এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নবান্নে জারি বিজ্ঞপ্তি, প্রতিবাদের ঝড় বিরোধীদের

নবান্নে জারি বিজ্ঞপ্তি, প্রতিবাদের ঝড় বিরোধীদের

দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে আসছেন যে সিবিআইকে দিয়ে তাদের দল এবং সরকারকে ভয় দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সম্প্রতি অন্ধপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু সেই সিবিআইকে নিজেদের রাজ্যে ঢোকার ব্যাপারে তল্লাশি চালানোর জন্য আগে তাদের অনুমতি নিতে হবে বলে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিয়েছেন।

আর অন্ধ্রপ্রদেশের পথে হেঁটেই গতকাল নেতাজী ইন্ডোরে দলের কোর কমিটির বর্ধিত সভায় সেই চন্দ্রবাবু নাইডুর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কাজ করেছেন। আমিও আইনটি দেখে নেব। আগে এটার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু এখন বিজেপি পার্টি অফিস থেকেই সব নির্দেশ দেয়।” এদিকে “যেমন বলা তেমন কাজ”।

দলের সভা থেকে ফিরেই নবান্নে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বিগত বাম সরকারের আমলে সেই সাধারন অনুমতি তুলে দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য সরকার। যেখানে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয় যে, “রাজ্যের অনুমতি ছাড়া আর কোনোরূপ তদন্ত রাজ্যের সীমানায় ঢুকে চালাতে পারবে না সিবিআই।”

আর রাজ্যের তরফ থেকে এহেন বিজ্ঞপ্তি জারি হতে না হতেই এবার শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে ময়দানে নেমে পড়ল বিরোধীরা। এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “এই বিজ্ঞপ্তির নেপথ্যের উদ্দেশ্য থেকেই স্পষ্ট যে, নিজেদের পিঠ বাঁচাতেই এইসব করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রবাবু নাইডুরা।”

অন্যদিকে অতীতের কথা স্মরণ করে পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছেন বাম সাংসদ মহম্মদ সেলিমও। জি 24 ঘণ্টাকে ফোনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “নবান্ন এখন নিজেকে বাঁচাতে ব্যস্ত। রাজ্যের মানুষকে কি বাঁচাবে? যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পান থেকে চুন খসলেই সিবিআই চাইতেন, এখন তিনিই সিবিআই আটকাচ্ছেন! ইতিহাসের কী পরিহাস?”

মোদিকে ম্যানেজ করে নেতাদের জামিন পাইয়ে দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে বাম এবং বিজেপি এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করলেও তেমনভাবে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়াননি কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান।

এদিন সিবিআইকে ঠুটো জগন্নাথ করার অভিযোগে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আগে থেকেই অনুমতির সংস্থান এই আইনে আছে। এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সিবিআইকে ঠুটো জগন্নাথ করে রেখেছে মোদি সরকার। তারা সিবিআইয়ের নিরপেক্ষতাকে নষ্ট করে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজ্য চাইলে তাদের মতো করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেই পারে।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে সারা দেশে বিজেপি বিরোধিতায় তাদের পাশে থাকার জন্য আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে চটাতে চাইছে না কংগ্রেস। আর তাইতো এদিন রাজ্যে ঢোকার ব্যাপারে সিবিআইকে অনুমতি নিতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলেও সেই ব্যাপারে রাজ্যের শাসকদলের প্রতি নমনীয় হতেই দেখা গেল বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানকে। সব মিলিয়ে সিবিআইয়ের রাজ্যে ঢোকার ব্যাপারে অনুমতিপত্র নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরূদ্ধে কেউ নরম আবার কেউ বা গরম ভূমিকায় রইলেন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!