এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ‘উধাও’ প্রধান বিরোধীরা! তবুও এই রাজ্যের নির্বাচনে চরম ধাক্কা খেয়ে বেসামাল গেরুয়া শিবির!

‘উধাও’ প্রধান বিরোধীরা! তবুও এই রাজ্যের নির্বাচনে চরম ধাক্কা খেয়ে বেসামাল গেরুয়া শিবির!

2019 এর লোকসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার পর, সাথে সাথেই সিদ্ধান্ত নেন কাশ্মীর থেকে 370 ধারা ও 35 এর এ ধারা বিলুপ্ত করার। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হওয়ার পরে সারা দেশ জুড়েই চলতে থাকে প্রবল বিতর্ক‌। বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে এক কথায় নাকচ করে দিয়ে জানান, ধারা বিলুপ্তির ফলে কাশ্মীরে অশান্তির আগুন জ্বলবে। কিন্তু বিরোধীদের সমস্ত আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দেখা গেছে, কাশ্মীর স্বাভাবিক অবস্থাতেই রয়েছে।

নিরাপত্তার খাতিরে অবশ্য ভারত সরকার বেশ কিছুদিন কাশ্মীরে কার্ফু জারি করে রেখেছিল এবং অশান্তির আশঙ্কায় সেখানকার রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীকালে কার্ফু থেকে মুক্তি পায় কাশ্মীর এবং কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরাও গৃহবন্দীর দশা থেকে মুক্তি পান‌। আর এবার দীপাবলির আবহে, 370 ধারা বাতিলের পর প্রথম নির্বাচন হলো কাশ্মীরে। তবে এই নির্বাচনে ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসের মতো শক্তিশালী বিরোধী দল অংশগ্রহণ করেনি।

যদিও কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে কেউ কেউ ভোটে দাঁড়ালেও সামগ্রিকভাবে দল হিসেবে কংগ্রেস সেভাবে অংশ নেয়নি নির্বাচনে। কিন্তু তিনটি প্রধান বিরোধী দলের কারোর অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও কাশ্মীরে হতাশাজনক ফল করেছে বিজেপি। ৩০৭ টি ব্লক উন্নয়ন পরিষদের নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের হাতে এসেছে মাত্র ৯০ টি আসন। বিরোধীদের অনুপস্থিতিতে বাজিমাত করেছে নির্দল প্রার্থীরা। ২১৭ টি আসন গিয়েছে নির্দলের দখলে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

কাশ্মীরের 370 ধারা বাতিল হওয়ার পেছনে বিজেপির ভূমিকা সর্বাগ্রে। আর সেই ভূমিকার ওপর নির্ভর করেই কাশ্মীরের নির্বাচনে বিজেপির ভোট পাওয়ার অগ্রাধিকার ছিল। কিন্তু কাশ্মীর ব্লক উন্নয়ন পর্ষদের নির্বাচনে সাধারণ মানুষরা ভোট দেন না। সেখানে ভোট দেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ পঞ্চ এবং সারপঞ্চরা। গত বছরেও পঞ্চায়েত নির্বাচন বয়কট করেছিলেন বিরোধীরা। ফলে উপত্যকার পঞ্চায়েত স্তরের অধিকাংশ আসন বিজেপির দখলে যায়। ফলে এবারে আশা ছিল আরেকটু বেশি।

বিজেপির তরফ থেকে মনে করা হয়েছিল ব্লক উন্নয়ন পর্ষদের নির্বাচনে এবার গেরুয়া শিবির আশাতীত ভালো ফল করবে। কিন্তু তা না হয়ে বরং বিজেপির জনপ্রতিনিধিও ভোট দিলেন নির্দলকে। এদিনের ভোটে কাশ্মীরের মোট দশটি জেলার সাতটি তে 99 শতাংশ ভোট পড়েছে। সার্বিকভাবে কাশ্মীর পঞ্চায়েতে ভোট পড়েছে 98 শতাংশের কিছু বেশি। অন্যদিকে পঞ্চ এবং সরপঞ্চদের কাছ থেকে জানা গেছে বিজেপিকে আটকানোর জন্য তারা একচেটিয়াভাবে নির্দলে ভোট দিয়ে গেছেন।

ফল প্রকাশে দেখা গেছে শুধুমাত্র জম্মুতে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপি 52 টি ব্লক উন্নয়ন পরিষদ জিতেছে। কাশ্মীরে মাত্র 18 টি এবং লাদাখে এগারটি ব্লক উন্নয়ন পরিষদ গেরুয়া শিবির দখল করতে পেরেছে। আর বিরোধী দল না থাকায় বেশির ভাগ আসনই গেছে নির্দলদের হাতে। এদিনের নির্বাচনে মোট 217 টি আসন পেয়েছে নির্দলরা। 8 টি আসন পেয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর প্যান্থার্স পার্টি। যদিও এই ফলাফল নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবতে রাজি নয় বিজেপি শিবির। কাশ্মীরে 370 ধারা বাতিলের পর সফল ভাবে যে নির্বাচন হয়েছে সেই ব্যাপারে সাফল্য দাবি করছেন তাঁরা।

এই নির্বাচনের ঘটনাকে নজর রেখে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, এখনো পুরোপুরি কাশ্মীরকে সরকারি সিদ্ধান্তে খুশি করা যায় নি। যার ফল ভোট বাক্সে প্রতিফলিত। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের দাবি, কাশ্মীরে 370 ধারা তুলে দেওয়ার ফলে, কাশ্মীরবাসীদের মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তারই আঁচ পরল এইভাবে। কাশ্মীর প্রসঙ্গে অবশ্য বিজেপি শিবির ভোটের রেজাল্ট নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত নন। বরং সেখানকার পরিবেশ নিয়ে তাঁরা বেশি চিন্তিত বলে জানিয়েছেন। যে আবহাওয়ায় কাশ্মীরে শান্তিতে নির্বাচন হলো – তাকেই বড় সাফল্য বলে দাবি করছে বিজেপি শিবির।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!