এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > বহুবিবাহ ও নিকাহ হালাল আটকাতে বড়সড় পদক্ষেপ, শুরু তীব্র জল্পনা

বহুবিবাহ ও নিকাহ হালাল আটকাতে বড়সড় পদক্ষেপ, শুরু তীব্র জল্পনা



তিন তালাকের পর কেন্দ্রের নজরে ছিল মুসলিম সমাজে প্রচলিত নিকা হালাল ও বহুবিবাহ প্রথা। এই দুটি প্রথাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে বেশ কিছু আবেদন জমা পড়েছিল এই বছরের শুরুতেই। সেই মামলায় শীর্ষ আদালতের কাছে বহুবিবাহ এবং নিকা হালাল প্রথাটি অবমাননাকর এবং নারীবিরোধী বলে আওয়াজ তুলেছেন অনেক নারী অধিকার কর্মী। জনস্বার্থ মামলায় তাঁরা এই দুই প্রথার অবসান চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত তাঁদের মামলাটি শুনতে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু এবার এই জনস্বার্থ মামলাটিকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজের একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

মুসলিম সমাজে বহু বিবাহ ও নিকাহ হালালার বিরুদ্ধে একটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে। এবার সেই মামলার বিরুদ্ধেই অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড তীব্র বিরোধিতা করেছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা খারিজ করার আবেদন জানিয়ে একটি হলফনামা জমা দিয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নারীবাদীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। কারণ তাঁদের মতে, বহু বিবাহ এবং নিকাহ হালালা দুটি ক্ষেত্রেই মেয়েদের অপমানিত হতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড যে হলফনামাটি জমা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টে, তাতে তাঁদের দাবি, বহুবিবাহ ও নিকাহ হালালা সহ আরো অনেক নিয়ম মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আছে। তা নিয়ে আদালত আগেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। অতএব নতুন করে জনস্বার্থ মামলাটির কোন প্রয়োজন পড়তে পারে না। অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায়ের না হওয়ায় এই ধর্মীয় নিয়মের বিরোধিতা করার অধিকার কারোওর নেই। এ প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড দাবি করেছে তাঁরা মুসলিম মহিলাদের সাথে সবসময় তাঁদের পাশে আছেন। বাইরের সম্প্রদায়ের লোকদের এ বিষয়ে না থাকাই কাম্য।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশাধিকার নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত ইতিবাচকপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছেন। মামলার রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদে মন্দির মসজিদে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে ইতিবাচক নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই মুহূর্তে তিন তালাক রদ করার পর কিংবা কাশ্মীর থেকে 370 ধারা তুলে নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার সারাদেশকে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টা করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার চেষ্টা চলছে।

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে বহুবিবাহ ও নিকাহ হালাল বিষয়ে আবেদনকারীদের পক্ষে দাঁড়াবে। প্রসঙ্গত, ভারতে বহুবিবাহ প্রথা আইনত নিষিদ্ধ হয়েছে বহুদিন আগেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও 1937 সালের মুসলিম পার্সোনাল ল অ্যাপ্লিকেশন আইন অনুযায়ী মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বহুবিবাহ প্রথা ব্যতিক্রম বলে বিবেচিত হয়। মুসলিম বিয়ে, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে এই আইন প্রয়োগ করা হয় বলে জানা গেছে। একইভাবে মুসলিম সমাজে চালু নিকাহ হালালা রীতিটিও এই আইনমতে সিদ্ধ বলে জানা গেছে। আপাতত সর্বোচ্চ আদালত কি সিদ্ধান্ত নেয় এ ব্যাপারে, সেদিকে তাকিয়ে মুসলিম নারীসমাজ।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!