এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > এনআরসি নিয়ে ভালো সাড়া, অধীর-গড়ে দাঁড়িয়ে হাওয়া আরও গরম করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

এনআরসি নিয়ে ভালো সাড়া, অধীর-গড়ে দাঁড়িয়ে হাওয়া আরও গরম করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

 

সম্প্রতি তৃণমূলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে তৃণমূলের নিযুক্ত রননীতিকার প্রশান্ত কিশোরের নির্দেশ মত এনআরসি ইস্যুতে প্রচারে জোর দিতে বলা হয়েছে তৃনমূল নেতৃত্বদের। জেলায় জেলায় ইতিমধ্যেই সেই নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে তোড়জোড়। আর সেই মোতাবেক এবার এনআরসি ইস্যুতে মুর্শিদাবাদের অধীর চৌধুরীর গড়ে জোরদার প্রচার করতে দেখা গেল জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।

মুর্শিদাবাদে তৃনমূল কংগ্রেসের ডাকা একটি জনসভায় জমায়েত লোকজনদের পাশে নিয়ে অভয়ের সুরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনগণের পাহারাদার। তিনি যতদিন রয়েছেন, ততদিন এই রাজ্যে নো এনআরসি।” এর পাশাপাশি পরিবহন মন্ত্রী বলেন, “জেলার প্রত্যেকটি মহুকুমাতেই এনআরসি বিরোধী সভা করতে হবে।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে বরাবরই দুটি বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে কেন্দ্রের বিজেপি এবং রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সম্প্রতি আসামে যে নাগরিকপঞ্জি শুরু করা হয় কেন্দ্রীয় সরকার এবং আসামের রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তার রেশ চলে আসে বঙ্গভূমীতে। বঙ্গ বিজেপির একাধিক নেতৃত্ব তথা সাংসদদের বলতে শোনা যায়, পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি দু কোটি লোকের নাম বাদ পড়বে। আর বাংলায় এনআরসি করতে যে বিজেপি সরকার বদ্ধপরিকর, সেই আভাসও পাওয়া যায় নেতৃত্বের গলায়।

সামনের 2021 সালের আগে তাই বিজেপি বিরোধীতায় এরকম মোক্ষম সুযোগকে হাতছাড়া করতে চায় না রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রণনীতিকার পিকের টিম। সেই মোতাবেক জেলায় জেলায় ইতিমধ্যেই এনআরসি বিরোধী প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। আর মুর্শিদাবাদে এসে শুভেন্দুবাবুও সেই এনআরসি বিরোধীতায় নিজের সুর চড়ালেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, এদিনের সভায় মুর্শিদাবাদ জেলার ওয়াইএমএ মাঠে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। স্বাভাবিকভাবেই বেশ কিছুদিন আগে কাশ্মীরে মুর্শিদাবাদের 5 জন শ্রমিককে নৃশংসভাবে খুন করা হলে সেই ঘটনা জেলার আবেগঘন পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন, “বিজেপি বলছে ওরা বাঙালি নয়, ওদের বাঙ্গালী বলা যাবে না। খুনের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি। কোনো প্রতিবাদ করেনি। আমাদের সরকার তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

পাশাপাশি এদিন মুর্শিদাবাদের জনসাধারণকে রত্ন বলেও উপাধি প্রদান করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এজেলার মানুষের ভালো বিল্ডিং করতে পারে। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণের কাজ তাদেরকে বাদ দিয়ে হয় না। এই জেলার লোকেরা শুধু অভাবের তাড়নায় বাইরে কাজ করতে যায়, এমনটা নয়।”

এনআরসি ইস্যু নিয়েও ভারতীয় জনতা পার্টিকে একহাত নেন শুভেন্দুবাবু। জনতার উদ্দেশ্যে শুভেন্দুবাবু বলেন, “কোনো কাগজপত্র করার জন্য আপনাদেরকে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। আধার কার্ডের জন্য পোস্ট অফিসে দাঁড়াতে হবে না। পশ্চিমবাংলায় যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আছেন, ততদিন এনআরসি হবে না।”

জানা যায়, এদিনের সভায় শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি আবু তাহের, মোশারফ হোসেন মন্ডল, সুব্রত সাহা সহ অন্যান্যরা। তবে এদিনের সভায় দলের শীর্ষ নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং ফিরহাদ হাকিমকে দেখা না যাওয়ায় তৈরি হয়েছে জল্পনা। কিন্তু এই বিষয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের বলেন, “ফিরহাদ হাকিম জেলায় আসার জন্য ট্রেন ধরতে আসছিলেন। সেই সময় হঠাৎ করেই তিনি অসুস্থতা বোধ করায় ফিরে যান। পার্থ চট্টোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অন্য কর্মসূচিতে রয়েছেন। সেই কারণে তিনি আসতে পারেননি।”

এদিনের সভায় রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী ভারতীয় জনতা পার্টির পাশাপাশি কংগ্রেসকেও কটাক্ষ করেন। অধীর চৌধুরীকে তীর্যকবানে বিদ্ধ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সিপিএমের সাহায্য নিয়ে কংগ্রেসের একজন দিল্লিতে গেছেন। কিন্তু এটাই শেষবার।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলাকে পুরো দখল করবার জন্য নিজের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বরা। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এলাকায় এসে একাধিকবার প্রচার করে যান। কিন্তু নির্বাচনের ফলে দেখা যায়, মুর্শিদাবাদের দুটি আসন তৃণমূল দখল করতে পারলেও রবিনহুড হিসেবে পরিচিত অধীর চৌধুরী নিজের গড়ে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

তাই আগামীদিনে ভারতীয় জনতা পার্টির পাশাপাশি অধীর চৌধুরীও যে তৃণমূলের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জের নাম, সেই বিষয়ে একমত প্রায় সকল রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাই। এখন এনআরসি ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে মুর্শিদাবাদকে কতটা বিজেপি এবং কংগ্রেস মুক্ত করতে পারেন শুভেন্দুবাবু, সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!