এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ইউপিএ জামানার শেষের দিকের মতোই প্রবল বিরোধী হট্টগোলে মুলতুবি সংসদের অধিবেশন, চাপ বাড়ছে সরকারের?

ইউপিএ জামানার শেষের দিকের মতোই প্রবল বিরোধী হট্টগোলে মুলতুবি সংসদের অধিবেশন, চাপ বাড়ছে সরকারের?

পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পরই এদিন শুরু হল সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। নির্ধারিত সময় মেনেই সকাল ১১ টায় শুরু হলেও প্রথম থেকেই প্রত্যাশামতো উত্তাপ বাড়তে থাকে অধিবেশনের। সুষ্ঠুভাবে সংসদের কাজকর্ম চালাতে দিতে বিরোধীদের অনুরোধ করা হলেও তাতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি তাঁরা।

বিরোধীদের হই-হট্টগোল এতোটাই বেশি ছিল যে দুপুর দুটোর পরই মুলতুবি করতে হয় সংসদের দুই কক্ষের অধিবেশন। লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে চালানোই সম্ভব হয়নি।

১৩ ডিসেম্বর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ফের অধিবেশনে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এদিনও যে সংসদ সুষ্ঠুভাবে চলবে তার কোনও আগাম ইঙ্গিত দেননি বিরোধীরা। বুধবার বিরোধীদের তরফ থেকে নোটিশ পেশ করা হয়েছে। তাতে আরবিআই ইস্যুতে আলোচনা চেয়ে রাজ্যসভায় নোটিয় দিয়েছে তৃণমূল। রাফাল ইস্যুতে আলোচনা চেয়ে কংগ্রেসের তরফ থেকে আনন্দ শর্মা রাজ্যসভায় নোটিশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সিবিআইয়ের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা চেয়ে নোটিশ দিয়েছে আরজেডি। বিরোধীদের পাশাপাশি শরিকদলের তরফ থেকেও নোটিশ জমা পড়েছে অধিবেশনের জন্যে। বিজেপির বহুদিনের বিশ্বস্ত শরিকদল শিবসেনা রামমন্দির ইস্যুতে আলোচনার জন্যে নোটিশ দিয়েছে।

বিরোধীদের পাশাপাশি শরিকদলের আক্রমণে অধিবেশনে নাস্তানাবুদ অবস্থা হবে, এমনটা ভালোই বুঝতে পেরেছে বিজেপি বুধবারের পরিস্থিতি দেখে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। কিভাবে বিরোধী এবং শরিকদলের আক্রমণ থেকে বাঁচা যায় তা নিয়ে রীতিমতো আলোচনা শুরু হয়েছে বিজেপি শিবিরের শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে এমনটাই খবর দলীয় স্তরে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

১৯’এর লোকসভা ভোটের আগে এটাই শেষ পূর্নাঙ্গ অধিবেশন। কাজেই, এই অধিবেশন বিরোধীদের কাছে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ১১ডিসেম্বর থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় মাস খানেক চলবে এই অধিবেশন। এরমধ্যেই ২০ টি অধিবেশন চলবে।

কাজেই বোঝাই যাচ্ছে সরকারের হাতে সময় কতটা কম। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই ৪৩ টি বিল পাস করাতে হবে মোদী সরকারকে। এর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিন তালাক বিল। যেটি আগেই লোকসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় রাজ্যসভায় আটকে রয়েছে বিলটি।

উল্লেখ্য, এই সপ্তাহেই প্রকাশিত হয়েছে পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা ভোট। অপ্রত্যাশিত ভাবে তিনটি রাজ্যেই কোনঠাসা অবস্থা বিজেপির। জয়ের তিলক উঠেছে কংগ্রেসের ললাটে। লোকসভা ভোটের আগেই বিজেপির ভরাডুবি অবস্থা। আর এই প্রেক্ষিতে বিরোধীদের একমাত্র লক্ষ্য এখন বিজেপিকে আরো কোনঠাসা করা।

১৯’এর নির্বাচনের আগে গেরুয়াশিবিরের মনোবল আরো নষ্ট করা গেলে জয়ের পথের কাঁটা সরবে বলেই মনে করছে বিরোধীরা। তাই আরবিআই, রাফাল চুক্তি, নোটবন্দি, সিবিআই-এর আভ্যন্তরীন সমস্যা সহ একাধিক ইস্যুকে অস্ত্র বানিয়ে শীতকালীন অধিবেশনে বিজেপিকে আক্রমণের প্ল্যান করেছে বিরোধী শিবির।

পিছিয়ে নেই শরিকদলও – এই প্রেক্ষিতে বিরোধীদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এবং দলীয় ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে মোদী-শাহের কৌশল কী হবে সেটা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইউপিএ জামানার শেষের দিকে যেভাবে এনডিএ সংসদ প্রায় অচল করে সরকারের উপর চাপ বাড়িয়েছিল – ৫ বছর বাদে সেই একই ফর্মুলায় এবার সরকারের ঘুম ওড়াতে আসরে অবতীর্ন হবেন বিরোধীরা।

Top
error: Content is protected !!