এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রাজীব কুমারকে সিবিআই জেরাতে চিটফান্ড তদন্তে উঠে এল নতুন নাম! নতুন করে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন তদন্তকারীরা

রাজীব কুমারকে সিবিআই জেরাতে চিটফান্ড তদন্তে উঠে এল নতুন নাম! নতুন করে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন তদন্তকারীরা

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে চিটফান্ড কান্ড নিয়ে রাজ্য সরকারের গঠিত সিটের প্রধান তথা বর্তমান কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে মেঘালয়ের শিলংয়ে নিজেদের দপ্তরে জেরা করার সুযোগ পেয়েছে সিবিআই। রাজীব কুমারকে তিন-তিনবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি সিবিআইয়ের মুখোমুখি হন নি – আর তাই তাঁর বাড়িতে সিবিআই আধিকারিকেরা গেলে কলকাতা পুলিশ রীতিমত ঘাড় ধরে ও চ্যাংদোলা করে তাঁদের আটক করে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে এবং সিবিআইয়ের ওই পদক্ষেপে ‘গণতন্ত্র ধ্বংস’ হচ্ছে অভিযোগে ধর্মতলায় বসে যান ধর্নায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে গেলে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দেয় সিবিআই রাজীব কুমারকে ‘আপাতত’ গ্রেপ্তার করতে না পারলেও, ‘দরকারে’ জেরা করতে পারবে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে নিজে ‘নৈতিক জয়’ দেখে ধর্ণা তুলে নেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর রাজীব কুমার শিলং উড়ে যান, তাঁর সঙ্গী হন জাভেদ শামীম ও মুরলীধর শর্মা। রাজীব কুমারকে গত পরশু থেকে জেরা করছে সিবিআই – মূলত, রাজ্য সরকার চিটফান্ড কাণ্ডে যে সিট গঠন করেছিল, সেই সিটের প্রধান হিসাবে রাজীব কুমারের ভূমিকা ও উদ্যোগ নিয়েই জেরা চলছে। এর মধ্যে, গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ ও সারদা গ্রূপের মিডিয়া সেকশনের প্রধান কুনাল ঘোষকেও জেরায় ডাকে সিবিআই।

এই জেরা পর্ব নিয়ে যথেষ্ট গোপনীয়তা বজায় রাখছে সিবিআই, ফলে ভেতরের কোনো খবরই প্রায় সংবাদমাধ্যমের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। তবুও, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে জানা যাচ্ছে, সিবিআই রাজীব কুমারের কাছে জানতে চেয়েছে, তদন্তে বিভিন্ন তথ্য গোপন, তথ্য ও নথি সিবিআইকে হস্তান্তর না করা এবং নথি ও তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করে দেওয়া নিয়ে। এই প্রসঙ্গে, রাজীব কুমারের বক্তব্য নাকি, রাজ্য সরকারের নির্দেশে সিট গঠিত হলেও, তদন্তে সেভাবে কোনোদিনই সক্রিয় ছিল না সিট। কেননা তদন্ত হয়েছে বিভিন্ন থানার মাধ্যমে, ফলে সিটের প্রধান হিসাবে তিনি তথ্যপ্রমাণ লোপাট করেছেন এই ধারণাটাই নাকি ভ্রান্ত!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এর পাল্টা সিবিআই অফিসাররা জানান, যখন চিটফান্ড তদন্ত সিবিআইয়ের করা উচিত বলে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়, তখন রাজ্য সরকার একটি হলফনামা দিয়ে স্পষ্ট জানায় যে রাজ্য সরকারের তৈরী সিট যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত চালাচ্ছে, সিট নিজেদের দক্ষতার পরিচয় ইতিমধ্যেই দিয়েছে, ফলে সিবিআই তদন্ত অপ্রয়োজনীয়। তাহলে – এক্ষেত্রে হয় রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে মিথ্যা তথ্য যুক্ত হলফনামা পেশ করেছে অথবা রাজীব কুমার নিজে এখন মিথ্যা বলছেন – এর মধ্যে কোনটি ঠিক? রাজীব কুমার এই প্রশ্নের উত্তরে নাকি নীরব ছিলেন।

তবে, গতকালের দীর্ঘ জেরায় (প্রায় ১২ ঘন্টা জেরা চলে সারাদিনে) রাজীব কুমার একসময় স্পষ্ট জানিয়ে দেন – তিনি সিটের প্রধান পদে থাকলেও মাঝে মাঝে শুধু মতামত বা পরামর্শ দিয়েছেন, সেভাবে তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে তিনি ঢোকেনই নি! আর এর কারণ, এই তদন্ত আদতে দেখছিলেন, এক অত্যন্ত দক্ষ ও যোগ্য অফিসার (নামটি এখানে অনিবার্য কারণবশত প্রকাশ করা গেল না)। তিনি এতটাই দক্ষ ও যোগ্য অফিসার ছিলেন যে এই তদন্তভার সম্পূর্ণরূপে তাঁর উপরেই ছেড়ে দিয়েছিলেন রাজীব কুমার। আর রাজীব কুমারের এই জবানবন্দি যদি সঠিক হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই এরপরে ওই দক্ষ ও যোগ্য অফিসারকে সিবিআইয়ের মুখোমুখি হতে হবে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে।

কেননা, এতদিন সিবিআইয়ের যে অভিযোগ ছিল যে রাজীব কুমার তথ্য ও নথি নষ্ট করেছেন, এক্ষেত্রে আর তা তাঁর উপর বর্তাচ্ছে না। তাই, চিটফান্ড কাণ্ডের জেরায় ওই দক্ষ ও যোগ্য অফিসারের নাম উঠে আসা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। এখন ওই দক্ষ ও যোগ্য অফিসারকে সিবিআই জেরার জন্য ডাকে কিনা বা তাঁর সঙ্গে কথা বলে নতুন কোনো তথ্য উঠে আসে কিনা সেই জল্পনা তীব্র হচ্ছে ক্রমশ। তবে এই নিয়ে সিবিআইয়ের তরফে সরকারিভাবে এখনও কিচ্ছু জানা যায় নি, এমনকি জেরার সময় রাজীব কুমার ওই দক্ষ ও যোগ্য অফিসারের নাম বলেছেন কিনা সেটাও স্পষ্ট করে নি সিবিআই। এই তথ্য, শুধুমাত্র কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!