এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > নুসরাতকে ফতোয়া দেওয়া নিয়ে তৃণমূল সাংসদের পাশে কংগ্রেস- বিজেপি, চুপ তৃণমূল, বাড়ছে জল্পনা

নুসরাতকে ফতোয়া দেওয়া নিয়ে তৃণমূল সাংসদের পাশে কংগ্রেস- বিজেপি, চুপ তৃণমূল, বাড়ছে জল্পনা

কথায় আছে, “যার বিয়ে তার হুঁশ নাই, পাড়া পড়শীর ঘুম নাই।” বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ নুসরাত জাহানকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে যখন তার পাশে দাঁড়াচ্ছে কংগ্রেস থেকে বিজেপি সমস্ত রাজনৈতিক দল, ঠিক তখনই এই ব্যাপারে সম্পূর্ণরূপে নীরব থাকতে দেখা গেল সেই নুসরাত জাহানের দল তৃণমূল কংগ্রেসকে। যা দেখে অনেকেই বলছেন, এ আসলে যে পাত্রের বিয়ে হচ্ছে, সেই পাত্রেরই তাঁর বিয়ের ব্যাপারে কোনো হুশ নেই।

প্রসঙ্গত, সংখ্যালঘু পরিবারের মেয়ে হিসেবে পরিচিত বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরাত জাহানের সম্প্রতি নিখিল জৈনের সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। আর এরপরই রীতিমতো শাঁখা-সিঁদুর পরে হিন্দু সাজে সজ্জিত হয়ে সংসদে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে সেই নুসরাত জাহানকে। যা নিয়ে মুসলিমদের একাংশ সেই নুসরাতের বিরুদ্ধে গিয়ে তার প্রবল সমালোচনা করেছে।

এমনকি ব্যাপারে মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে ফতোয়া জারি হয়েছে সেই নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে। যার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিশিষ্ট অভিনেত্রী তৃণমূল সাংসদ হলেও সমস্ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে তার পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে বিজেপির সাধ্বী প্রাচী এবং দেবশ্রী চৌধুরীর মত সাংসদদের। রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বলেন, “এটা পাকিস্তান নয়, এটা ভারতবর্ষ। এখানে কোনো ফতোয়া চলে না। নিজের ধর্ম নিয়ে পরিচয় দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার সকলেরই রয়েছে।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

তবে শুধু বিজেপি নয়, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিষেক মনু সিংভিও এদিন নুসরাত জাহানের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এদিন এই প্রসঙ্গে এই কংগ্রেস নেতা বলেন, “নুসরাতের যথেষ্ট অধিকার রয়েছে নিজের ইচ্ছে মত বিয়ে করার। কোনো মতেই ও কোনো আইন ভঙ্গ করেনি।”

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে তৃণমূলের বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত কংগ্রেস এবং বিজেপি নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে মুসলিম সমাজের ফতোয়ার বিরোধিতা করলেও এই ব্যাপারে কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছে বাংলার শাসক দল। সমালোচকদের অনেকে বলছেন, মুসলিম সমাজের কেউ অপমানিত হলে তৃণমূল সেই গোটা ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক বলে আখ্যা দেয়। কিন্তু তার দলের সাংসদ নিজের মন মত হিন্দু ধর্মে বিবাহ করায় মুসলিম সমাজের কাছ থেকে ফতোয়া পেলেও তৃণমূল এই ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছে।

আসলে সংখ্যালঘু প্রীতি রাজ্যের শাসক দলের কাছে তোষনে পরিণত হয়েছে। আর তাই তারা চোখ থাকতেও অন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের।

তবে তৃণমূল অবশ্য বিরোধীদের এহেন দাবিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। কিন্তু বিরোধীদের পক্ষ থেকে যে যুক্তি খাড়া করা হয়েছে, তাতে কিছুটা হলেও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।

তাদের একটাই প্রশ্ন, যেখানে দলের সাংসদ রীতিমতো মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকে ফতোয়া পেয়ে অপমানিত হচ্ছে, সেখানে বিরোধীরা সেই নুসরাতের পাশে দাঁড়ালেও কেন তৃণমূল এই ব্যাপারে মুখ খুলছে না! সব মিলিয়ে এবার তৃণমূল সাংসদ নুসরাত জাহানকে ফতোয়া দেওয়া প্রসঙ্গে তৃণমূলের অবস্থান নিয়েই তীব্র ধোঁয়াশা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!