এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > করোনা আক্রান্তের খবর চাপছে কি সরকার? বিস্ফোরক দাবি বিরোধীদের

করোনা আক্রান্তের খবর চাপছে কি সরকার? বিস্ফোরক দাবি বিরোধীদের


করোনায় নতুন করে গত 24 ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে আর কারোর আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ফলে বুধবার রাতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন 37 জন। তাঁদের মধ্যে সরকারী মতে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। যদিও বেসরকারি মতে মৃতের সংখ্যা 7। কিন্তু বাকি চারজনের মৃত্যু করোনা পজিটিভ থাকার কারণে হয়েছে নাকি অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে তাঁদের মৃত্যু ঘটেছে তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিতরূপে কিছু জানা যায়নি।

তবে মুখ্যমন্ত্রী গতকালই দাবি করেছিলেন, গত দু দিনে যে চারজনের মৃত্যু ঘটেছে তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু নিউমোনিয়া এবং অন্যজন কিডনির সমস্যায় ভুগে মারা গেছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মৃতের সংখ্যা লুকানোর প্রচেষ্টাকে কটাক্ষ করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘ডেঙ্গি ছিল অজানা জ্বর, আর কোভিড ১৯ এখন নিউমোনিয়া ও কিডনির সমস্যা।’

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতে পিছপা হননি। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘করোনা ভাইরাস জনিত মৃত্যু হয় নিউমোনিয়া, কিডনি ফেলের জন্য। এটা উল্টে দিলে বিপদ! মৃত্যুর কারণ চিকিত্‍সক লেখেন। মুখ্যমন্ত্রী নয়। সেটা বেআইনি হস্তক্ষেপ। রোগ চেপে রাখলে আরও বাড়ে। বাংলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা একধাক্কায় অর্ধেক’। বুধবার বিকেলে অবশ্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, ‘রাজ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৭ জনের মধ্যে ৩ জন সুস্থ। এখন ৩১ জন পজিটিভ। ওঁদের মধ্যে ১৭ জন ৪টি পরিবারের। একজনের মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়ায়, আরেক জনের মৃত্যু হয়েছে কিডনির সমস্যায়। সরকারি তথ্যের উপর চোখ রাখুন।’

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

করোনা সংক্রমণ রোধ করতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে নবান্নে সর্বদল সমন্বয়ে একটি বৈঠক হয়েছিল এবং সেখানে সবার মধ্যেই একটি রাজনৈতিক ঐক্যের ছবি ফুটে উঠেছিল। কিন্তু বাংলার রাজনীতি আছে সেই একই জায়গায়। লকডাউন এর মাঝেই ত্রাণ বিলি ব্যবস্থাকে ঘিরে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির প্রকাশ্য সংঘাত লক্ষ্য করা যায়। যা নিয়ে রীতিমতো সরগরম হয়ে ওঠে বঙ্গ রাজনীতি। আর এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল নেত্রীকে অভিযোগের ফলায় বিদ্ধ করে বলেন, ‘করোনায় এতদিন মমতা যা করেছেন, সবটাই রাজনীতি, মোটেই সেবা নয়।’

গতকাল নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরোত্তর মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির খবর ও তার জেরে ছড়ানো আতংক নিয়ে প্রবল উষ্মা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই আতঙ্ক কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়ে জানা গেছে, দিল্লির নিজামুদ্দিনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের 54 জন মুসলিম প্রতিনিধি। যদিও সরকারি দাবি, এই 54 জনকেই চিহ্নিত করে কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল, নার্সিংহোম থেকে অভিযোগ ওঠে করণা সংক্রমণ আটকাতে অতি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলির ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন বলে জানা গেছে। তাই এই মুহূর্তে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা সরকারের ভিত্তিতেই জনসাধারণের সামনে পেশ করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!