এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > পঞ্চায়েতে কোনো সন্ত্রাস হয়নি, তৃণমূলে এসে দাবি মৌসুমের

পঞ্চায়েতে কোনো সন্ত্রাস হয়নি, তৃণমূলে এসে দাবি মৌসুমের



লোকসভা ভোটের ঠিক মুখেই নিজের রাজনৈতিক পথের মোড় পাল্টে ফেললেন মৌসম নূর। অপ্রত্যাশিতভাবে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন মৌসম বেনজির নূর। দলবদলের সঙ্গে সঙ্গে গলার সুরটাও বদলে ফেললেন তিনি। গত পঞ্চায়েত ভোটে শাসনদলের সন্ত্রাস নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনসহ একাধিক জায়গায় অভিযোগ দায়েরও করেছিলেন তিনি। আর এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়েই সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর কথা বললেন তিনি। জানালেন,’পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যে কোনও সন্ত্রাস হয়নি। এটা ছিল শুধুমাত্র মিডিয়ার হাইপ।’ তিনি সেসময় কংগ্রেসে ছিলেন তাই তাকে অভিযোগ জানাতে হয়েছিল।

তাছাড়া বিধানসভা নির্বাচনের পর জেলা কংগ্রেস সভানেত্রী হিসাবে জেলার দলীয় বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠও করিয়েছিলেন তিনি। তাঁর নির্দেশমতোই বিধায়করা শপথ নিয়েছিলেন যে তাঁরা কখনো দলত্যাগ করবেন না। আর সেই মৌসমই আজ পুরো পাল্টে গেলেন। তৃণমূলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে আরো মানুষকে শাসকদলে যোগদানের আহ্বান জানালেন তিনি।

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর এদিন মালদায় ফিরে মৌসম সোজা চলে গেলেন সুকান্ত মোড় সংলগ্ন তৃণমূলের দপ্তরে। সেখান থেকে জেলা তৃণমূল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন এবং মামা আবু নাসের খান চৌধুরীর সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। বলেন,১৯ এর লোকসভা ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্ত।

সম্প্রতি ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেড জনসভার মঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে মহাজোট তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির মতো অশুভ শক্তিকে কেউ হারাতে পারলে তিনি একমাত্র তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আক্রমণাত্মক নেতৃত্বেই এ রাজ্যের মাটিতে বিজেপি কোথাও ঠাঁই পাবে না বলে গর্জে উঠে জানিয়ে দিলেন তিনি।

এরপর বিজেপিবিরোধী মহাজোটর স্বপক্ষে সওয়াল তুলে বললেন,”কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে সেই ব্যাপারে বারবার আবেদন করেছিলাম। তাঁরা ২০০৯, ২০১১-তে জোট করেছেন। এমন কী ২০১৬-তে ৩৪ বছরের শত্রু CPI(M)-র সঙ্গে জোট করেছেন। তাহলে এখন জোট হবে না কেন? BJP-কে আটকাতে এখনই জোটের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তাই আমি এই জোট চেয়েছিলাম।”

এরপর তিনি আরো জানালেন,মালদার উন্নয়ন একমাত্র তৃণমূলের হাত ধরেই সম্ভব। একইসঙ্গে এটাও জানালেন,একমাত্র তৃণমূলের সঙ্গে থেকেই মালদা থেকে বিজেপি উৎখাত করা যাবে।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এরপর তিনি আরো জানান,ধর্মনিরপেক্ষ বরকত সাহেবের ভাবমূর্তিই মৌসমকে রাজনীতির জগতে আসতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল একসময়। যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে। সেই একই ইমেজ এখন রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তিতে। আর সেজন্যেই মালদার উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি তৃণমূলে যোগ দিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর ডালুমামা এবং ইশাদাদাকেও তৃণমূলে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

তবে মৌসমের অনুরোধ যদি তাঁর পরিবারের লোকেরা না রাখেন সেখানে তাঁর কিছু করার নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন নেত্রী। আর এতে তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক একইরকম থাকবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এবং এটাও বলেছেন,ডালু মামা কংগ্রেসকে সমর্থন করলেও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা একটুও কমবে না মৌসমের। কংগ্রেসের অনেক নেতানেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার পরই তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বলে জানালেন সদ্য কংগ্রেসত্যাগী এই নেত্রী।

মৌসমের কথা এদিন এটাও বোঝালেন,একসময় মালদা কংগ্রেসের দূর্ভেদ্য ঘাঁটি থাকলেও এখন সেখানে থাবা ফেলেছে জোড়াফুল। তাই মালদার উন্নয়নের জন্যে তৃণমূলের হাত ধরার প্রয়োজন। কংগ্রেসের অনেকে নেতা-কর্মীরা সেটা বুঝেই তৃণমূলে এসেছেন। আর তিনিও অনেক ভাবনাচিন্তা করেই সেই সিদ্ধান্তে সামিল হয়েছেন।

গতকালই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র ঘোষণা করে দিয়েছিলেন,লোকসভস নির্বাচনে উত্তর মালদা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মৌসম নুরের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রার্থী হতে চলেছেন ইশা খান চৌধুরি। এব্যাপারে আজ মৌসমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, প্রত্যেকের নিজস্ব রাজনৈতিক মতামত রয়েছে। সবারই দল নির্বাচন করার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে তাঁর মতে,মালদার উন্নয়ন একমাত্র হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে।

তৃণমূলে এসে একদিকে যেমন তিনি নিজের দলীয় কর্মীদের রক্ষা করতে পারবেন,তেমনি বিপদে তাঁদের রক্ষাও করতে পারবেন। এদিন তাকে জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান,মালদায় তৃণমূলের কোনো গোষ্ঠীকোন্দল নেই৷ বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থে মিথ্যা কথা রটিয়েছে। অথচ খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার নিজের বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মালদা তৃণমূলশিবিরের গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!