এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > ‘বিক্ষুব্ধ’ হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাকে বিজেপির ‘অফার’, আটকাতে ‘রাজনৈতিক ছক’ শুরু শাসকদলের

‘বিক্ষুব্ধ’ হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাকে বিজেপির ‘অফার’, আটকাতে ‘রাজনৈতিক ছক’ শুরু শাসকদলের

প্রিয় বন্ধু মিডিয়া এক্সক্লুসিভ – মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীনই অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে তাঁর ঘোষিত দূরত্ত্ব সর্বজনবিদিত ছিল। ফলে, মুকুল রায় দল ছাড়তেই অর্জুন সিংয়ের হু হু করে ক্ষমতাবৃদ্ধি হতে থাকে শাসকদলে। তাঁকে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি পড়শী রাজ্যেরও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। এমনকি নোয়াপাড়া উপনির্বাচনের দায়িত্বও পান তিনি, যেখানে মঞ্জু ঘোষের বদলে নিজের আত্মীয় সুনীল সিংকে প্রার্থী করে জিতিয়ে আনেন তিনি। দলে ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁর নিরাপত্তাও বাড়িয়ে জেড ক্যাটাগরির করা হয়।

আর এই ঘটনায় অসম্ভব খুশি হন অর্জুন সিংয়ের অনুগামীরা। কেননা, তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, অর্জুন সিং দলের দুর্দিনের নেতা। প্রবল বাম জামানাতে একক ক্ষমতায় ভাটপাড়া উপনির্বাচনে জিতে এসে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ রক্ষা করেছিলেন – কিন্তু, দলে সেভাবে কোনোদিন গুরুত্ত্ব পান নি। না দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিত্ব, না করা হয়েছে সাংসদ। কিন্তু, এই ক্ষমতাবৃদ্ধির পর স্বাভাবিকভাবেই অর্জুন সিংয়ের অনুগামীদের আশা ছিল আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে অর্জুন সিংকে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী করা হবে। সেই অনুযায়ী নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতিও শুরু করে দেন তাঁরা।

কিন্তু, বিজেপির বহু শীর্ষনেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে সেক্ষেত্রে দীনেশ ত্রিবেদীকে দলে টানার প্রচেষ্টা শুরু করতে পারে গেরুয়া শিবির বলে জল্পনা ছড়ায়। আর, তাই সূত্রের খবর, অর্জুন সিংকে নয় তৃণমূল নেত্রী ব্যারাকপুরে টিকিট দিতে চলেছেন দীনেশ ত্রিবেদীকেই। আর এই খবর সামনে আসতেই – এবার গেরুয়া শিবির মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে অর্জুন সিংকেই সরাসরি ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির টিকিট অফার করে বসে আছে। বিজেপি সূত্রের খবর, সেই আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ, শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের টিকিট না পেলে অর্জুনবাবুও বিজেপির টিকিটে দাঁড়াতে রাজি। আর এই খবর পেয়েই শাসকদলের তরফে অর্জুন সিংকে আটকাতে শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক ছক।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

কিছুতেই নাম প্রকাশ করা যাবে না এই শর্তে এক বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, অর্জুন সিংয়ের বিজেপি যাত্রা আটকাতে আজই তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন এক হেভিওয়েট রাজ্য-মন্ত্রী। সেই বৈঠকে সরাসরি তাঁকে রাজ্যের মন্ত্রীত্বের অফার করা হতে পারে – এই বিষয়ে ‘খবর’ আছে বলে মেনে নিয়েছেন অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রাজনৈতিক মহল। তবে, ওই মহলেরই আশঙ্কা, এটা একটা ‘রাজনৈতিক ছক’, আপাতত নির্বাচনের আগে অর্জুন সিংকে মন্ত্রী করে তাঁর বিজেপি যাত্রা আটকে লোকসভা নির্বাচন পার করে নেওয়া।

আর তারপরেই প্রয়োজন মত তাঁর বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা’ নেওয়া হতে পারে, এই আশঙ্কায় এই মন্ত্রীত্বের উপর খুব একটা ভরসা রাখতে রাজি নয় অর্জুন সিং শিবির বলেই ওই সূত্রের দাবি। অর্জুন সিং শিবির নাকি সরাসরি দাবি করছে – হয় লোকসভার টিকিট, নাহয় পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ। অন্যদিকে, বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্জুন সিংয়ের তৃণমূল টিকিটে ব্যারাকপুরে দাঁড়িয়ে খুব একটা লাভ নেই। কেননা, বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে এয়ারস্ট্রাইকের পর দেশ জোড়া ‘মোদী-হাওয়া’ ইতিমধ্যেই উঠে গেছে।

নরেন্দ্র মোদীই যে আবার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তা বিভিন্ন সমীক্ষাতে ইতিমধ্যেই উঠে আসতে শুরু করেছে। আর সেই প্রবল মোদী-হাওয়াতে ব্যারাকপুরের মত অবাঙালি অধ্যুষিত আসনে, বিজেপির আভ্যন্তরীন সমীক্ষা বলছে এই মুহূর্তে গেরুয়া শিবির অন্তত দেড় লক্ষ ভোটে এগিয়ে। সেক্ষত্রে, অর্জুন সিং নাকি তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়ালেও ওই ভোট ‘মেক-আপ’ করতে পারবেন না। অন্যদিকে, অর্জুন সিংয়ের মত ডাকাবুকো নেতাকে নিয়ে খুবই উৎসাহিত অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তিনি যদি বিজেপির টিকিটে শেষপর্যন্ত দাঁড়ান এবং জিতে দিল্লি যান – তাহলে তাঁর জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বের দরজা খুলে দিতেও পিছপা হবে না গেরুয়া শিবির।

ফলে, অর্জুন সিংকে দলে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে বড়সড় ধাক্কা দিতে গেরুয়া শিবির অত্যন্ত আন্তরিক। তাঁর সঙ্গে আলোচনার সময়, গেরুয়া শিবিরের তরফে বারবারই বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। সব থেকে বড় কথা, অর্জুনবাবুর ক্ষোভের জায়গা তিনি নাকি রাজ্য-রাজনীতিতেই যোগ্য সম্মান পান নি, কিন্তু তাঁর মত নেতাকে দলে নিয়ে গেরুয়া শিবির জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় জায়গা করে দিতে তৈরী – যার বড় প্রমান এখন থেকেই তাঁর জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্ত্বের কথা ভাবা। তবে, সরকারিভাবে এই নিয়ে না অর্জুন সিং, না গেরুয়া শিবির কেউই মুখ খুলতে রাজি না এখনও। আগামী, দু-একদিনের মধ্যেই চিত্র আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে, নির্বাচনের আগেই জমজমাট ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতি।

Top
error: Content is protected !!