এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তাঁর ‘বন্ধুকেই’ দাঁড় করিয়ে এবার চূড়ান্ত চমক দিতে চায় বিরোধী জোট

নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তাঁর ‘বন্ধুকেই’ দাঁড় করিয়ে এবার চূড়ান্ত চমক দিতে চায় বিরোধী জোট

কেউ যদি চরম শত্রু হয় এবং তাঁকে যদি আপনি পরাজিত করতে চান, তাহলে সেই শত্রুর বিরুদ্ধে তাঁরই একদা ঘনিষ্ট বন্ধুকে দাঁড় করিয়ে জেতাতে হবে। কারন কথায় আছে, “শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু”। আর এবারের ঠিক এই নীতিকে পাথেয় করেই ২০১৯-এ কেন্দ্রে মোদী সরকারকে চাপে ফেলতে তৈরি হচ্ছে বিজেপি বিরোধী দলগুলো। সূত্রের খবর, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা চলছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বারানসী কেন্দ্র থেকে। কিন্তু হঠাৎ এ জল্পনা কেন? নীতিশ কুমার তো এখনও কেন্দ্রের এনডিএর শরিক হিসাবে রয়েছেন। এখানেই বিরোধীদের দাবি, খুব বেশিদিন আর টিকবে না মোদী-নীতিশের এই জোট। কদিন আগেই পশুখাদ্য কেলেঙ্কারী মামলায় জেলে যেতে হয়েছিল বিহারের লালুপ্রসাদ যাদবকে। এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁর জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার তাঁর সাথে কথা বলেন। আর এরপরই কিভাবে নীতিশ কুমারকে এনডিএ থেকে বের কলে এই মোদী বিরোধী জোটে সামিল করানো যায় তাঁর ছক কষতে শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টীর নেতৃত্বরা।

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

জানা গেছে, বিহারে নীতিশ কুমারকে বিরোধী জোটের প্রার্থী করার কথা প্রথমে ভাবা হলেও একদা নীতীশের সঙ্গী আরজেডির লালুপ্রসাদ যাদবের পুত্র তেজস্বী যাদব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “বেইমানের কোনোও সুযোগ নেই।” এইখানেই কংগ্রেস অবশ্য আরজেডির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। প্রসঙ্গত, বিহারের গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমে বিজেপির হাত ছেড়ে লালুপ্রসাদের আরজেডির সাথে জোট করে সরকার গঠন করে মুখ্যমন্ত্রী হন নীতিশ কুমার আর উপমুখ্যমন্ত্রী হন আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদবের পুত্র তেজস্বী যাদব।এরপর কদিন যেতে না যেতেই ফের এই জোট ভেঙে নীতিশ কুমারের জেডিইউ এর সাথে বিজেপির জোট হয়। আর বিহার বিধানসভায় বিরোধী দল হিসাবে থাকতে হয় আরজেডিকে। এই অবস্থায় কোনোওভাবেই “বেইমান নীতিশের” সাথে তাঁরা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন তেজস্বী যাদব। আর তাই শ্যাম ও কুল দুটোই ধরে রাখতে বিহার নয়, নীতিশ কুমার যদি বিরোধী জোটে যোগদান করেন তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উত্তরপ্রদেশের বারানসী লোকসভা আসন থেকেই তাঁর মত শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে দাঁড় করিয়ে মোদী ও বিজেপিকে চরম চাপে ফেলতে চায় বিরোধী জোট।

প্রসঙ্গত, ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী উত্তরপ্রদেশের বারানসী ও গুজরাতের ভাদোদরা আসন থেকে লড়েছিলেন। দুটি আসনে জিতে পরে ভাদোদরা আসনটি তিনি ছেড়ে দেন। আর উত্তরপ্রদেশের বারানসীতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কিন্তু ধারে-ভারে ও জনসমর্থনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের থেকে অনেক বেশি হেভিওয়েট প্রার্থী নীতিশ কুমার, তাছাড়া ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছিল মূলত জনসাধারণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির জোরে, আর ২০১৯-এ লড়াই হবে ৫ বছর আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কতটা তিনি পূরণ করতে পেরেছেন তার মাপকাঠিতে। ফলে সবমিলিয়ে গেরুয়া শিবিরের মুখকে নিজের কেন্দ্রেই চাপে ফেলে বেঁধে ফেলতে চাইছেন সম্মিলিত বিরোধীরা – এখন দেখার নীতিশ কুমার সেই চ্যালেঞ্জ কতটা গ্রহণ করেন। কেননা জনশ্রুতি এনডিএ জোটের প্রধানমন্ত্রী মুখ তাঁকে না করায় ২০১৪ তে জোট ছাড়েন তিনি, সুতরাং পুরোনো ‘হিসেব’ মেটানোর তাগিদ থেকে তিনি এই চ্যালেঞ্জ নেন কিনা সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!