এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > এনআরসি নিয়ে রাজ্যবাসীর দুশ্চিন্তা হঠাতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ গেরুয়া শিবিরের

এনআরসি নিয়ে রাজ্যবাসীর দুশ্চিন্তা হঠাতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ গেরুয়া শিবিরের

রাজ্যজুড়ে বিগত লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির জয়লাভের পর বিজেপির দোষ ত্রুটি বার করে তাদেরকে আক্রমণ করতে মরিয়া রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এমতাবস্থায় জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এনআরসি এবং সেই সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক বাঙালি পরিবারের নাম নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়ায় একটা বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে আর।

এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শাসকদলের অন্যান্য নেতা মন্ত্রী,বিধায়করা রীতিমত তৃণমূল স্তরে আক্রমণ চালাতে শুরু করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি বিরোধী এই প্রচারের মূল লক্ষ্য ছিল, পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী অসংখ্য উদ্বাস্তুদের মধ্যে বিজেপি বিরোধী মানসিকতা তৈরি করা। সেই লক্ষ্যে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

কিন্তু গত মঙ্গলবার কলকাতা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম এসে ভারতবর্ষের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ কার্যত স্পষ্টই জানিয়ে গেছেন, প্রথমে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল আসতে চলেছে। যার জেরে ভারতবর্ষে বসবাসকারী পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্থান থেকে আসা অসংখ্য হিন্দু-বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিষ্টান, জৈন শরণার্থীরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন।

এদিনের সভায় অমিত শাহ স্পষ্ট উল্লেখ করে বলে দেন, এই নাগরিকত্ব পেতে তাদেরকে কোনো কাগজের টুকরো প্রদর্শিত করতে হবে না। প্রথমে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল আসবে। তারপরে সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত শরনার্থীদেরকে ভারতের নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। তারপরে পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী লাগু হবে। আর অমিত শাহের এই বক্তব্যের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এতদিন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি বিরোধিতায় উদ্বাস্তুদের সবথেকে বেশিরভাগ উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছিল। অমিত শাহের বক্তব্যের পর তাদের মধ্যে বিজেপি সম্পর্কে বিশেষ অনুরাগ সৃষ্টি হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আর অমিত শাহের এই বক্তব্যের পরই কার্যত তৃণমূলের এনআরসি প্রচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আনতে দেখা যাচ্ছে জেলাস্তরের বিজেপি নেতৃত্বদেরকে। আর যার সর্বপ্রথম সূচনা করতে চলেছে বিজেপির কোচবিহার জেলা কমিটি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

এদিন এই বিষয়ে কোচবিহারের জেলা বিজেপি সভাপতি মালতি রাভা বলেন, “মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল। সব স্পষ্ট করে দিয়েছেন আমাদের সর্বভারতীয় নেতা। এবারে সেই বার্তা পৌঁছে দেব আমরা।” বিশ্লেষকদের মতে, জেলাস্তরে বিজেপির এই প্রচার যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক হতে চলেছে বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের প্রচারে বিন্দুমাত্র দেরি করতে চায় না ভারতীয় জনতা পার্টির জেলা নেতৃত্ব। এনআরসি এবং সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিলের সম্পর্কে অমিত শাহ যে বার্তা দিয়ে গেছেন, সেই বার্তাই একেবারে তৃণমূল স্তরে জনগণের মধ্যে প্রচার করে দিতে চায় গেরুয়া শিবির। আর সেই প্রচারের জন্য শারদ উৎসবের সময় কি বেছে নিয়েছে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি!

সূত্রের খবর, বড়সড় জনসভা করার অপেক্ষায় ছোট ছোট বৈঠকের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে নিজেদের স্বচ্ছ ধারাকে মানুষের মধ্যে প্রভাবিত করা এবং উৎসবের মধ্যে শারদীয়া আড্ডা বসিয়ে তার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জনগণের মধ্যে স্পষ্ট করে দেওয়াই এখন বিজেপির উদ্দেশ্য।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অসমে এনআরসি চালুর পরপরই বঙ্গ বিজেপি থেকে এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে পশ্চিমবাংলায় এনআরসি চালু করা এবং তা কার্যকর করার দাবি ওঠে। বিজেপির অনেক সাংসদ থেকে শুরু করে নেতাদের বলতে শোনা যায়, পশ্চিমবাংলায় এনআরসি হলে 2 কোটি নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়বে। আর এই নিয়েই জনমানসের মধ্যে প্রবল চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। 1971 সালের আগের দলিল, দস্তাবেজ জোগাড় করার জন্য তৎপরতা লক্ষ করা যায় জনমানসের মধ্যে। আর মানুষের এই উৎকণ্ঠাকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা যায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে।

কিন্তু রাজনীতিতে চানক্য বলে পরিচিত অমিত শাহ এত সহজে যে তৃণমূলের হাতে নিজেদের বিরোধিতা করার অস্ত্র তুলে দেবে না, সেই বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত ছিল রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। আর বিশেষজ্ঞদের আশা মোতাবেক, বিজেপি কেন্দ্রীয় সভাপতি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার নিজের তুরুপের তাস খেলে গেল বলে মনে করছে অভিজ্ঞরা। বরাবরই হিন্দুত্বের রাজনীতি করতে অভ্যস্ত ভারতীয় জনতা পার্টি। সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল এনে রাজ্যের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়কে খুশি রেখে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিকে যে আরও শক্ত করল, তা নিয়ে দ্বিমত নেই বিশ্লেষকদের মনে।

আর এবার এনআরসি নিয়ে লাগাতার বিজেপির প্রচারের ফলে যে সমস্ত উদ্বাস্তু মানুষ ভীত, সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল, তাদের মধ্যে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পথে হাঁটতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। অনেকের মতে, কেন্দ্রীয় বিজেপি বুঝতে পেরেছে তৃণমূলের প্রচারের ফলে এবং এনআরসি নিয়ে রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বের মন্তব্যকে ঘিরে বিজেপির প্রতি কিছুটা মোহভঙ্গ ঘটেছিল ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে থাকা রাজ্যের উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে।

যার ফলে লোকসভা নির্বাচনে নিজেদের ফল ভালো করা সত্ত্বেও কোচবিহার থেকে শুরু করে জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর থেকে শুরু করে দক্ষিণ দিনাজপুর এলাকায় তৃণমূলের কাছে কার্যত অনেকটাই শক্তিহীন বলে মনে হচ্ছিল ভারতীয় জনতা পার্টিকে। তৃণমূলের কাছ থেকে যে সমস্ত পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির মধ্যে চলে এসেছিল গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর, এনআরসি নিয়ে অতি উক্তির জেরে সেই সমস্ত পঞ্চায়েত, জেলাপরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি আবার তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায় যত্রতত্র সর্বত্র।

সূত্রের খবর, এই গতিবিধি লক্ষ্য করেই রাজ্যে এনআরসি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে গেলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি। শুধু তাই নয়, সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল নিয়ে মন্তব্য করে রাজ্যের উদ্বাস্তু হিন্দু সমাজের মধ্যেও নিজেদের প্রভাব অনেকটাই বাড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। আর অমিত শাহের এই চেষ্টার পরে জেলাগুলিতে এনআরসি নিয়ে এবং সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল নিয়ে মুখর হতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি।

এদিন এই প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলার বিজেপি সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী জানান, “প্রচার শুরু করা হয়েছে। পুজোর সময় স্টলে ফ্লেক্স লাগিয়ে সেসব প্রচার করা হবে। এছাড়াও এই সংক্রান্ত পুস্তক পুস্তিকা ছাপানো হবে। তৃণমূলের মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে বিজেপির অবস্থান পরিষ্কার হয়ে যাবে।” রাজ্য রাজনীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আগত উদ্বাস্তু হিন্দুদের সংখ্যা অনেকটাই বেশি।

গত লোকসভা নির্বাচনে তাদের মধ্যে অনেকাংশই ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানিয়েছিল। এনআরসি নিয়ে প্রচারে তাদের মধ্যে অনেকেই ভীতসন্ত্রস্ত হতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাগরিকত্ব বিল নিয়ে আলোচনার পরই বিজেপি সম্পর্কে সেই সমস্ত উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মানুষদের অনুরাগ আবার বৃদ্ধি হতে শুরু করেছে। এখন এনআরসি নিয়ে তৃণমূল- বিজেপির এই দড়ি টানাটানি খেলায় শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি কে হাসে! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!