এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > চেষ্টাই সার, এবার রাজ্যের হেভিওয়েট দুই মন্ত্রীর সামনে এনআরসি আতঙ্ক, চাপে শাসকদল

চেষ্টাই সার, এবার রাজ্যের হেভিওয়েট দুই মন্ত্রীর সামনে এনআরসি আতঙ্ক, চাপে শাসকদল

 

অসমে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সেখানে অনেক হিন্দুর নাম বাদ গিয়েছে বলে দাবি করতে দেখা যায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে। আর অসমের পর বাংলাতেও এনআরসি করা হবে বলে মাঝেমধ্যেই বিজেপি নেতাদের মন্তব্যে প্রবল জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রথম থেকেই এইসব মন্তব্যে কান না দিয়ে তিনি থাকতে বাংলায় কোনো এনআরসি হতে দেবেন না বলে জানিয়ে দেন তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবুও এনআরসি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক যেন কাটছে না কিছুতেই। আর কিছুদিন পরেই রাজ্যের 3 কেন্দ্রের বিধানসভা উপনির্বাচন। ইতিমধ্যেই এই তিন কেন্দ্রে বিজেপির বিরুদ্ধে এনআরসি ইস্যুকে হাতিয়ার করে প্রবল চাপ বাড়াচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।

যেখানে তারা থাকতে রাজ্যে কখনই এনআরসি হবে না বলে জানিয়ে দিচ্ছেন প্রচার পর্বে শামিল হওয়া তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা, মন্ত্রীরা। কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রচার করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কের সামনে উপস্থিত হতে হল রাজ্যের দুই মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

সূত্রের খবর, এদিন কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী তপন দেব সিংহের সমর্থনে বোচাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের তরঙ্গপুর শ্মশানমাঠে একটি জনসভার আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে বক্তব্য রাখতে উপস্থিত হন রাজ্যের দুই মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন রাজ্যের দুই মন্ত্রী দলীয় প্রার্থীর হয়ে মঞ্চে ওঠার সময় তাদের সামনে এসে দাঁড়ান কৃষক রফিকুল ইসলাম এবং ভুটভুটি চালক মানব দেবশর্মা। যেখানে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী সামনে এই কৃষক এবং ভুটভুটি চালক এনআরসি আতঙ্কের কথা তুলে ধরেন।

তারা বলেন, “স্যার, আমাদের পূর্বপুরুষরা 1975 সালে বাংলাদেশ থেকে কালিয়াগঞ্জে এসে বসবাস করছেন। এখন শুনছি, এনআরসি হলে 1951 না হয় 1971 সালের আগের জমির দলিল দেখাতে হবে। না পারলে নাকি আমাদের নাগরিকত্বের অধিকার থাকবে না। আমাদের ধরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। খুব আতঙ্কে রয়েছি স্যার, কিছু করুন।” আর দুই ব্যক্তির মুখ থেকে এই কথা সুরে বিজেপির বিরোধিতায় সরব হওয়ার ঘটনাকে আরও বাড়িয়ে দেয় তৃণমূল।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিন এই দুইজনকে আশ্বস্ত করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনারা রেশন কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সংশোধন বা জমির সংগ্রহের জন্য বিএলআরও অফিসে ছোটাছুটি করবেন না। বিজেপি যতই চেষ্টা করুক, এখানে এনআরসি হবে না। আপনারা নিশ্চিন্তে এবং নির্ভয় থাকুন। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করুন।” অন্যদিকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এনআরসি রুখতে তৃণমূল এক নদী রক্ত দিতেও প্রস্তুত রয়েছে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এদিন শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনেকটাই রাজনৈতিক ফায়দা চলে এল। কেননা যখন বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তারা এনআরসিকে হাতিয়ার করছে, তখন সাধারণ মানুষের দুই প্রতিনিধি তাদের সামনে এসে এনআরসির আতঙ্কের কথা বলায় তারা কোনমতেই এনআরসি হতে দেবে না বলে সেই সাধারণ মানুষের পাশে থাকার যেমন বার্তা দিলেন, ঠিক তেমনই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে জনমতকে নিজেদের বাগে আনার চেষ্টা করলেন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

যদিও বা এই ব্যাপারে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল সরব হলেও পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। এদিন এই প্রসঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির সভাপতি নির্মল দাম বলেন, “সারদা, নারদা, চিটফান্ড কাণ্ডে জড়িতদের কোনো কথার গুরুত্ব দিচ্ছে না বিজেপি। এনআরসি কার্যকর হলেও কালিয়াগঞ্জের বৈধ নাগরিকদের কোনো সমস্যা হবে না।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এনআরসি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি এমনিতেই উত্তপ্ত। আর কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেখানে এদিনকার এই ঘটনা শাসক-বিরোধী তরজাকে আরও বাড়িয়ে দিল। তবে এই এনআরসিকে ইস্যু করে ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর সকল পর্যবেক্ষকদের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!