েত পরিচালনার সাথে সরাসরি যুক্ত বহু সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মীর মধ্যে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ পঞ্চায়েত আইন মোতাবেক রাজ্যে তৃণমূলস্তরে সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষেত্রে বিরোধী মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পরিচালনার একটি অঙ্গ। আইন অনুসারে সিদ্ধান্তগ্রহণের সমস্ত কমিটিতেই বিরোধীদের রাখা এক প্রকার বাধ্যতামূলক। কিন্তু এবারের নির্বাচনে যেভাবে বেশিরভাগ পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েত এমনকী জেলা পরিষদও বিরোধী শূন্য হয়েছে তাতে পঞ্চায়েত আইন রক্ষার ক্ষেত্রে নানা বাধা আসবে বলে সরকারী অধিকর্তাদের একটা বড় অংশ মনে করছেন।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

যদিও পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এক প্রকার বিদ্রুপ করেই বললেন, ”আইনে বিরোধী সদস্যদের গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েত আইনে তো বিরোধী সদস্যদের জিতিয়ে আনার দায়িত্ব শাসক দলকে দেওয়া নেই। থাকলে আমরাই জিতিয়ে আনতাম। এখন যাঁরা জিতেছেন তাঁরাই পঞ্চায়েত চালাবেন। প্রয়োজন হলে আইন বদলাতে হবে।” সমস্যাটা ঠিক কোথায় হচ্ছে খতিয়ে দেখতে গিয়ে জানা যাচ্ছে , প্রতিটি জেলা পরিষদের বিরোধী নেতা বা কোনোও বিরোধী সদস্যের উপস্থিতি মান্যতা দিয়ে জেলা কাউন্সিল গঠন করা হয়। এই কাউন্সিলের সদস্য-সচিব থাকেন জেলা পরিষদের অতিরিক্ত জেলাশাসক। জেলা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে থাকেন বিরোধী সদস্য। পদাধিকার বলে তিনি  যে কোনও পঞ্চায়েত পরিদর্শন, কাজের হিসেব চাওয়া, টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে জবাবদিহি প্রভৃতি কাজের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিন্তু এই বছর ন’টি জেলা পরিষদে সেই কাউন্সিল কী ভাবে গঠিত হবে তা নিয়ে সংশয় তৈরী হয়েছে। পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী এই কাউন্সিল গঠন বাধ্যতামূলক। এই প্রসঙ্গে এক পঞ্চায়েত কর্তা বললেন, “আইনি পরামর্শ করে দেখা হবে। যদি সম্ভব হয় তা হলে শাসক দলের মধ্যে থেকেই কাউকে এই কমিটির মাথায় এখন বসাতে হবে।” কাউন্সিল ছাড়াও পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরেই বিভিন্ন স্থায়ী সমিতির বৈঠকে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে পঞ্চায়েত আইন অনুয়ারী প্রতিটি স্থায়ী সমিতিতে এক জন করে বিরোধী সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক। একই সাথে এই আইনে বিরোধী সদস্য না থাকলে বিজয়ী সদস্যরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এমন কথাও বলা রয়েছে। সমস্ত ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বললেন,  ”পঞ্চায়েত আইন মেনে তৃণমূল কাজ করলে তো সুষ্ঠুভাবে ভোটটাই করাত। একচেটিয়া জেতার পর বিরোধীদের পরামর্শ নিয়ে ওরা পঞ্চায়েত চালাবে এটা ভাবা অনর্থক। ফলে আইনে যা-ই লেখা থাকুক, অবাধে লুটপাটই এখন এদের মূল উদ্দেশ্য।”

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!