এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > গ্রামে গ্রামে জেগে ওঠা জয় শ্রীরামের হাওয়া কেড়ে নিতে শুরু এনআরসির আতঙ্ক নিয়ে জোরদার প্রচার

গ্রামে গ্রামে জেগে ওঠা জয় শ্রীরামের হাওয়া কেড়ে নিতে শুরু এনআরসির আতঙ্ক নিয়ে জোরদার প্রচার

অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরই বাংলাতেও এনআরসি করা হবে বলে দাবি তুলতে শুরু করেছিল বিজেপি নেতারা। তবে বাংলায় তারা থাকতে কোনমতেই এনআরসি চালু করতে দেবেন না এবং এই এনআরসির ফলে বিজেপি বাঙ্গালীদের সর্বনাশ করতে চাইছে বলে দাবি তুলেছিল তৃণমূল।

ফলে তৃণমূলের এই দাবিতে বিশ্বাসী হয়ে কি বিজেপির প্রতি আস্থা হারাচ্ছে সাধারন মানুষ! আলিপুরদুয়ারের কিছু ঘটনা এখন এই প্রশ্নই তুলে দিতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ থেকে একটি আসনও দখল করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস।

যেখানে আটটির মধ্যে সাতটি লোকসভা দখল করেছে বিজেপি। যার মধ্যে অন্যতম আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্র। নির্বাচন বা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এই আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির বাড়বাড়ন্ত এবং জয় শ্রীরাম ধ্বনি উঠতে দেখা গেলেও এখন তা কার্যত ফিকে হতে শুরু করেছে। কিন্তু কেন এমনটা হচ্ছে! অনেকে বলছেন, এক্ষেত্রে বিজেপি নিজের পায়েই নিজে কুড়াল মারছে।

কেননা কিছুদিন আগে থেকেই যেভাবে তারা এনআরসির পক্ষে সওয়াল করতে শুরু করেছে এবং তার পাল্টা যেভাবে তৃণমূল সেই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে “বাঙালি বিদ্বেষী” বিজেপি বলে অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষের মনের অতল গহ্বরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছে, তাতে তৃণমূলের সেই দাবিকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে সাধারন মানুষ।

আর তার ফলেই এই আলিপুরদুয়ার জেলায় বিজেপির বাড়বাড়ন্ত অনেকটাই কমে যেতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও বা নিজেদের সংগঠনকে চাঙ্গা করে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এনআরসি নিয়ে যে কথা বলা হচ্ছে তার সম্পূর্ণটাই অপপ্রচার এবং তারা এই সম্পর্কে মানুষকে সঠিক তথ্য দিয়ে বোঝাবে বলে দাবি করতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি গুণধর দাস বলেন, “এনআরসি নিয়ে তৃণমূল অপপ্রচার এবং আতঙ্ক ছড়ানোর জন্যই দলের কর্মী-সমর্থকদের এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত দলের জেলা নেতৃত্বকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু সেই পদক্ষেপ নিতে দেখাই যাচ্ছে না।” একই কথা বলে দলের জেলা নেতৃত্বের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির প্রবীণ সদস্য হেমন্ত বর্মন। তাহলে কি সত্যিই আলিপুরদুয়ার জেলায় বিজেপির জয় শ্রী রামের ধ্বনি ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যেতে শুরু করেছে?

কিন্তু যেখানে বিজেপি আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে প্রতিটা বিধানসভা কেন্দ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা বলছে, সেখানে আলিপুরদুয়ার জেলায় যদি এখন থেকেই তারা তৃণমূলের যুক্তির কাছে মাথানত করতে শুরু করে, তাহলে তো তাদের জনভীতি ধীরে ধীরে হারাতে শুরু করবে! এক্ষেত্রে কেন কর্মসূচি নিচ্ছে না আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপি নেতৃত্ব?

এদিন এই প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, “এই সমস্ত দাবি ঠিক নয়। এনআরসির জন্য কোথাও জয় শ্রীরাম ধ্বনি বন্ধ হচ্ছে না, দলের রংও ফিকে হচ্ছে না। আসলে তৃণমূলের অপপ্রচারের জেরে মানুষ এনআরসি নিয়ে বিভ্রান্ত এবং আতঙ্কিত হচ্ছেন। তৃণমূলের এই অপপ্রচারের জবাব দিতে এবং এনআরসি কি তার সঠিক তথ্য মানুষকে জানাতে আমরা কয়েক লক্ষ লিফলেট ঘরে ঘরে বিলি করব।”

কিন্তু জেলা বিজেপির সভাপতি যে কথাই বলুন না কেন, যেভাবে এনআরসিকে ইস্যু করে বিজেপির বিরুদ্ধে পথে নেমে আলিপুরদুয়ার জেলার মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে তৃণমূল এবং জনসংযোগে সেদিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে যেতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির, তাতে এখনও পর্যন্ত বিজেপি তেমনভাবে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জেলা বিজেপি নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে ঘুরতে শুরু করেছে প্রশ্ন। সব মিলিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলায় এনআরসি ইস্যুতে তৃণমূলের কাছে গোল খেতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top