এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > সিঙ্গুর মডেল নয় – মুখ্যমন্ত্রীর ভরসা আন্তরিক আবেদন, উন্নয়নের প্রশ্নে জমি সমস্যায় বাধা হবেন না কৃষকরা

সিঙ্গুর মডেল নয় – মুখ্যমন্ত্রীর ভরসা আন্তরিক আবেদন, উন্নয়নের প্রশ্নে জমি সমস্যায় বাধা হবেন না কৃষকরা

বিগত বাম সরকারের আমলে সিঙ্গুরে কারখানার নাম করে জোর করে কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি জমি কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এরপরই কৃষকদের নিয়ে সেই দীর্ঘ আন্দোলনের জেরে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে রাজ্যে। বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হলেও মানুষের কাছ থেকে জোর করে জমি কেড়ে নেওয়া যাবে না বলে প্রথম থেকেই প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

জমির প্রয়োজন হলে মানুষের সাথে আলোচনা করেই সেই জমি নেওয়ার কথা হয়েছিল। আর তাই, মানুষের সুবিধার্থেই গত নভেম্বর মাসের শেষে কালনার অঘোরনাথ পার্ক স্টেডিয়ামে এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভাগীরথী নদীর উপর হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে কালনা-শান্তিপুর সংযোগকারী ব্রিজ নির্মাণ হবে। কিন্তু এর জন্য জমি প্রয়োজন”। আর তাই সেইখানেই এলাকার বাসিন্দা ও চাষীদের কাছ থেকে জমির আবেদন করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

আর এবার মুখ্যমন্ত্রীর এই আবেদনে সাড়া দিয়ে এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি দিতে তৈরি স্থানীয় জমির মালিকেরা। জানা গেছে, ভাগীরথী নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের পর একদিকে তা কালনার এসটিকেকে রোড এবং অন্যদিকে শান্তিপুরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে মিশে যাবে। আর যার ফলে এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন। আর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এহেন আশার কথা শুনেই নিজেদের জমি দিতে প্রস্তুত এলাকাবাসীরা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

সূত্রের খবর, গত ১৮ ই নভেম্বর পিডব্লিউডির বর্ধমান সাউথ হাইওয়ে ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ম্যানেজার সুব্রত সরকার, সংবাদপত্রে মৌজার নাম, প্লটের নাম এবং জমির প্রকৃতি নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। আর এরপরই গত ২০ নভেম্বর থেকে ৩০ শে নভেম্বর সেই জমিগুলিতে সার্ভের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই চলতি মাসের ৪ তারিখে সেই জমি কেনার প্রস্তুতি হিসেবে একটি বৈঠক করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলাপরিষদ) প্রবীর কুমার চট্টোপাধ্যায়।

প্রশাসন সূত্রের খবর, কালনা ২ নম্বর ব্লকের হাসপুকুর, পূর্ব সাহাপুর, বারাসত, কুলেডাহা প্রভৃতি মৌজায় প্রায় সাড়ে চারশো জন মালিকের কাছ থেকে এই জমি কেনা হবে। তবে এই জমির উপর বসতবাড়ি ও অন্যান্য পরিকাঠামো থাকলে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঠিক কত টাকা মিলবে এই বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে এই প্রকল্পের জন্য হাসপুকুর মৌজায় বাড়ি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য বলাই উপাধ্যায়ও নিজের জমি সরকারকে দিয়ে দিচ্ছেন।

এদিন এ প্রসঙ্গে বলাই উপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাগীরথী নদীর উপর ব্রীজের অ্যাপ্রোচওয়ের জন্য জমির মালিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন। এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমরা জমি দিতে ইচ্ছুক। আর এই কর্মকাণ্ডের অংশীদার হতে পারে আমরা সত্যিই গর্বিত”। অন্যদিকে, অন্যান্য স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত – আমরা উন্নয়নের পক্ষে। তাই বসত বাড়ি ছেড়ে দিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। প্রশাসন এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে আমরা শুধু পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছি।

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই চাষীদের মধ্যে এই ব্যাপারে নোটিশ দেওয়া শুরু করেছে প্রশাসন। অন্যদিকে শীঘ্রই এই জমি মালিকদের নিয়ে কালনা মহকুমা শাসকের অফিসে শুনানিও শুরু হবে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, এই প্রসঙ্গে কালনা ২ ব্লকের বিডিও মিলন দেবগড়িয়া বলেন, “শীঘ্রই কালনা মহকুমা শাসকের অফিসে কৃষকদের ডেকে শুনানি হবে। নোটিসে চাষীদের এসডিও অফিসে উপস্থিত হওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে”। সব মিলিয়ে এবার সরকারের উন্নয়নে সাড়া দিয়ে নিজেদের কৃষি জমিই সরকারকে দিচ্ছেন কৃষকরা। আর তাই রাজ্য সরকারের ভরসা এখন ‘সিঙ্গুর-মডেল’ নয় বরং উন্নয়নের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক আবেদন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!