এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > টেন্ডার ছাড়াই লক্ষাধিক টাকার নলকূপের যন্ত্রাংশ কেনার অভিযোগ উঠল বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে

টেন্ডার ছাড়াই লক্ষাধিক টাকার নলকূপের যন্ত্রাংশ কেনার অভিযোগ উঠল বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে

টেন্ডার ছাড়াই লক্ষাধিক টাকার নলকূপের যন্ত্রাংশ কেনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালো বাঁকুড়া ব্লকের মানকানালি পঞ্চায়েতে। এ ব্যাপারে বিজেপির বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ পেশ করেছেন বিরোধী তৃণমূল সদস্যরা।

এই অভিযোগের কপি বাঁকুড়ার জেলাশাসক, সদর মহকুমা শাসক, বাঁকুড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি ও স্থানীয় বিডিওর কাছে তৃণমূলের তরফে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গোটা ঘটনার প্রতিবাদে দু একদিনের মধ্যে পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে তৃণমূলের – এমনটাই জানা গিয়েছে মানকানালি অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সত্যনারায়ণ ধূয়ার তরফ থেকে।

প্রসঙ্গত, এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৫ আসন বিশিষ্ট মানকানালি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা দেখিয়ে বেশ কিছুদিন ওই সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন স্থগিত রাখে প্রশাসন। সম্প্রতি বিজেপি ওই পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করলেও, এখনও সেখানে উপসমিতি গঠন হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।

এরই মধ্যে বর্তমান বোর্ডের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে নলকূপের যন্ত্রপাতি কেনার অভিযোগের জেরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুরো ব্যাপারটাই স্বজনপোষণ করা হয়েছে বলেই অভিযোগে জানান পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য ঝুমা রায়, সীমা মন্ডলরা। এর পাশাপাশি অভিযোগের সূত্র ধরে আরো কিছু তথ্য সামনে আসে। রবি শস্যের জন্যে পঞ্চায়েতে বেশ কিছু বীজ এসেছিল। ওই বীজ বিলির ব্যাপারেই গত ৩ ডিসেম্বর পঞ্চায়েত অফিসে সকল সদস্যকে নিয়ে বৈঠক করেন পঞ্চায়েত প্রধান।

কিন্তু, বিজেপি সকলের সঙ্গে আলোচনা না করে নিজেদের মর্জি খাটিয়ে বীজ বন্টন করে বলে প্রশাসনের সব বিভাগের কাছে তৃণমূলের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এ অভিযোগ মানতে নারাজ গেরুয়া শিবির। তৃণমূল সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করে বাজার গরম করতে চাইছে – এমনটাই জানালেন মানকানালি পঞ্চায়েতের প্রধান ত্রিবেণী বাউরি।

নলকূপের যন্ত্রপাতি কেনার বিষয়ে যেমন কোনো সত্যতা নেই – তেমনই বীজ বিলিতে স্বজনপোষণের অভিযোগও ভিত্তিহীন। এমনটাই দাবীতে জানালেন পঞ্চায়েত প্রধান। তাঁর যুক্তি, সমস্ত প্রকৃত চাষীদেরই বীজ বিলি করা হয়েছে। প্রশাসন পুরো ব্যাপারটা খতিয়ে দেখলেই ঘটনার সত্যতা সামনে চলে আসবে। আসলে তৃণমূল এই এলাকার পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করতে পারেনি বলেই বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যে মিথ্যা রটনা করছে – এমনটাই পাল্টা অভিযোগে জানালেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বাঁকুড়া ২ নম্বর ব্লকের বিডিও শুভব্রত চক্রবর্তী জানান, মানকানালি পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিনা টেন্ডারে নলকূপের যন্ত্রপাতি কেনা ও বীজ বণ্টনের ব্যাপারে অভিযোগ এসেছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখেই উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানালেন তিনি। তবে স্থানীয় অধিবাসীদের মত – সমগ্র ঘটনার পিছনে আসলে রাজনৈতিক চাপান-উতোর রয়েছে। প্রশাসনের উচিত যথাযথ তদন্ত করে সকলের সামনে সত্যটা প্রকাশ করা।

আপনার মতামত জানান -
Top