এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > জেনে নিন অটল বিহারি বাজপেয়ীর রাজনৈতিক জীবনের অজানা কাহিনী – জনসঙ্ঘের দিন

জেনে নিন অটল বিহারি বাজপেয়ীর রাজনৈতিক জীবনের অজানা কাহিনী – জনসঙ্ঘের দিন

ভারতীয় রাজনীতিতে ইন্দ্রপতন – চলে গেলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী। আজ সাড়ে ৫ টায় এইমস কর্তৃপক্ষের তরফে মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশে জানানো হল – তাঁর জীবনাবসানের কথা। মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হল বিকেল ৫:০৫ মিনিটে তিনি অমৃতলোকের পথে যাত্রা করেছেন। ৯৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন।

ভারাক্রান্ত হৃদয়ে একদিকে যখন চলছে অটল বিহারি বাজপেয়ীর আত্মার চিরশান্তি প্রার্থনা, অন্যদিকে তখন চলছে তাঁর স্মৃতিচারণ। আসুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক অটল বিহারি বাজপেয়ীর প্রথম দিকের রাজনৈতিক জীবন –

১. রাজনীতির জগতে প্রথম প্রাদপ্রদীপের আলোয় আসেন ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়ে। ১৯৪২ সালে এই জন্য তাঁকে ও তাঁর জ্যেষ্ঠ্য ভ্রাতাকে জেলে যেতে হয় ২৩ দিনের জন্য। পরে আর কোনো ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে থাকবেন না এই মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান দুজনে।

২. মহাত্মা গান্ধীর হত্যার পর ১৯৪৮ সালে আরএসএসকে ব্যান করে দেওয়া হয়, আবার ফলে বাধা পায় রাজনৈতিক কার্যক্রম।

৩. কিন্তু ১৯৫১ সালে তাঁকে ও দীনদয়াল উপাধ্যায়কে আরএসএস-এর তরফ থেকে ভারতীয় জনসঙ্ঘে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি পান জাতীয় সম্পাদকের দায়িত্ত্ব আর তাঁর কাজের পরিধি হয় গোটা উত্তর ভারত এবং দিল্লি।

৪. এরপরেই তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ছত্রছায়ায় আসেন – হয়ে ওঠেন তাঁর প্রিয়তম শিষ্য। ১৯৫৪ সালে যখন কাশ্মীরে গিয়ে অ-কাশ্মীরি ভারতীয়দের হয়ে আমৃত্যু অনশন শুরু করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, তখন তাঁর পাশে ছিলেন পুত্রসম অটল বিহারি বাজপেয়ী।

৫. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জেলের মধ্যেই মৃত্যু হলে শোকের আগুনে নিজেকে দগ্ধ করে ‘গুরুর’ লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ নেন শিষ্য অটল বিহারি বাজপেয়ী।

৬. ১৯৫৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে মথুরা কেন্দ্র থেকে রাজা মহেন্দ্র প্রতাপের কাছে হেরে গেলেও, বলরামপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে লোকসভায় পা রাখেন সাংসদ হিসাবে।

৭. তাঁর বাগ্মিতায় মুগ্ধ হয়ে আমেরিকা সফরে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু বলেছিলেন – যিনি একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। যদিও দুজনের রাজনৈতিক ভান-চিন্তা ছিল সম্পূর্ণ মেরুতে।

৮. অসাধারণ বাগ্মিতার জন্য শীঘ্রই জনসঙ্ঘের মুখ হয়ে উঠতে থাকেন অটল বিহারি বাজপেয়ী। দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর জনসঙ্ঘের সব দায়িত্ত্ব কার্যত তাঁর কাঁধে এসে পরে।

৯. ১৯৬৮ সালে তিনি জনসঙ্ঘের সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। আর এরপর নানাজি দেশমুখ, বলরাজ মাদহোক ও লালকৃষ্ণ আডবানীকে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন জনসঙ্ঘকে।

Top
error: Content is protected !!