এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > দলে নতুনদের কাজ করার সুযোগ দিয়েও দলনেত্রীর নির্দেশে পুরোনো কর্মীদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়ার নিদান যুবরাজের

দলে নতুনদের কাজ করার সুযোগ দিয়েও দলনেত্রীর নির্দেশে পুরোনো কর্মীদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়ার নিদান যুবরাজের

১৯’এর ব্রিগেড সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে তোড়জোড় শুরু হলেও গোষ্ঠীকোন্দলে রমরমা ঘোর দুশ্চিন্তায় ফেলেছে শাসকদলকে। রাজ্যের সর্বত্র পুরানো তৃণমূল সমর্থকের সঙ্গে যুবদের মনোমালিন্য প্রকাশ্যে আসছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতেই মাদার বা যুবর নাম না করেই দলের প্রবীন কর্মীদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার ডাক দিলেন যুব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

গতকাল দুপুরে পানিহাটির ঘোলা নেতাজি সঙ্ঘের মাঠে সভা করলেন তিনি। অভিষেক বাবুর সঙ্গেই একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থ ভৌমিক, স্থানীয় বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সংসদ সদস্য দীনেশ ত্রিবেদি, সৌগত রায়, বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত, অর্জুন সিং,শুভ্রাংশু রায় সহ জেলার একাধিক বিধায়ক, অধিকাংশ পুরসভার চেয়ারম্যানরা।

সভায় উপস্থিত হাজার হাজার কর্মী সমর্থকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বললেন, ১০ বছর ধরে দলে রয়েছেন,এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পুরানো কর্মীরা গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলেই অভিযোগ কানে এসেছে। তাই যুবদের উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা পৌছে দিলেন অভিষেক। বললেন,’দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, নতুন ও পুরনো কর্মীদের সংমিশ্রণে দল শক্তিশালী হয়। নতুন কর্মীরা যোগ্য হলে তাদের সম্মান দিয়ে কাজ করাব। তবে প্রথম দিন থেকে যাঁরা দল করে আসছেন, তাদের যথাযোগ্য সম্মান ও গুরুত্ব দিতে হবে।’

তাছাড়া আগামী লোকসভা নির্বাচনের জন্য ১৯ জানুয়ারির ব্রিগেড সমাবেশের গুরুত্ব যে কতোখানি সেটাও বোঝালেন সভায়। বললেন,১৯’এর সমাবেশ কেবল তৃণমূল কংগ্রেসের নয়,জাতীয় এবং সংসদীয় স্তরের বিজেপি বিরোধী নেতৃত্বরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরে শক্তিশালী করতে অঙ্গীকার নেবেন ব্রিগেড সভায়। জানালেন,বিহারের আরজেডি, উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টি, আপের অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু সহ সকলেই ব্রিগেডে আসার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন। এই সভা থেকে বিজেপিমুক্ত ভারত গঠনের দাবীকে আরো জোরদার করা হবে।

প্রসঙ্গে জানালেন,আগামী লোকসভা ভোট স্বাধীনতা আন্দোলেনের থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই এই চার-পাঁচ মাস সময়ের মধ্যেই সাংগঠনিক শক্তিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন দলীয় কর্মী সমর্থকদের। সঙ্গে জেলা,ব্লক স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশও দিলেন তিনি।

এর পাশাপাশি বিজেপিকে বিঁধতে ভুললেন না তৃণমূলের এই প্রথম সারির নেতা। রাজ্য বিজেপি প্রস্তাবিত রথযাত্রাকে ‘রাবনযাত্রা’ বলেই কটাক্ষ করলেন তিনি। বললেন,”একটি এসি বাস নিয়ে এসে বলছে রথ। সেখানেই ওরা ফূর্তি করবে। এখন রথের বদলে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ যাত্রা বলছে। আমরা বলছি, গণতন্ত্র নয়, ওদের ‘বিজেপি বাঁচাও’ যাত্রা করা দরকার।”

পাশাপাশি রাজ্যবাসীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,আসন্ন ১৯’এর নির্বাচনে ৪২ টি লোকসভা আসনে জোড়াফুল ফুটলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন ভারত উপহারে পাবে আমজনতা। বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে আরো জানালেন,রথযাত্রার নামে রাজ্যে বিভেদের রাজনীতি করতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু বিজেপির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার প্রয়াস সফল হবে না বলেও হুঁসিয়ারীতে জানালেন তিনি।

মানুষ যে বিজেপিকে আর চায় না তার প্রমান দিয়েছে সম্প্রতি হওয়া পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। বললেন, হিন্দিবলয়ের তিনটি রাজ্য (মধ্যপ্রদেশ,ছত্তিশগড়,রাজস্থান)-এ ৯০% এর বেশি মানুষ হিন্দু। এরাই বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে প্রমান করে দিয়েছে তারা কতোটা বিজেপিবিমুখ এখন। কথাসূত্রে এদিন মনে করিয়ে দিলেন ডোমজুড়ের সভায় তাঁর বলা বক্তব্য-‘আমি একবার বলেছিলাম, ২০১৯ সালে বিজেপি ফিনিস হয়ে যাবে। তার আগেই ওদের ভোকাট্টা হয়ে গিয়েছে।’

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

উল্লেখ্য,এদিন তৃণমূল যুবনেতার সভায় রেকর্ড পরিমান ভীড় হয়েছিল। সপ্তাহের শেষ দিনের ব্যাপক যানজটের সম্মুখীন হন আমজনতা। বেলা সাড়ে ১২টার পর থেকে সোদপুর-মধ্যমগ্রাম রোড দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বেলা ১টার পর কোনও যানবাহন চলাচল করেনি। সেইসময় থেকেই সোদপুর-মধ্যমগ্রাম রোড জুড়ে হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মিছিল ছিল দেখার মতো।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!