এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের উপস্থিতিতেই শপথবাক্য পাঠের অনিয়ম নিয়ে সোচ্চার অধীর চৌধুরী

নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের উপস্থিতিতেই শপথবাক্য পাঠের অনিয়ম নিয়ে সোচ্চার অধীর চৌধুরী

Priyo Bandhu Media

অনেকে বলেন, এবারের লোকসভা নির্বাচনটি ধর্মের ভিত্তিতে হয়েছে। তবে নির্বাচনে যাই হোক না কেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ফের কেন্দ্রে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসলে গত দুদিন ধরে চলা সংসদের অধিবেশন যেন ধর্মযুদ্ধে পরিণত হল। যেখানে শপথ বাক্যর বাইরে একটি শব্দও প্রয়োগ করা যায় না, সেখানে সমস্ত নিয়মকে ভঙ্গ করে শাসকদলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তুললেন জয় শ্রীরাম স্লোগান, অন্যদিকে বিরোধীরা জয় বাংলা, জয়হিন্দ এবং বন্দেমাতরমের মাধ্যমে সংসদকে কাঁপিয়ে তুললেন। বাদ গেল না মা কালী, মা দুর্গার নামও। যা দেখে রীতিমতো হতচকিত প্রায় প্রত্যেকেই।

কিন্তু শপথবাক্য পাঠের এই অনিয়ম নিয়েই এবার সংসদে দাঁড়িয়ে সরব হতে দেখা গেল লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। সূত্রের খবর, গতকাল লোকসভার নতুন স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন ওম বিড়লা। আর এরপরই সেই স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখতে উঠে কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে এবারে পক্ষ-বিপক্ষের কেউ থাকবে না। নিরপেক্ষভাবে কাজ করা হবে। কিন্তু সংসদে পক্ষ বিপক্ষের সঙ্গে বহুপক্ষ হবে, তবে স্পিকারকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। গত দু’দিনে জয় শ্রীরাম, আল্লাহু আকবর, জয় কালী রব উঠেছে।”

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

আর এরপরই গোটা বক্তব্যকে নিজের ব্যক্তিগত মত বলে বোঝাতে চাইলে পাশে বসা কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী জানিয়ে দেন যে, এটা শুধু অধীর বাবুর ব্যক্তিগত মত নয়, এটা গোটা কংগ্রেস দলেরই মত। আর এরপরই হিন্দি শায়েরী উদ্ধৃত করে অধীর চৌধুরী বলেন, “মৌলবি যখন মসজিদে রামকে দেখবেন, পূজারী যখন মন্দিরে রহমানকে দেখবেন, মানুষ যখন মানুষের মধ্যে মানুষকে দেখবেন, তখনই দুনিয়ার ছবিটা বদলে যাবে।” আর নতুন বিরোধী দলনেতার মুখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বাণী শুনে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে কংগ্রেসের সমস্ত সাংসদরা।

টেবিল চাপড়ে গোটা বক্তব্যকে সমর্থন জানান রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, শশী থারুরেরা। তবে আশ্চর্যজনকভাবে প্রথমদিনই বাংলা থেকে নির্বাচিত হওয়া কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই বক্তব্যে রীতিমতো নীরব দর্শকের ভূমিকায় দেখা গেল বিজেপি সাংসদদের।

কেননা গত ক’দিন ধরে শপথ বাক্য পাঠের সময় তারাই তো সজোরে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে চিৎকার করেছিলেন। আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বাণী তোলার পরই দেশে প্রতিদিন বিপুল কৃষক আত্মহত্যার ঘটনাটি তুলে ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায় অধীর চৌধুরীকে।

আর প্রথম দিনই শাসকের বিরুদ্ধে এইভাবে সোচ্চার হওয়ায় কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাতে হাত ধরে বলেন, “আপনি খুব ভালো বলেছেন।” তাহলে কি প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির মতো নেতাদের পর বাংলা থেকে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মতো নেতাকে কেন্দ্রের শীর্ষস্তরের পদ দিয়ে খুব একটা ভুল করল না কংগ্রেস!

এদিন এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের একাংশ বলেন, আসলে দলের দর্শনটাই আজ সঠিক ভাষায় সংসদে মেলে ধরেছেন নতুন বিরোধী দলনেতা। সব মিলিয়ে প্রথম দিনই বিরোধী দলনেতা হিসেবে রীতিমতো ছক্কা হাঁকিয়ে দিলেন বাংলার কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!