এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নাগেরবাজার ভয়াবহ বিস্ফোরণের পিছনে কে? তৃণমূল-বিজেপির পারস্পরিক আঙুল তোলা শুরু

নাগেরবাজার ভয়াবহ বিস্ফোরণের পিছনে কে? তৃণমূল-বিজেপির পারস্পরিক আঙুল তোলা শুরু

মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিবসেই দমদমের নাগেরবাজার বিস্ফোরণ ফের আতঙ্কগ্রস্থ করে তুলল শহর কোলকাতাকে। আর তারপরই থেকেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের খেলায় মেতেছে শাসক বনাম বিরোধীরা। যেহেতু বিস্ফোরণটি হয় দক্ষিণ দমদম পৌরসভার চেয়ারম্যান পাঁচুরায়ের কার্যালয়ের পেছনে, তাই পাঁচু বাবুর বক্তব্য তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য প্ল্যান করে বিরোধীরা এই বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে। এরপর তৃণমূল সরাসরি এই বিস্ফোরণ কান্ডের জন্য আঙুল তোলে বিজেপির দিকে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি ও আরএসএসের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বিজেপিও এর জন্য তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই দায়ী করেছে। গর্জে উঠে বলেছে,তৃণমূল আসলে বোমার রাজনীতি করে। একইভাবে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রসেও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগে সরব রয়েছে।

বিষ্ফোরণটি ঘটেছে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে গিয়ে,এমনটাই মনে করার হচ্ছে প্রাথমিক তদন্তে। তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয় শাসকদল। তার এই ঘটনার নেপথ্যে গেরুয়া সন্ত্রাসের হাত রয়েছে বলেই মনে করছেন শাসকদলের হেভিওয়েটরা। কারণ বিস্ফোরণটি হয়েছে তৃণমূলের কার্যালয়ের কাছেই। জ্যোতিপ্রিয় বাবুর যুক্তি, তৃণমূল কর্মী পাঁচু বাবু জনপ্রিয় চেয়ারম্যান। তাকে খুন করতেই বিজেপি এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। অন্যদিকে,স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু মনে করছেন,এতো বড় বিষ্ফোরণ ঘটানোর সাহস এ রাজ্যে বাম-কংগ্রেসের নেই। কারণ সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তাঁরা পিছিয়ে আছে অনেকটাই। এটা পাকা হাতের কাজ। তাই এর জন্য তিনি বিজেপি এবং আরএসএসকেই দায়ী করলেন। কারণ এই মুহূর্তে বিজেপি অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বাংলায়। আর সন্ত্রাসমূলক রাজনীতি করায় তাঁদের জুড়ি নেই।

তৃণমূলের এই অভিযোগ শুনেই অসন্তোষে ফুঁসছে বিজেপি। কারণ রাজ্যে কোনো দুর্নীতমূলক,অগনতান্ত্রিক কর্মকান্ড হলেই তৃণমূল সোজা নিশানা করে বিজেপিকে। দিন কয়েক আগে ইসলামপুর ছাত্রহত্যাকান্ড তার প্রমান। খুন করল রাজ্যসরকারের পুলিশ আর তৃণমূল কাঠগড়ায় তুলল বিজেপি, আরএসএসকে! এতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে গেরুয়াশিবির। বিজেপি রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বললেন,তৃণমূলের ‘নকশাল’ রাই এই কাজটি করেছে আর দোষ দিচ্ছে বিজেপিকে। তৃণমূলের কার্যালয়ের পেছনে বিষ্ফোরণটি হওয়ায় শাসকদলের পক্ষে দায় এড়ানো সহজ। আর সেটাকেই ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে বিজেপির দিকে কাদা ছুঁড়ছে তৃণমূল। আর এখন দেখা যায়,রাজ্যে ঘটা সব বিষ্ফোরণ তৃণমূলের কার্যালয়ের আশেপাশেই ঘটে। আসলে তৃণমূলের পার্ট অফিসগুলোই এক একটা বোমা-বন্দুকের আখড়া। সেইজন্যেই এতো বিষ্ফোরণ! তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলকেই এর জন্য দায়ী করলেন বিজেপি রাজ্যসভাপতি। দাবী করলেন এনআইএ তদন্তের। অন্যদিকে একই সুরে কথা আক্রমণ শানাতে দেখা গেল প্রাক্তণ রাজ্য সভাপতি তথা বিজেপির হেভিওয়েট নেতা রাহুল সিনহাকে। রাজ্য বিজেপির মতো তিনিও এই ঘটনার জন্য তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলকেই দায়ী করলেন। আর গর্জে উঠে জানালেন,বিজেপি বোমার রাজনীতি করে না। আরএসএসের মুখপাত্র জিষ্ণু বসু বলেছেন,সঙ্ঘ সম্পর্কে এ ধরণের অভিযোগ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এরকম সন্ত্রাসমূলক কর্মকান্ডের পেছনে তাঁদের কোনো হাত নেই বলেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তবে উল্লেখ্য করার মতো বিষয় হল, তৃণমূল-বিজেপি যতোই কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে মত্ত থাকুক না কেন,নাগেরবাজার বিষ্ফোরণ কান্ড আরো একবার প্রশাসনের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বর্তমানে রাজ্যে আইন শৃঙ্খলার কত অধঃপতন হয়েছে! যার জেরে একটি নাবালক শিশুর প্রাণ দিতে হল। কংগ্রেসও বিজেপির মতো অভিযোগের আঙুল তুলল তৃণমূলের দিকে। রাজ্য বারুদের স্তুপে পরিনত হয়েছে- এমনটাই দাবী করলেন কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সোমেন মিত্র। পুলিশ প্রশাসন নিজেদের ডিউটি করে না,কেবল শাসকদলের পুতুল হয়ে রয়েছে। আর পুলিশের দোষ ঢাকতে শাসকরা আঙুল তোলে বিরোধীদের দিকে। একই বক্তব্য বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীরও। তিনি বলেন,রাজ্যে যত বিস্ফোরণ হচ্ছে সবকটার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল। তিনিও এর জন্য বিজেপির সুরে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলকেই দায়ী করলেন। একটার পর এক দুর্নীতিমূলক কর্মকান্ড রাজ্যের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে,এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!