এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ডিএ, পে-কমিশন, পিআরটি স্কেলের ত্রহস্পর্শ্যে কি এক কোটি ভোট সঙ্কটে চলে গেল শাসকদলের? বাড়ছে জল্পনা

ডিএ, পে-কমিশন, পিআরটি স্কেলের ত্রহস্পর্শ্যে কি এক কোটি ভোট সঙ্কটে চলে গেল শাসকদলের? বাড়ছে জল্পনা

গতকাল বীরভূমের ইলামবাজারের জনসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন – জানুয়ারি মাসেই তিনি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেবেন। আর এই ঘোষণার পরে স্বাভাবিকভাবেই তীব্রভাবে জল্পনা শুরু হয়ে যায় রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক মহল ও পেনশন প্রাপকদের মধ্যে। কেননা মুখ্যমন্ত্রী ‘সব ডিএ’ মিটিয়ে দেওয়ার কথা বললেও – কোন সংখ্যা বলেননি।

আর তাই এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের শীর্ষনেতা থেকে শুরু করে সাধারণ সরকারি কর্মচারী, স্কুল শিক্ষক থেকে শুরু করে পেনশন প্রাপকদের সঙ্গে কথা বলি। সরকারি কর্মচারী পরিষদের রাজ্য আহ্বায়ক দেবাশীষ শীল হোন বা কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এম্পলয়ীজের অন্যতম শীর্ষনেতা সুবীর সাহা হোন বা স্টিয়ারিং কমিটির রাজ্য আহ্বায়ক সঙ্কেত চক্রবর্তী হোন বা শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের শীর্ষনেতা মইদুল ইসলাম – সবাই এই প্রসঙ্গে মোটামুটি একই সুরে কথা বলেছেন।

এনাদের সকলেরই বক্তব্য, প্রথমত মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা সংলগ্ন যে সকল স্থানে জনসভা বা প্রশাসনিক সভা করছিলেন সেখানে এই সংক্রান্ত ঘোষণা না করে সুদূর ইলামবাজারে গিয়ে কেন এই ঘোষণা করলেন? দ্বিতীয়ত, ‘সব ডিএ’ বলতে উনি কি বোঝাতে চাইছেন – সে বিষয়ে কোন স্পষ্ট দিশা নেই কেন? ১২৫% ডিএ দেওয়াকেই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ‘সব ডিএ মিটিয়ে’ দেওয়া বোঝাতে চাইছেন? যদি তাই হয়, তাহলে তো ছমাস আগেই ঘোষিত হয়ে আছে – নতুন করে সেই একই কথা বললে তা ‘নির্বাচনী চমক’ ছাড়া কি অন্য কিছু?

এরপরেই, মোটামুটি সকলে যেটা দাবি করলেন – সেটা রীতিমত চমকে দেওয়ার মত। বকেয়া ডিএ, যে ১ লা জানুয়ারী থেকে ১২৫% পৌঁছল তাতেও নাকি আছে ‘জল’ – কেননা সেই ১২৫% ডিএ দিতে গিয়ে ১০% অন্তর্বর্তীকালীন ভাতাটাকেই তিনি তুলে দিলেন নজিরবিহীনভাবে। একটা পে-কমিশন গত সাড়ে তিন বছরেও দিনের আলো দেখলো না – অথচ সেই নিয়ে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ নেই। এই ১২৫% বকেয়া ডিএ তো তিন বছর আগেই পেয়ে যাওয়ার কথা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের! দিনের পর দিন রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের বঞ্চনা করে মুখ্যমন্ত্রী তো আদতে ‘ঘোষণার চমক’ করছেন!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে শিক্ষক মহলের দাবি, তাঁদের ন্যায্য পিআরটি স্কেল নিয়েও সরকার কিছু ভাবছেন না! উল্টে, এই নিয়ে শিক্ষক মহল আন্দোলন করলে – ‘চাপে পরে’ শিক্ষামন্ত্রী গায়ে ‘অযোগ্য তকমা’ লাগিয়ে দিচ্ছেন। শিক্ষক নেতারা এই নিয়ে আন্দোলন করতে গেলে তাঁদের উপর ভয় প্রদর্শন বা শারীরিক নিগ্রহের মত ঘটনা ঘটছে! সব থেকে ‘লজ্জার’ কথা নাকি – শিক্ষাঙ্গনে বন্দুকবাজদের হামলা চলছে – শিক্ষকদের এই আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে। অথচ সরকার নির্বিকার, নিশ্চুপ।

আর তাই, দেবাশীষ শীল, সুবীর সাহা, সঙ্কেত চক্রবর্তী বা মইদুল ইসলামের স্পষ্ট বক্তব্য, রাজ্য সরকারি কর্মচারী বা শিক্ষকরা বাম আমলে হয়ত বঞ্চনার কথা বলতেন, কিন্তু এই সরকারের আমলে ‘বঞ্চনার ইতিহাস’ যেভাবে আকাশ ছুঁয়েছে, তা এর আগে কোনোদিন হয় নি! পশ্চিমবঙ্গ তো ছেড়ে দিন – এই নজির নাকি সারা ভারতবর্ষে কোথাও নেই! আর তাই, রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক মহল ও পেনশন প্রাপকদের কাছে একটি কথা স্পষ্ট – রাজ্যে নতুন কেউ ক্ষমতায় এলে – এই পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হবে কিনা জানা নেই! কিন্তু, একটি ব্যাপার নাকি স্পষ্ট – বর্তমান সরকারের আমলে এনাদের কপালে বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই প্রাপ্য নাকি নেই!

এই নেতাদের আরও দাবি, রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের সংখ্যাটা প্রায় ১৪-১৫ লক্ষ আর পেনশন প্রাপকদের কথা ধরলে তা সব মিলিয়ে নাকি প্রায় ২৫ লক্ষের কাছাকছি। আর যদি তাঁদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোট ৪ জন করেও ধরা হয় তাহলে সংখ্যাটা পৌঁছে যাবে ১ কোটিতে। আর তাই, এঁরা যদি একবার মনস্থির করে ফেলেন – আগামী নির্বাচনগুলোতে এইসব ‘বঞ্চনার জবাব’ ইভিএমে দেবেন তাহলে নাকি বদলে যাবে অনেক অঙ্কই!

কিন্তু এরপরেই আমাদের প্রশ্ন থাকে, মুখ্যমন্ত্রী তো জানিয়েছেন, বাম আমলের দেনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল পরিমান টাকা কেটে নিয়ে চলে যাচ্ছে, তার উপরে তিনি রাজ্যজুড়ে একের পর উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়েছেন। তার পরেও তাঁর পক্ষে যতটুকু সম্ভব, তিনি সময়মত রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের জন্য করছেন। মাস পয়লায় বেতনের ব্যবস্থা করেছেন। তারপরেও কেন এই ক্ষোভ? প্রায় সবার মুখ থেকেই যে জবাব এল – মাস পয়লায় মেইন দেওয়াটা কি উন্নয়ন? এটা তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই পরে – এর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।

কিন্তু, একইসঙ্গে তাঁদের বক্তব্য, বাম আমলের দেনার জন্য কি সরকারি কর্মচারীরা দায়ী নাকি স্কুল শিক্ষকরা? এই বিপুল পরিমান দেনার কথা জেনেই তো তিনি রাজ্য সরকার চালানোর অঙ্গীকার নিয়েছিলেন। এই বিপুল পরিমান দেনার কথা জেনেই তো মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী নেত্রী থাকার সময় জানিয়েছিলেন, যে সরকার রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বিন্দুমাত্র বঞ্চনা করে তাদের এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই! আজ ক্ষমতায় এসে কি সেসব তিনি ভুলে গেছেন? সবথেকে বড় কথা, রাজ্যের অর্থনৈতিক সঙ্কট থাকতেই পারে, কিন্তু রাজ্য সরকারের মনোভাব সদর্থক থাকার কোনো প্রমান কি এখনো পাওয়া গেছে? ন্যায্য পাওনা চাইলে শুধু ‘বদলির ভয়’? আর তাই, সবমিলিয়ে তাঁদের দাবি – ডিএ, পে-কমিশন আর পিআরটি স্কেলের ত্রহস্পর্শ্যে কিন্তু মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এক কোটি ভোটকে সম্ভবত তাঁর বিপক্ষে নিয়ে চলে গেলেন!

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!