এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > এনআরসি নিয়ে -মাথা ন্যাড়া করে ঘোল ঢেলে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার নিদান তৃণমূল নেতার, জোর বিতর্ক

এনআরসি নিয়ে -মাথা ন্যাড়া করে ঘোল ঢেলে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার নিদান তৃণমূল নেতার, জোর বিতর্ক

জাতীয় নাগরিক পঞ্জী আইন নিয়ে ইতিমধ্যে সারা দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এ রাজ্যে প্রথম থেকেই নাগরিকপঞ্জি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজপথে নেমে তিনি প্রতিবাদ করেছেন। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ মিছিল থেকে সারাদেশের অবিজেপি রাজনৈতিক দলগুলিকে একজোট হয়ে প্রতিবাদের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এবার তৃণমূলের আরেক সদস্য অনুব্রত মণ্ডল এনআরসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করলেন। লাভপুরে এনআরসির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক সমালোচনার শীর্ষে উঠে এলেন।

তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে সারা রাজ্য জুড়ে চলছে এনআরসি বিরোধী মিছিল এবং সভা। সেরকমই একটি সভা ছিল বীরভূমের লাভপুরে। এই সভা থেকেই বিতর্কিত মন্তব্য করলেন তৃণমূল সদস্য অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বললেন, যদি কেউ বাড়িতে এনআরসি সংক্রান্ত সমীক্ষা করতে আসেন, তাহলে তাকে মাথা ন্যাড়া করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি দিল্লির জহরলাল নেহেরু ইউনিভারসিটিতে সাম্প্রতিক হওয়া পড়ুয়া ও অধ্যাপিকার ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা করলেন এদিন।

এন আর সি ও সিএএর বিরুদ্ধে সারা রাজ্য জুড়ে তীব্র বিক্ষোভ চলছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল প্রতিনিয়ত কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আওয়াজ বাড়াচ্ছে। সোমবার লাভপুর পঞ্চায়েত সমিতির মাঠে বিশাল সভা হয় এনআরসির প্রতিবাদে। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, বোলপুরের সংসদ সদস্য‌ অসিত মাল সহ লাভপুর ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব। সরাসরি কলকাতা থেকে লাভপুর পৌঁছে অনুব্রত মণ্ডল নিজের বক্তৃতা শুরু করেন। প্রথম থেকেই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। আর এরপরই তিনি সেই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। পরিষ্কার করে তিনি তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে দেন, নাগরিকপঞ্জির জন্য যদি কেউ বাড়ি এসে সমীক্ষা চালিয়ে জানতে চায় বাড়িতে কি কি আছে, তাহলে কোন প্রমাণ না দিয়ে, কোন কথা না বলে মাথা ন্যাড়া করে ঘোল ঢেলে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সুরে সুর মিলিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করেন পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি রুখে দেবার কথা বলে।

এদিন অনুব্রত মণ্ডল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত খারাপ ঘটনা ঘটেছে। এবিভিপি গুন্ডারা গিয়ে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাদের ক্ষমতা থাকলে পশ্চিমবঙ্গের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কাজ করুক, তাদের মার দিয়ে নোংরামি বের করে দেব। তিনি আরও বলেন, ওরা যদি মুখে কাপড় বেঁধে থাকে তাহলে এখানে মুখে মুখোশ পরে থাকবে। এখন তো আবার হনু টুপি বেরিয়েছে। তারপর মাথা থেকে পা পর্যন্ত বেধড়ক মার দিয়ে দেবে।” যদিও মারধরের প্রসঙ্গ ওঠাতে তিনি অবশ্য স্পষ্ট ভাবে কে বা কারা মারধর করবে সে প্রসঙ্গে কিছু বলতে পারেননি।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জী নিয়ে ইতিমধ্যে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রতিবাদের ঝড় ক্রমশ সাইক্লোনের আকার ধারণ করছে। অন্যদিকে, কলকাতাতেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একনাগাড়ে এনআরসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে চলেছেন, প্রতিবাদ সভা ও মিছিল এর মধ্য দিয়ে। এর সাথে তিনি দেশের সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এনআরসি নিয়ে যেভাবে সারা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, তাতে খুব স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে। আপাতত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এনআরসি ইস্যুতে কোন দিকে মোড় নিতে চলেছে সেদিকে নজর রয়েছে দেশের ওয়াকিবহাল মহলের।

 

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!