এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ আদালত, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চান বিরোধীরা

নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ আদালত, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চান বিরোধীরা

আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে নানান বিষয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট সংশয় প্রকাশ করে। এই ঘটনার ভিত্তিতে বিরোধী দলগুলি রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করলো। অবশ্য আদালতের বিচারাধীন বিষয় বলে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রসঙ্গে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, নির্বাচনের মনোনয়ন পেশের প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন জেলায় একের পর এক হিংসা ও সন্ত্রাসের ঘটনায় বিব্রত ও বিপর্যস্ত রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি, এই অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বারবার নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে আর্জি জানায় তারা। কিন্তু এতে কোনো সুবিধা না হওয়ায় তারা কলকাতা হাইকোর্টে সমস্ত অভিযোগ জানিয়ে বিচার প্রার্থনা করে। এইভাবেই একের পরে আইনী ফাঁসে জড়িয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন সহ রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

গত শুক্রবার কমিশনের কাজে আদালত তীব্র অসন্তোষ ব্যক্ত করার পরে লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটা স্পষ্ট যে এই নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ভোটের কাজ ঠিকমতো হয়নি, হবেও না। পরিকল্পিতভাবে সংবিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। জোড়হাতে মানুষের কাছে তাই ক্ষমা চেয়ে এই কমিশনারের চলে যাওয়া উচিত। একই সুরে অভিযোগ জানিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন, এই কমিশনার ওই পদে থাকার নৈতিক অধিকার আগেই হারিয়েছেন। শাসক দল এবং রাজ্য সরকার তাঁকে হেনস্থা করছে। তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে আদালত। এর পরেও তিনি যদি দায়িত্ব না ছাড়েন, তা হলে প্রমাণ হবে তাঁর আত্মমর্যাদাবোধ একেবারেই নেই। একাধিকবার আদালতে ভর্ৎসনার শিকার হয়েও রাজ্য নির্বাচন কমিশনার এখনও কী করে নিজের পদে বহাল রয়েছেন সে বিষয়ে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবীন দেব নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই কমিশনারের উপরে নির্ভর করেই নির্বাচন প্রক্রিয়া চলবে!

অন্যদিকে সিপিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সংবিধান, আইন কোনও কিছু মেনেই কমিশন পদক্ষেপ করছে না। আদালতও কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করছে। কমিশন ভূমিকা পালন করছে না বলেই বিরোধীদের আদালতে যেতে হচ্ছে! অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে বিরোধীরা পঞ্চায়েত নির্বাচন আয়োজিত হওয়ার কোনো সম্ভবনাই দেখতে পাচ্ছেনা আগেভাগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, লাজ-লজ্জা এবং নখদন্তহীন একটা কমিশন। সকালে নির্বাচন কমিশনার যা বলেন, রাতে তার উল্টো বলেন। এখন উনি পদত্যাগ করবেন কি না, সেটা তাঁর ইজ্জত-বোধের উপরে নির্ভর করছে! বিরোধী দলের এতজন প্রতাপশালী নেতা নির্বাচন কমিশনার সম্পর্কে রিরূপ প্রতিক্রিয়া জানালেও রাজ্যের শাসক দল শুরু থেকেই এই বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছে। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় এত কিছুর পরেও নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানান, পুরো বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, এই নিয়ে কোনও রকম মন্তব্য করতে চাই না।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!