এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > নদিয়ায় শাসকদলের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র কি রানাঘাটে স্থানান্তরিত? উঠছে প্রশ্ন

নদিয়ায় শাসকদলের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র কি রানাঘাটে স্থানান্তরিত? উঠছে প্রশ্ন

দক্ষিণ দিনাজপুরের পর এবার নদীয়া। একতরফাভাবে জেলার এক জায়গা থেকেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহ-সভাপতি ও কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শাসকদলের অন্দরে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সম্প্রতি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছে গঙ্গারামপুর মহাকুমার সদস্যরা। শোনা যাচ্ছে, কর্মাধ্যক্ষ পদেও নির্বাচিত হবেন সেই গঙ্গারামপুরেরই ব্যক্তিরা। যা নিয়ে সেই জেলারই বিধায়ক বাচ্চু হাঁসদা প্রকাশ্যে জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রের বিরুদ্ধে নাম না করে তোপ দেগেছেন। সদর শহর হওয়া সত্বেও বালুরঘাট থেকে কেন কোন জেলা পরিষদ সদস্যকে পদ দেওয়া হলো না তা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

আর এরই মাঝে এবার দক্ষিণবঙ্গের নদীয়া জেলাতেও উঠলো সেই একই অভিযোগ। সূত্রের খবর, নদীয়া জেলার রানাঘাট থেকে সিংহভাগ জেলা পরিষদ সদস্যকে পদ দেওয়া হলেও সেখানে বঞ্চিত হয়েছে সেই জেলারই কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্র।

জানা গেছে, এবারে নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহ-সভাধিপতি এবং চার কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন এই রানাঘাট থেকেই। সভাধিপতি হয়েছেন শান্তিপুরের ফুলিয়ার বাসিন্দা বিগত বোর্ডের বন এবং ভূমি কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা রিক্তা কুন্ডু।

অপরদিকে সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিগত বোর্ডের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ দায়িত্বে থাকা দীপক বসুকে। যার বাড়ি সেই রানাঘাটেরই পায়রাডাঙ্গায়। তবে শুধু সভাধিপতি বা সহ সভাধিপতিই নয়, এই রানাঘাট থেকেই নদীয়া জেলা পরিষদের 4 কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন করেছে শাসক দল।

জানা গেছে, রানাঘাটের ফুলিয়ার পম্পা মুখোপাধ্যায় ক্ষুদ্র শিল্প এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ, হাঁসখালির শশাঙ্কশেখর বিশ্বাস বন এবং ভূমি দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ, অপরদিকে এই রানাঘাটেরই হিজুলি এলাকার বাসিন্দা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি বানিকুমার রায়ের স্ত্রী রিনা রায় এবার শিক্ষা ও সংস্কৃতি দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ-সভাপতি ও কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনে এবার রাশ থাকলো সেই রানাঘাটের হাতেই। তুবে কল্যাণী মহকুমা থেকে চঞ্চল দেবনাথ এবং কৃষ্ণনগর মহকুমা থেকে তারান্নুম সুলতানা মীর, কার্তিক ঘোষ এবং মল্লিকা মুখোপাধ্যায়কে এই কর্মাধ্যক্ষ পদে বসানো হয়েছে।

অপরদিকে তেহট্ট মহুকুমা থেকে দিলীপ কুমার পোদ্দারকে দেওয়া হয়েছে জনসাস্থ ও পরিবেশ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ। কিন্তু বাকি মহকুমাতে যেখানে ছিটেফোঁটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঠিক সেখানেই সিংহভাগ পদ কেন গেল রানাঘাটে? যা নিয়ে শাসকদলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেই তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। যদিও বা দলে এই ব্যাপারে কোনো সমস্যাই নেই বলে জানাচ্ছেন শাসকদলের জেলা নেতৃত্ব।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিন এ প্রসঙ্গে নদীয়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি গৌরীশংকর দত্ত বলেন, “গত বোর্ডে যে চারজন কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন তাদের ফের কর্মাধক্ষ পদে বসানো হয়েছে। বাকি যারা হয়েছে তারা যোগ্য বলেই কর্মাধক্ষ পেয়েছেন। এসব নিয়ে দলে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।” তবে জেলা তৃণমূল সভাপতি যাই বলুন না কেন একতরফাভাবে রানাঘাট মহকুমা থেকেই কর্মাধ্যক্ষ, সভাধিপতি ও সহ-সভাপতি পদ নির্বাচিত হওয়ায় জেলার বাকি মহকুমায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চাপা অসন্তোষ।

Top
error: Content is protected !!