এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > এনআরসি নিয়ে বিরোধী- অপপ্রচার রুখতে ডিসেম্বরেই বড়সড় “মাস্টারস্ট্রোক” দিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার

এনআরসি নিয়ে বিরোধী- অপপ্রচার রুখতে ডিসেম্বরেই বড়সড় “মাস্টারস্ট্রোক” দিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার

এনআরসি নিয়ে বরাবরই ভারতীয় জনতা পার্টিকে কাঠগড়ায় তুলে আসছে অসম পশ্চিমবঙ্গ সহকারে রাজ্যের এবং দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। যার মূলে ছিল, জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর কারণে বাদ পড়ে যাওয়া মানুষদের স্থিতি কিন্তু অসমবাসী দাবিদাওয়া মোতাবেক অনেক আগে থেকেই এনআরসির রূপরেখা স্থির হয়ে গিয়েছিল।তাই বিরোধীরা যাই বলুক না কেন, নিজেদের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ায়নি ভারতীয় জনতা পার্টি।

তবে অসমের এনআরসির মূল তালিকা তৈরি হয়ে গেলে দেখা যায় কুড়ি লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়েছে সেই তালিকা থেকে। যার কারণে বাদ পড়া সেই মানুষগুলো বর্তমানে আইন সিদ্ধভাবে দেশহারা আর বাদ পড়া সেই মানুষদের মধ্যে একটা বড় অংশের মানুষ অমুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই গোটা ভারতবর্ষে হিন্দুত্বের রাজনীতি করা ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে এই ঘটনা বড়ই দুঢ়হ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তার উপরে মূলত পশ্চিমবঙ্গে অসমের এনআরসিতে বাদ পড়া হিন্দু উদ্বাস্তুদের পরিস্থিতিকে দেখিয়ে আসরে নেমে পড়েছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু হিন্দুদের সংখ্যা খুব বেশি। মূলত দেশভাগের পর সবচেয়ে বেশি হিন্দু পূর্ববঙ্গ থেকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিল পশ্চিমবাংলায়। আর শুধু দেশভাগের সময় নয়, যখন যখন প্রতিবেশী দেশগুলিতে যুদ্ধের মত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়েছে, তখন তখনই সেই সমস্ত দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এসে আশ্রয় গ্রহণ করেছে ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে।

যার মধ্যে বাংলায় প্রবেশকারী হিন্দুদের সংখ্যা সবচাইতে বেশি। তাই আগামী দিনে যে ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গের নিজেদের শাসন কায়েম করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়েছে, তাদের পক্ষে নিজেদের মূল ভোটব্যাঙ্ক হিন্দু সম্প্রদায়কে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। আর এনআরসিতে অসমে হিন্দুদের নাম বাদ পড়ে যাওয়াতে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছিল বঙ্গ বিজেপি বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এবার নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে এবং নিজেদের সম্পর্কে যে কোনো রকমের অপপ্রচারকে রুখতে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপি সূত্রের খবর, ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল আনতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার। যার জেরে 31 শে ডিসেম্বর 2014 সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন সম্প্রদায়ের মানুষদেরকে ভারতের নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে।

সেক্ষেত্রে তাদেরকে কোনো বিশেষ নথিপত্র প্রদর্শিত হবে না। ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে যুক্তি, যে সমস্ত অমুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নাম এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে, তাদের কেউ সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিলের মাধ্যমে ভারতের নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু আইনগত সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি। কারণ অসমে যে আইন করা হয়েছিল, তাতে জাতি বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে আরও নাম যোগ দেওয়ার কোনো কথা উল্লেখ ছিল না।

বহিরাগত যেকোনো ব্যক্তি যারা ভারতের নাগরিক নয়, তাদেরকে এনআরসি থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ ছিল। কাজেই আগামীতে যদি সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ভারতীয় জনতা পার্টি আনতে চায়, সেক্ষেত্রে অসমের আইনকে আগে সংশোধনী এনে সিটিজেনশিপ আমেন্ডমেন্ট বিলের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তারপরে সেই বিল কার্যকর হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

তাই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকার সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল আনার আগেই অসমের বিজেপি সরকার নিজেদের পুরনো বিলে সংশোধনী আনতে পারে। তবে গোটা ব্যাপার এখন কোন দিকে দাঁড়ায়! বিজেপির নিজেদের কার্যক্রমকে ঠিক কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!