এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > শুভেন্দুর খাসতালুক নন্দীগ্রাম-হলদিয়াতে বিজেপি সংগঠন বাড়াচ্ছে না কেন? বাড়ছে জল্পনা

শুভেন্দুর খাসতালুক নন্দীগ্রাম-হলদিয়াতে বিজেপি সংগঠন বাড়াচ্ছে না কেন? বাড়ছে জল্পনা

সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে ফের দেশজুড়ে মোদি ঝড়ে বিরোধীদের কুপোকাত হতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, সারাদেশের পাশাপাশি বাংলাতেও বিজেপি ঝড়ে তৃণমূলের সমর্থন কিছুটা হলেও ধাক্কা খেয়েছে। তৃনমূলময় পশ্চিমবঙ্গে 42 টি আসনের মধ্যে আঠারোটা আসনই নিজেদের দখলে রেখেছে বিজেপি।

তৃনমূল প্রভাবিত পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপি সেইভাবে নিজেদের প্রার্থীদের জয়লাভ করাতে না পারলেও তারা সেখানে ভালোই ভোট পেয়েছে। ভোটের পরেও বসে নেই গেরুয়া শিবির। আর নির্বাচনের পরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সহ বিভিন্ন ইস্যুতে ইতিমধ্যেই পথে নামতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি, রামনগরের মতো এলাকায় বিজেপির সংগঠন এখন বেশ জোরদার হলেও বন্দর এবং শিল্পশহর হলদিয়ায় এখন প্রকাশ্যে বিজেপির তেমনভাবে অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি হলদিয়া মহকুমার অন্তর্গত যে নন্দীগ্রাম রাজ্য রাজনীতির পরিবর্তনের আঁতুড়ঘর, সেখানেও বিজেপি ততটা শক্তিশালী নয়।

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এরপরও হলদিয়ার সংগঠনের রদবদলের ব্যাপারে তেমন আগ্রহী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যাচ্ছে না বিজেপি নেতৃত্বকে। যা নিয়েই এখন উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। তবে কি হলদিয়া নিয়ে উদাসীন তারা?

এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপির হলদিয়া নগর-১ মণ্ডল সভাপতি দুর্গাপদ দাস বলেন, ‘‘এলাকায় বিজেপির সংগঠন একেবারে নেই একথা ঠিক নয়। আসলে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে আসতে পারছে না। তবে এটা ঠিক আমাদের দলের সব কর্মসূচিই হয় তমলুক ও কাঁথিতে। সে ক্ষেত্রে হলদিয়া উপেক্ষিত।’’

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত 2011 সালের আগে বামফ্রন্টের শেষের দিকে এই হলদিয়াই ছিল তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। সেদিক থেকে বিজেপি এই হলদিয়ায় বেশ কিছু জায়গায় বন্দর এলাকায় সাফল্য লাভ করলেও সংগঠন তৈরিতে তাদের যেভাবে অনীহা দেখা দিচ্ছে, তাতে তা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

জানা গেছে, হলদিয়ার বিভিন্ন কলকারখানাতেও বিরোধী স্বর আশ্রয় নিতে চাইছে গেরুয়া ছাতার তলায়। কিন্তু বিজেপির অভিযোগ, সেখানে ভয়ের পরিবেশ এতটাই, যে কাজ হারানোর আতঙ্কে প্রকাশ্যে কেউ গেরুয়া সংগঠনে নাম লেখাতে পারছেন না। এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘‘হলদিয়ায় আমরা বেশ কয়েকটা অনুষ্ঠান করেছি। তবে সমস্যা হল ওখানে শুভেন্দু অধিকারী ভয়ঙ্কর অত্যাচার চালান। এই পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে কেউ বিরোধী সংগঠন করতে ভয় পান। ওখানে আমাদেরও ডাকাবুকো নেতার অভাব রয়েছে। তবে হলদিয়ায় পোক্ত সংগঠন গড়তে আমরা আগ্রহী।

অন্যদিকে এই ব্যাপারে হলদিয়ার সিপিএম বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বলেন, ‘‘একসময়ের শক্ত ঘাঁটি হলদিয়ায় এখনও বামেদের প্রভাব। বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে ‘গট-আপ গেম’ চলছে। তাই লোকসভায় তৃণমূল দেদার ছাপ্পা ভোট দিলেও বিজেপি প্রতিবাদ করেনি। ফলে, বিজেপির সংগঠন তৈরির প্রশ্নই ওঠে না।”

এদিকে হলদিয়ায় বিজেপির সংগঠন ঠিকমত তৈরি না হওয়ার পেছনে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র জেলা কার্যকরী সভাপতি শিবনাথ সরকার বলেন, ‘‘খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ তৃণমূলের পক্ষে আছে। তাই দাঁত ফোটাতে পারছে না বিজেপি।’’ তবে নানা মুনির নানা মতের মাঝেও সারা রাজ্যে বিজেপি প্রভাব বাড়ালেও কেন হলদিয়া তথা বন্দর এলাকায় তারা তৃণমূলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সংগঠনের বৃদ্ধি করতে পারছে না!

তাহলে কি এটা তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা, নাকি শুধুমাত্র তৃণমূলের ভয়েই তাদের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে না! যদি 2021 এর বিধানসভায় তাদেরকে ভালো ফল করতে হয়, তাহলে তো এই বন্দর এলাকাতেও তাদের প্রভাব বাড়াতে হবে! সেক্ষেত্রে কি হবে! কিভাবে এগোবে বিজেপি! এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!