এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > আরটিআইএর জবাবে উত্তরকন্যা নিয়ে সামনে এলে বিস্ফোরক তথ্য! আরো তথ্য অচিরেই?

আরটিআইএর জবাবে উত্তরকন্যা নিয়ে সামনে এলে বিস্ফোরক তথ্য! আরো তথ্য অচিরেই?

২০১১ সালে দীর্ঘ বাম-জমানার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই ক্ষমতা হস্তান্তরের পরেই তিনি নজর দেন ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের বিকেন্দ্রীকরণের দিকে। শুধু কলকাতা নয়, সুদূর উত্তরবঙ্গের মানুষও যাতে যথাযথ পরিষেবা পান সেই লক্ষ্যে তিনি উত্তরবঙ্গে চালু করেন ‘উত্তরকন্যা’।

অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে চালু হওয়া উত্তরকন্যাকে উত্তরবঙ্গের নবান্ন বলে আখ্যা দেওয়া হয়। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক ভরকেন্দ্র বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার শেষকথা হবে উত্তরকন্যা। কিন্তু, এই ঘটনা নিয়ে মনে প্রশ্ন জাগায় বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থরক্ষায় অন্যতম পথিকৃৎ দেবাশিস শীল সমগ্র বিষয়টি নিয়ে এক আরটিআই করেন। আর তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এক জবাব পান – যাতে সামনে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য।

দেবাশিসবাবুর দাবি অনুযায়ী, সেই আরটিআইএর জবাবটি এসেছে ‘হাউসিং ডিপার্টমেন্ট’ থেকে। সেখানে তাঁকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে – ওই দপ্তরের কোন পদই নাকি নেই উত্তরকন্যায়, এমনকি কোনো কর্মীও নেই। এর সাথেই দেবাশিসবাবু আরো জানান, কিছুদিন আগেই সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার দপ্তরের সঙ্কেত চক্রবর্তীকে উত্তরবঙ্গে বদলি করা হয়, অথচ তাঁর বেতন এখনো হচ্ছে কলকাতার বিকাশভবন থেকে। অর্থাৎ ওই দপ্তরের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে যে উত্তরকন্যায় কোন পদের বেতন কলকাতা থেকে কেন দিতে হচ্ছে?

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

দেবাশিসবাবুর আরো বক্তব্য, আমি আরটিআই করার দুবছর দুমাস বাদে দুটি দপ্তরের গতি-প্রকৃতির স্পষ্ট অবস্থান বোঝা গেল। আশা করছি, অচিরেই বাকি দপ্তরের অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, কোনো ‘সেক্রেটারিয়েট অফিস’ কোন ‘অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টরকে’ দিয়ে চালানোও যায় না। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের সন্দেহটা সেখান থেকেই হয়, তাই এই আরটিআই করা। তবে, আমার স্থির বিশ্বাস অন্যান্য দপ্তরেরও উত্তর একই হবে – তাই আমার করা আরটিআইএর জবাব দিতে এত সময় নিতে হচ্ছে সরকারকে।

এরপরেই দেবাশিসবাবুর বিস্ফোরক দাবি, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার দপ্তরের সংকেত চক্রবর্তীর ঘটনা এবং হাউসিং ডিপার্টমেন্টের লিখিত জবাব পাওয়ার পর আমার স্থির বিশ্বাস উত্তরকন্যায় কোন দপ্তরেরই কোন পদ নেই। ওই ভবনটি কোটি কোটি টাকা খরচ করে বানানো হয়েছে শুধুমাত্র প্রতিবাদী সরকারি কর্মীদের সুদূর উত্তরবঙ্গে বদলি করে তাঁদের প্রতিবাদী চরিত্রকে ভয় দেখানোর জন্য এবং সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলার ‘শাস্তি’ দিতে। আর তাই বলতে বাধ্য হচ্ছি – উত্তরকন্যায় ঝাঁ-চকচকে অফিস থেকে শুরু করে সব আছে, শুধু পদ নেই! ব্রিটিশ আমলে যেমন দ্বীপান্তরে পাঠানো হত কন্ঠরোধ করতে, এই সরকারের জমানাতেও ‘উত্তরকন্যা’ তার থেকে আলাদা কিছু নয়।

দেবাশিসবাবু আরো জানান, সরকারের লিখিত জবাবেই প্রমাণিত, উত্তরকন্যায় কোন পদ নেই, কর্মী নেই – এমনকি কর্মীদের বেতন দেবার লোকও নেই! তাহলে, এই সচিবালয় তৈরির মূল উদ্দেশ্যটা কি তাতো সহজেই অনুমেয়। তবে এখানেই নাকি উত্তরকন্যা সম্পর্কে ‘বিস্ফোরক তথ্যের’ সমাপ্তি নয় – দেবাশিসবাবুর কথা অনুযায়ী, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বা হাউসিং ডিপার্টমেন্টের পর, উত্তরকন্যা নিয়ে আরো এরকম বিস্ফোরক তথ্য তিনি ধারাবাহিক ভাবে সামনে নিয়ে আসবেন এবং সেই তথ্য তিনি এক্সক্লুসিভলি তুলে দেবেন শুধুমাত্র প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার হাতে। সব মিলিয়ে, উৎসবের মরশুমে দেবাশিসবাবুর করা আরটিআইএর পরিপ্রেক্ষিতে ঝড় উঠে গেল রাজ্য-রাজনীতি থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে।

উত্তরকন্যা নিয়ে দেবাশিস শীলের করা আরটিআইএর হাউসিং ডিপার্টমেন্টের সেই জবাব।
আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!