এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে লোকসভা ভোটে ভোটকর্মী হিসাবে ভোট নিতে যাবেন না শিক্ষক শিক্ষাকর্মীরা

নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে লোকসভা ভোটে ভোটকর্মী হিসাবে ভোট নিতে যাবেন না শিক্ষক শিক্ষাকর্মীরা

লোকসভা নির্বাচনে ভোটকর্মী হিসাবে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে গতকাল পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা শাসকের নিকট ডেপুটেশন দিল শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চ। ঐক্যমঞ্চের ১১ জনের এক প্রতিনিধিদল জেলাশাসকের এডিএম প্রতিমা দাসের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই দেখা হবে। স্পর্শকাতর বুথ গুলিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর পাশাপাশিই তিনি জানান, তবে আগামী লোকসভা ভোটে ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা বিষয়ে আরো কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ডেপুটেশনের কপি এবং যেসব দাবি তুলে ধরা হয়েছে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ঐক্য মঞ্চের তরফে উপস্থিত প্রতিনিধিবৃন্দ পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন যে, আগামী লোকসভা নির্বাচনে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না হলে সারা বাংলা জুড়ে ভোটকর্মীরা ভোট গ্রহণের দায়িত্ব বয়কট করবেন।

উল্লেখ্য, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের রহতপুর হাইমাদ্রাসার তরুণ শিক্ষক রাজকুমার রায়ের রহস্যজনক নিখোঁজ এবং পরবর্তীতে তার ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন দেহ খুঁজে পাওয়ার ঘটনা আজও সবাইকে শিহরিত করে বলে দাবি শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের রাজ্য কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কিংকর অধিকারী। তাঁর আরও দাবি, শুধু রাজকুমারবাবুই নন, অসংখ্য বুথে ভোটকর্মীদের উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চলে।

কিংকরবাবু দাবি করেন, বহু জায়গায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে প্রাণরক্ষার তাগিদে ভোটকর্মীরা অন্যায় ও অনৈতিক আচরণের কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য হন। স্বাভাবিকভাবেই, তাই আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে সবার মনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে স্মরণ করে শিক্ষক সমাজ আজ ভোটকর্মী হিসাবে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন। দাবি উঠেছে ভোট কর্মী ও ভোটারদের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী সহ যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে।

কিংকরবাবুর বক্তব্য, অবিলম্বে নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এবং প্রতিশ্রুতি না দিলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে ভোট প্রক্রিয়া পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে। কোন দল জিতবে বা কোন দল পরাজিত হবে তা দেখবার দায়িত্ব ভোটকর্মীর নয়। মানুষ যেন তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধা না পান, তা সুনিশ্চিত করতে হবে। আমরা ভোটকর্মী হিসাবে জীবনের নিরাপত্তা, মান-মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অক্ষুন্ন রেখে নির্বাচন পরিচালনার দাবি জানাচ্ছি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের রিটার্নিং অফিসার তথা জেলাশাসকের উদ্দেশ্যে যে দাবি গুলি তুলে ধরা হয় সেগুলি হল –

১) আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য বুথ পিছু প্রিসাইডিং অফিসারের সহিত ৬ জন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী সহ অন্যান্য বাহিনী দিয়ে ভোটার এবং ভোট কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

২) স্পর্শকাতর বুথগুলিতে দ্বিগুণ হারে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৩) ভোট গ্রহণের শেষে ভোট বাক্স জমা দেওয়ার পর রিলিজ অর্ডার দিয়ে দিলেই নির্বাচন কমিশনের সমস্ত দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ভোট গ্রহণের জন্য ভোট কর্মীদের বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার পর থেকে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তাঁর জীবনের সমস্ত নিরাপত্তার ভার নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।

৪) ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোট কর্মীদের যথাযথ নিরাপত্তাসহ থাকা, খাওয়া এবং শৌচালয়ের যথেষ্ট ব্যবস্থা রেখে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করতে হবে।

৫) প্রিসাইডিং অফিসারের অভিযোগের ভিত্তিতে সেক্টর অফিসার বা রিটার্নিং অফিসার যথাযথ ভূমিকা পালন না করে, প্রিসাইডিং অফিসারকে অনৈতিক কাজে বাধ্য বা প্ররোচিত করলে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে তৎক্ষণাৎ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬) শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, একজন ভোটকর্মী বাড়ি থেকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং ভোটিং মেটেরিয়ালস জমা দেওয়ার পর বাড়ি ফেরার জন্য উপযুক্ত যানবাহন যথেষ্ট পরিমাণে রাখতে হবে।

৭) ভোটকর্মীদের হতাহতের ঘটনায় তৎক্ষণাৎ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। যে কোন ভোটকর্মী অসুস্থ বা আহত হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ সহ চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন কে নিতে হবে।

৯) প্রতিবন্ধীদের ভোট কর্মী হিসাবে নিয়োগ করে তাঁদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

গতকালের ডেপুটেশনের জন্য প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্য কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কিংকর অধিকারী, সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য প্রতাপ পন্ডা, অক্ষয় খান, অধ্যাপক শুকদেব দাস, টুলটুল চৌধুরী, কমলেশ মান্না, বাণীকুমার বল, তপন দাস, পরেশ দত্ত, নিমাই চাঁদ রানা গৌতম গড়াই প্রমূখ।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!