এখন পড়ছেন
হোম > আন্তর্জাতিক > নোবেলজয়ীকে রাজনীতিতে আসার ‘আমন্ত্রণ’ বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার!

নোবেলজয়ীকে রাজনীতিতে আসার ‘আমন্ত্রণ’ বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার!

সম্প্রতি অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। অমর্ত্য সেন এর পরে ফের ইতিহাস রচনা বাঙালির। 2019 এ অর্থনীতিতে নোবেল পাচ্ছেন বাঙালি অর্থনীতিবীদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ সম্মান পেতে চলেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন অভিজিৎ। কিন্তু অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এর নাম নোবেল তালিকা ওঠার পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। উল্লেখ্য, অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এর সাথে তার মার্কিনী স্ত্রী এস্টার ডাফলোও নোবেল প্রাপকদের তালিকায় নাম তুলেছেন।

অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নোবেল পাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে বিজেপি শিবির থেকে বেশ বিতর্কিত কিছু মন্তব্য করা হয়েছে। সম্প্রতি বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছেন, অর্থনীতি ছেড়ে যেন রাজনীতির ঝান্ডা ধরেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। রাহুল এদিন পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এর নোবেলজয়ে তিনি গর্বিত।

কিন্তু অভিজিতের রাজনীতি করাটা একেবারেই না পসন্দ তাঁর। রাহুল সিনহার কথা থেকে এদিন বোঝা গেছে, অর্থনীতিবীদ শুধুমাত্র অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাজনীতি তাঁর বিষয় হতে পারে না। যদি তাঁর বিষয় হয় রাজনীতি, তাহলে ঝান্ডা ধরা উচিত বলে জানিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। আর বিজেপির রাহুল সিনহার এই মন্তব্য ঘিরে আবারো উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।

শুক্রবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে রীতিমতন কটাক্ষ করেছিলেন রাহুল সিনহা। তিনি বলেছিলেন, ‘যাঁদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি, নোবেল পান তাঁরাই।’ এই মন্তব্যের ফলে অর্থনীতিবীদ অমর্ত্য সেনকেও একইভাবে কটাক্ষ্য করা হয়েছে বলে মনে করা হয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে।

উল্লেখ্য, 1998 সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান অমর্ত্য সেন। অমর্ত্য সেনেরও দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন ইতালিয়ান অর্থনীতিবীদ ইভা কোলোরনি। অন্যদিকে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার স্ত্রী এস্হার ডুফলো দুজনেই যৌথভাবে নোবেল প্রাপকদের তালিকায় নাম তুলেছেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার এই প্রসঙ্গে রহুল সিনহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় দেখা করতেই পারেন। কারণ সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নোবেল পাওয়ার আগে এবং পরে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় যে রাজনীতি করছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। রাহুল জানিয়েছেন, অর্থনীতিবীদের অর্থনীতি নিয়েই থাকা প্রয়োজন। কিন্তু অর্থনীতিবিদ যদি রাজনীতি করেন বা কোন দলকে ছোট করেন, তাহলে সেটা কোন মতেই মেনে নেওয়া যায় না। রাহুল সিনহা জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীকেও আঘাত করতে ছাড়েন না তিনি।’

এদিন রাহুল সিনহা দাবি করেছেন, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনা দেশের মানুষ সম্পূর্ণ খারিজ করেছেন। প্রসঙ্গত এই একই সুরে সুর মিলিয়ে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্প্রতি কটাক্ষ করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বামপন্থী মনোভাবাপন্ন’ বলে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছিলেন, কংগ্রেসের আর্থিক প্রকল্পকে সমর্থন জানিয়েছিলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের পতন হওয়ায়, ওই প্রকল্পকেও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের মানুষ। সেই কারণে অভিজিতের ভাবনাও খারিজ হয়ে গেছে। রাহুল সিনহা এদিন বলেন, ‘সারাদেশের মানুষ তাঁর চিন্তাকে বরখাস্ত করেছে, ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। তাঁর ভাবনার কোনো মূল্য নেই, প্রমাণ হয়ে গেছে।’ অন্যদিকে রাহুল সিনহা অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় স্ত্রী সংক্রান্ত বিতর্কে সাফ জানিয়েছেন, ‘এই মন্তব্য প্রত্যাহার করছি না। যা ঘটনা সেটাই বলেছি।’

গরীবির বিরুদ্ধে কিভাবে লড়াই করা যায়, তা নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই পথ দেখিয়ে চলেছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ছেলে অভিজিত বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে এমআইটির অধ্যাপক এবং মার্কিন নাগরিক। অভিজিত বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় নোবেল পাওয়ায় শহর কলকাতায় খুশির জোয়ার বইতে শুরু করেছে।

1998 সালে অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছিলেন অমর্ত্য সেন। এবার নোবেল পেলেন তারই ছাত্র অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অভিজিত বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নোবেল প্রাপ্তির পরেই যে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তাই নিয়ে রাজনৈতি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একজন গুণী মানুষের ব্যক্তিগত দিক বিচার না করে সম্পূর্ণরূপে তার গুণের বিচার করতে হয়। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগত জীবন সংক্রান্ত ব্যাপারে নোবেল পাননি। তিনি তাঁর কাজের গুণগত বিচারেই নোবেল পেয়েছেন। তাই সে নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত পরিসরের আলোচনা করা উচিত নয়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!